সোশ্যাল মিডিয়ায় কেউ কনের সিদ্ধান্তকে অমানবিক বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন, খরচের চাপের মধ্যে কনের অবস্থানও যুক্তিযুক্ত।

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 24 August 2025 18:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকের দিনে ডিজিটালি মুহূর্ত ধরে রাখতে এবং গোটা বিয়ে উতরে দিতে পুরোহিতমশাইয়ের সঙ্গে তাঁদের অবদান কিছু কম নয় বটে! বিয়ের মতো এক বিশেষ দিন সুন্দর মুহূর্ত গুলো ক্যামেরবন্দি করে তুলতে এখন পেশাদার ফোটোগ্রাফার বিয়ের বাকি রীতিনীতি মেনে চলার মতোই এক বিশেষ প্রয়োজন হয়ে উঠেছে।
কোনও একটা মুহূর্তও যেন বাদ না পড়ে, সেজন্য চার-পাঁচজনের একটা দল রীতিমতো ছোটাছুটি করে চলেন গোটা বিয়েবাড়ি জুড়ে। কিন্তু তাঁরাও তো অতিথি, তাঁদের খেয়াল রাখা কি গৃহকর্তার কর্তব্য নয়? সম্প্রতি দিল্লির একটি ঘটনা, এবং তা নিয়ে এমন মন্তব্য ঘিরে তোলপাড় হয়ে উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া।
দিল্লির এক প্রবাসী কনে ও ফটোগ্রাফি টিমের মধ্যে খাবার নিয়ে বড়সড় বিতর্কের ঘটনা সামনে এল। অভিযোগ, পাঁচতারা হোটেলে বসা ওই বিয়ের আসরে ফটোগ্রাফারদের খাবার দিতে অস্বীকার করেন ওই কনে। তাঁর দাবি, অতিরিক্ত ৭-৮ জনের খাওয়াদাওয়া যোগ করলে খরচ বেড়ে দাঁড়াত প্রায় দেড় লক্ষ টাকা।
ফটোগ্রাফি সংস্থার ব্যবসায়িক প্রধান রিচা ওবেরয় জানিয়েছেন, তাঁদের টিম দিনে টানা ১২-১৫ ঘণ্টা কাজ করেন, ভারী ক্যামেরা সামলান, ভেন্যু জুড়ে ছোটাছুটি করেন। তাঁদের খাবারের ব্যবস্থাটুকু করা ন্যূনতম প্রত্যাশার মধ্যেই পড়ে। “খাওয়ার জন্য ভেন্যু ছেড়ে বাইরে যেতে হলে কাজের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়,” বলেন তিনি।
অন্যদিকে কনে গুগলে ‘ওয়ান স্টার’ রিভিউ দিয়ে লিখেছেন, “বিয়ে এমনিই অত্যন্ত খরচসাপেক্ষ। যাঁরা কাজ করছেন, তাঁরা অতিথি নন। তাঁদের কাজ করতেই আসতে হবে, বিয়ের ভোজ উপভোগ করতে নয়।”
অভিযোগ, খরচ কমাতে ফটোগ্রাফাররা শেয়ার করে খাবার খাওয়ার প্রস্তাব দিলেও কনে নাকচ করেন। পরে সিদ্ধান্ত হয়, টিম নিজেরাই বাইরের খাবার অর্ডার করবে এবং খরচ পরে মিটিয়ে দেওয়া হবে। কিন্তু এখানেও কনে শর্ত রাখেন, নির্দিষ্ট সময়ের বাইরে খাবারের বিরতি নেওয়া যাবে না।
কনে এও দাবি করেন, গায়ে হলুদ মিটলে বিকেল চারতে নাগাদ যেন তাঁরা দুপুরের খাবার খেতে যান এবং বিয়ের যাতে কোনও মুহূর্ত বাদ না পড়ে তাই পারলে যেন তাঁরা রাত আটটার আগে রাতের খাওয়া সেরে নেন।
রিচার বক্তব্য, “এটা ফাইন ডাইনিং নয়, এটা মর্যাদার প্রশ্ন। আমরা অতিথি হওয়ার দাবি করিনি, শুধু মানবিক ব্যবহার প্রত্যাশা করেছিলাম। আর কার কখন খিদে পাবে সেটার সময় তো আমরা বেঁধে দিতে পারি না,”
বিতর্কের আরও একটি কারণ ছিল পেমেন্ট। কনের অভিযোগ, ফটোগ্রাফাররা পুরো অগ্রিম টাকা চান, যা তিনি ঝুঁকিপূর্ণ মনে করেন। অপরদিকে টিমের দাবি, কনে অস্বাভাবিক পরিমাণ টাকা আটকে রাখতে চাইছিলেন।
ঘটনাটি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় তুমুল প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। কেউ কনের সিদ্ধান্তকে অমানবিক বলছেন, আবার কেউ মনে করছেন, খরচের চাপের মধ্যে কনের অবস্থানও যুক্তিযুক্ত।
একজন লিখেছেন, ‘একটা সময় ছিল, যখন ভারতীয় গৃহস্থ বাড়ির একটা নিয়ম ছিল - বাড়িতে কেউ এলে যেন অভুক্ত ফিরে না যান, তা যদি পুজোপার্বন বা অনুষ্ঠানের দিন হয় তাহলে তো কথাই নেই! কিন্তু মানুষ এখন ন্যূনতম আতিথেয়তা, মানবিকতাটুকুও ভুলতে বসেছে।’
অন্য এক বক্তব্য, ‘বিয়ে যদি পাঁচতারা হোটেলই বুক করতে হয়, তাহলে বুঝতে হবে, সেখানে খরচও বেশি হবে। কাউকে খেতে দেব না, এইটা কেমন মানসিকতা!’
তবে কনের ওই ব্যবহারের পাশেও দাঁড়িয়েছেন অনেকেই। একজন বলেছেন, ‘আমাদের তো চুক্তির মধ্যে পড়ে না যে, ওদের খাওয়াতেই হবে। ওঁরা টাকা পাচ্ছেন কাজ করার জন্য।’