নতুন ইন্টার্ন এক গ্রাহকের অনুরোধ মেটাতে রাত ১২টার পরও অফিসে ছিল। রাত ৯টায় তার কাছে কাজটি আসে, কিন্তু সেটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ফেরার নামও করেনি সে।' সেই ইন্টার্নের একটি ছবি দিয়ে তিনি আরও লেখেন, 'Be like our new intern refusing to leave past midnight… 9-9-6 is actually 9-12-6 for this guy।'
.jpg.webp)
প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 16 November 2025 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাত জেগে কাজ করার জন্য ইন্টার্নের প্রশংসা (Intern late night work), সেই পোস্ট সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করেছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা প্রবাসী ভারতীয় মহিলা। কিছুক্ষণের মধ্যেই সেটি ভাইরাল হয়ে যায়, নেটিজেনদের একাংশ তীব্র সমালোচনা করে। তাঁদের মতে, এই প্রশংসার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক বিষাক্ত ও অমানবিক কাজের সংস্কৃতির স্বীকৃতি (NRI woman controversy)। এই নিয়েই শুরু হয়েছে বিতর্ক।
Entelligence.AI নামে এক সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা ঐশ্বর্য শঙ্কর তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্ট করেন। সেখানে লেখেন, 'তাঁর নতুন ইন্টার্ন এক গ্রাহকের অনুরোধ মেটাতে রাত ১২টার পরও অফিসে ছিল। রাত ৯টায় তার কাছে কাজটি আসে, কিন্তু সেটি শেষ না হওয়া পর্যন্ত বাড়ি ফেরার নামও করেনি সে।' সেই ইন্টার্নের একটি ছবি দিয়ে তিনি আরও লেখেন, 'Be like our new intern refusing to leave past midnight… 9-9-6 is actually 9-12-6 for this guy।' অর্থাৎ আমাদের নতুন ইন্টার্নের থেকে শেখা উচিত, ৯-৯-৬ ওর কাছে আসলে ৯-১২-৬ ।
Be like our new intern Anindhya refusing to leave past midnight to finish testing a customer ask that got dumped on him at 9 pm today
9-9-6 is actually 9-12-6 for this guy pic.twitter.com/dLiXGn0WWm— Aiswarya Sankar (@Aiswarya_Sankar) November 14, 2025
কিন্তু এই পোস্ট করার পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক অভিযোগ আসে। নেটিজেনদের দাবি, একজন ইন্টার্নের উপর এমন চাপ দেওয়া একেবারেই অনুচিত, আর তাতে উৎসাহ জোগানো আরও ভুল। অনেকেই প্রশ্ন তোলেন, রাতভর কাজের জন্য ইন্টার্ন কোনও অতিরিক্ত পারিশ্রমিক পান কি না (overwork criticism)। কেউ কেউ জানান, এভাবে কাজ করানোর সংস্কৃতিই কর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে ক্ষতিকর।
একজন লেখেন, "আশা করি তাঁর অতিরিক্ত কাজের জন্য পারিশ্রমিক দেওয়া হয়েছে। ইন্টার্ন মানেই সে বিনা বেতনের নয়।” আরেকজনের মন্তব্য, “এভাবে জীবন কাটানো যায় না। একটু তো নিজের জন্যও সময় রাখা উচিত।”
কেউ কেউ মনে করিয়ে দেন, রাতভর এভাবে কাজ করে শেষ পর্যন্ত কোনও লাভই হবে না। কারণ কোম্পানি যদি একদিন ‘রিস্ট্রাকচারিং’-এর কথা বলে ছাঁটাই করে দেয়, তাহলে আগের সব পরিশ্রমই ব্যর্থ হয়ে যাবে। আরেকজন লিখেছেন, এমন আচরণ দেখেই অনেক সময় ম্যানেজাররা অন্য কর্মীদের কাছেও একই ধরনের অযৌক্তিক পরিশ্রম আশা করতে শুরু করেন, যা পুরো দলের উপরই বাড়তি চাপ তৈরি করে।
তবে সমালোচনার জবাবে ঐশ্বর্য দাবি করেন, ইন্টার্নকে তিনি নিজেই বাড়ি যেতে বলেছিলেন, কিন্তু ইন্টার্ন নিজের ‘ওয়ার্ক এথিক’-এর কারণে কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত থাকতে চেয়েছিলেন।
তবে, এই ঘটনা আবারও সামনে এনেছে সেই পুরনো প্রশ্ন, অফিস টাইমের পরও কাজ করার কি সত্যিই ‘ডেডিকেশন’, নাকি এক অসুস্থ কর্মসংস্কৃতি? দ্রুত পরিবর্তনশীল কর্পোরেট দুনিয়ায় এ বিতর্ক আরও জোরাল হচ্ছে।