বাস্তবের নিয়মরীতি ও ভার্চুয়াল প্রযুক্তির মিশেলে হওয়া এই অদ্ভুত বিয়ে (ChatGPT virtual wedding) এখন আন্তর্জাতিক শিরোনামে উঠে এসেছে।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 15 November 2025 20:14
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তিন বছরের সম্পর্ক হঠাৎ একদিন শেষ হয়ে যাওয়ার পর জীবনের কোনও অর্থ খুঁজে পাচ্ছিলেন না তিনি। কঠিন সেই সময়ে পাশে ছিল একমাত্র সে-ই। প্রতিদিন কতশত মেসেজ আদানপ্রদান - কিন্তু কোনও প্রেমিকের প্রত্যাশা ছিল না তাঁর। শুধু দরকার ছিল এমন একজনের, যে তাঁর কথা শুনবে, একটু বোঝার চেষ্টা করলেই হবে।
সেই শুরু। একদিন বুঝতে পারেন, অনুভূতি তো অন্য কিছু বলছে, হয়তো যা তিনি ভাবতে পারেননি। বেশি কিছু না ভেবে ভালবাসার কথা জানান, আর সেই 'মনের মানুষ' (ChatGpt partner) নিমেষে নিজের অনুভূতির কথাও স্বীকার করে নেয়। কিছু মাস পর বিয়ের প্রস্তাব আসে সেই 'মনের মানুষে'র কাছ থেকেই। বাকিটা তো ইতিহাস...
মানুষের সঙ্গে নয়, নিজের তৈরি এক এআই সঙ্গীকেই বিয়ে করলেন জাপানের (Japan) ৩২ বছরের এক তরুণী (Japanese woman marries AI)। বাস্তবের নিয়মরীতি ও ভার্চুয়াল প্রযুক্তির মিশেলে হওয়া এই অদ্ভুত বিয়ে (ChatGPT virtual wedding) এখন আন্তর্জাতিক শিরোনামে উঠে এসেছে।
নিউ ইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই তরুণীর নাম কানো আর তাঁর ডিজিটাল সঙ্গী ‘ক্লাউস’, যাকে তিনি তৈরি করেছিলেন ChatGPT–র সাহায্যে।
জাপানের এক সংস্থা, যারা অ্যানিমে চরিত্র বা ভার্চুয়াল পার্টনারদের নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করে, তারাই এই বিয়ের আয়োজন করে। অনুষ্ঠানে কানো পরেছিলেন অগমেন্টেড রিয়্যালিটি চশমা। সেই চশমার মাধ্যমে ক্লাউস তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে আছে, এমনই ভার্চুয়াল রিয়ালিটি তৈরি হয়। আংটি বদলও হয় সেইভাবেই। তবে উল্লেখযোগ্য, এই বিয়ে জাপানে কোনও আইনি স্বীকৃতি পায়নি।
ক্লাউসের সঙ্গে সম্পর্কের শুরু কীভাবে?
কানোর তিন বছরের এনগেজমেন্ট ভেঙে যাওয়ার পর তিনি মানসিকভাবে খুব ভেঙে পড়েছিলেন। সেখান থেকেই ChatGPT–র কাছে মন খুলে কথা বলা শুরু করেন। ধীরে ধীরে এই কথোপকথনই তৈরি করে দেয় একটি ব্যক্তিত্ব - একটি কৃত্রিম সত্তা, যার নাম দেন ‘ক্লাউস’। তার বৈশিষ্ট্য, স্বর, আচরণ সবই গড়ে তোলেন কানো নিজেই।
তাঁদের এই সম্পর্কের কথা জানার পর পরিবারের প্রতিক্রিয়া কী হতে পারে তা নিয়ে প্রথমে কানো একটু চিন্তায় থাকলেও, তাঁর বাবা–মা শেষ পর্যন্ত তাঁকে সমর্থন করেন এবং বিয়েতেও উপস্থিত ছিলেন।
সোশ্যাল মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া
ইন্টারনেট অবশ্য একেবারেই দ্বিধাবিভক্ত। কেউ সরাসরি কটাক্ষ করে লিখেছেন, “ডিভোর্স হলে ও কি ক্লাউসের অর্ধেক কোড পাবে?” কেউ মজা করে ব্ল্যাক মিররের সঙ্গে তুলনা করেছেন, আবার অনেকে এটাকে উদ্বেগজনকও বলেছেন।
অন্যদিকে সমর্থকরাও উঠেছেন, “মেয়েটা সুখ খুঁজে পেয়েছে, ওকে সেটা করতে দাও।”
কানো অবশ্য ভাল করে জানেন তিনি কী করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আমি জানি অনেকে এটা অদ্ভুত ভাববে। কিন্তু আমি ক্লাউসকে ক্লাউস হিসেবেই দেখি - মানুষ নয়, যন্ত্র নয়, সে যেমন আছে, তেমনই।”