বাগদত্তাকে দিতে চাওয়া একের পর এক অঙ্গুরীয় হেলায় ফেরত দিয়েছেন যুবতী। তবু হাল ছাড়েননি তাঁর প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া অদম্য প্রেমিক।

লিউক ও সারা।
শেষ আপডেট: 31 July 2025 15:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘তুমি আমায় বিয়ে করবে?’ ৭ বছর ধরে মোট ৪২ বার প্রেমিকাকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে গিয়েছেন এক যুবক। বাগদত্তাকে দিতে চাওয়া একের পর এক অঙ্গুরীয় হেলায় ফেরত দিয়েছেন যুবতী। তবু হাল ছাড়েননি তাঁর প্রেমে হাবুডুবু খাওয়া অদম্য প্রেমিক। প্রতিবারই বলেছেন, তোমার জন্য আমি অপেক্ষা করব। আমি তোমাকেই চাই। শেষে সেই প্রেমিকের নতজানু প্রস্তাবের সামনে প্রেমের ডাকে সাড়া দিলেন প্রণয়িনী। বাড়িয়ে দিলেন, বাম হাতের অনামিকা।
তাঁদের এই প্রেম ও বিয়ের একটি ছবি ও ক্যাপশনই এখন হু-হু করে ছুটে বেড়াচ্ছে তরুণ-তরুণীদের সদ্য অঙ্কুরিত হৃদয়ে। ৭ বছর ধরে ৪২টি প্রত্যাখ্যানের পর অবশেষে বান্ধবী গ্রহণ করলেন পুরুষবন্ধুর বিয়ের প্রস্তাব। ৩৮ বছরের সারা উইনট্রিপ অবশেষে ৪৩-তম প্রস্তাবে তাঁর ৩৬ বছরের প্রেমিক লিউক উইনট্রিপকে জবাব দিলেন, ইয়েস।

এসেক্সের চেমসফোর্ডের বাসিন্দা সারা। লিউকের প্রথম প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন ২০১৮ সালে। মাত্র ৬ মাসের পরিচয় ও মেলামেশার পরেই লিউক বিয়ের প্রস্তাব দেন সারাকে। তাঁদের একজনের তিন কন্যা থাকায় সারা ফের একটি দায়বদ্ধতার কাঁটাতারে জড়াতে চাইছিলেন না সেই সময়। অথচ, তাঁরা দুজনেই জানতেন তাঁদের ভালবাসা সাগরের মতোই গভীর।

একটি সংবাদমাধ্যমকে সারা সেদিনের কথা স্মরণ করে বলেন, আমি আশা করিনি ও এই কথা বলবে। তাও কোথায়! বিয়ে করার প্রস্তাব দিতে লিউক সারাকে নিয়ে গিয়েছিলেন ক্যারিবিয়ান দ্বীপরাষ্ট্র জামাইকায়। সেখানে সোনালি বালুকাবেলায় দুজনে মিলে ঘোড়ায় রোমান্টিক সফরের সময় প্রথম বিয়ের প্রস্তাব দেন লিউক। সারা বলেন, আমি তখনই ওকে ভালবাসতাম। কিন্তু আমার মনে হয়েছিল এখনই ইয়েস বলার সময় আসেনি। লিউক না শুনে বলেছিল, ওকে, ফাইন! আমি কিন্তু তোমার উত্তরের অপেক্ষায় প্রশ্ন করেই যাব।
ট্যাটু শিল্পী লিউক সারার প্রেমে একেবারে ডুবে ছিলেন। প্রতিবার নো শোনার পরেও তাঁর মনে সারাকে পাওয়ার ইচ্ছা প্রবলতর হয়েছিল। এই কয়েক বছরের মধ্যে তাঁদের একবারও সম্পর্কে চিড় ধরেনি। কখনও পরিত্যক্ত দুর্গে, তো কখনও বাজনদার ভাড়া করে, কখনও মোমের আলোর নৈশভোজে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে গিয়েছেন লিউক। এর মধ্যে স্বর্গীয় রোমান্স বা মহাকাব্যিক প্রস্তাবটি দিয়েছিলেন প্রাগে। সেখানে একটি পরিত্যক্ত দুর্গকে তিনি রূপকথার জগতে পরিণত করেছিলেন। যা সাজানো হয়েছিল, সারা প্রিয় চকোলেট, শ্যাম্পেন এবং রূপকথার পৃথিবীর আলো দিয়ে। তারপরেও সারার জবাব ছিল, নো।
লিউক বলেন, আমি জানতাম খুব তাড়াহুড়ো করছি আমি। কিন্তু আমি জানতাম আমার জীবনে একমাত্র মানুষ ওই। আমি প্রতিবার প্রমাণ করতে চেয়েছি, আমি ওকেই কতখানি চাই! আর আশায় ছিলাম, একদিন ওর মেয়েরাও আমার এই প্রেমের মানে বুঝবে। লিউকের বারবার প্রস্তাব টিকটকে প্রতিবার ভাইরাল হয়েছে। একটিতে দেখা গিয়েছে, রেস্তরাঁর মোমের আলোয় নৈশভোজে তার প্রস্তাব শুনে দুহাতে লজ্জায় মুখ ঢেকে সারা খিলখিল করে হাসছেন। কখনও রাস্তার উপর হাঁটু গেড়ে বসে সারার দিকে আংটি বাড়িয়ে লিউক বলেছেন, উইল ইউ ম্যারি মি!
সারা শেষে প্রেমিকের বিয়ের প্রস্তাবে রাজি হন ২০২৩ সালে। অবশেষে জবাব এল, ইয়েস। সেটা কোথায়, কীভাবে! সেটাও এক মহাকাব্যিক রোমান্সের বাস্তব দৃশ্যপট। লন্ডনের গ্রিনউইচে। যে জায়গা থেকে গ্রিনউইচ মিন টাইম জোন ধরা হয়, সেই ঘড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ভাড়ায় নেওয়া বাজনদাররা সারার প্রিয় গানগুলির সুর বাজাচ্ছিলেন। সারা বলেন, ও যখন বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল, তখন বলেছিল, এটা হল পৃথিবীর মধ্যস্থল। আর তুমি হলে আমার পৃথিবীর কেন্দ্রস্থল। আর আমি তোমায় বিয়ে করতে চাই। সারা বলেন, আমি আর পারিনি, ও আমার মন পুরোপুরি জিতে নিয়েছিল। আমি বলে দিই, ইয়েস আই ডু।

যুগলে শেষমেশ বিয়েটাও সেরে ফেলেন ২০২৫ সালের ১৭ মে। পোস্টে লেখেন, ৪৩ বার প্রস্তাব। এবার আমরা দুসপ্তাহের মধ্যে বিয়ে করতে চলেছি। যে অপরাজিত প্রেম-কাহিনির শেষপাতায় মিলনের দৃশ্য বিয়ে নাড়া দিয়ে গিয়েছে বিশ্বের প্রেমিক যুগলদের।