মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হয় ‘কাচরা কারেন্সি’। তা ব্যবহার করে ক্যাফে থেকে স্ন্যাক্স কিংবা আর্ট, ক্রাফট কেনা যায়।

গ্রাফিক্স - দিব্যেন্দু দাস
শেষ আপডেট: 23 August 2025 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাড়ির নানা ফেলনা জিনিসপত্র বিক্রি করে কিছু টাকা হোক বা বালতি-বাসন কিনতেন এতদিন গৃহিণীরা। এই ছবি কার অচেনা নয়। তাতে বাড়ি থেকে ‘জঞ্জাল’ জিনিসপত্র বিদেয় হওয়ার পাশাপাশি নতুন কিছু জিনিস বা নিদেনপক্ষে কিছু টাকা আসত বাড়িতে।
খানিকটা যেন সেই পদ্ধতিতেই এগিয়ে আর অনেকটা বেশি সাজিয়ে গুছিয়ে সকলের সামনে নিয়ে এল ভোপাল মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন। তাদের এই অভিনব পদক্ষেপ শহরবাসীর পাশাপাশি নজর কেড়েছে সোশ্যাল মিডিয়াতেও। শহরের ১০ নম্বর বাজারের কাছে চালু হয়েছে ‘কাচরা ক্যাফে’, যেখানে মানুষ বাড়ির ফেলনা জিনিস যেমন খবরের কাগজ, কার্ডবোর্ড, প্লাস্টিক, পুরনো চার্জার থেকে শুরু করে ফ্রিজ - নানা রকম জিনিস জমা দিয়ে পাচ্ছেন খাবারদাবার, বিশেষ আর্টওয়ার্ক বা শিল্পকর্ম।
ক্যাফের এক কর্মীর কথায়, “এটি ভারতের প্রথম ‘কাচরা ক্যাফে’। মূল উদ্দেশ্য হল বর্জ্য ব্যবস্থাপনা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং বোঝানো যে, সঠিকভাবে বর্জ্য আলাদা করলে সেটাই নতুন সৃষ্টির উৎস হতে পারে।”
কীভাবে কাজ করে ‘কাচরা ক্যাফে’?
বাসিন্দারা ক্যাফেতে এসে প্লাস্টিক, ই-ওয়েস্ট, পুরনো পোশাক, খবরের কাগজ, দুধের প্যাকেট, কার্ডবোর্ডসহ নানা ধরনের আবর্জনা জমা দিতে পারেন। জমা দেওয়ার পর সেগুলি ওজন করা হয়।
এরপর সেই ওজন অনুযায়ী গ্রাহকের মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে পাঠানো হয় ‘কাচরা কারেন্সি’। এই কারেন্সি ব্যবহার করে ক্যাফে থেকে স্ন্যাক্স কিংবা আর্ট ও ক্রাফট কেনা যায়।
কর্মীদের মতে, “যে বর্জ্য পুনর্ব্যবহারযোগ্য নয়, সেটিও সঠিকভাবে ধ্বংস করার মাধ্যমে পরিবেশের ক্ষতি রোধ করা সম্ভব।”
এই উদ্যোগ স্থানীয়দের মধ্যে বেশ সাড়া ফেলেছে। অনেকেই বলছেন, শিশুদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে ‘কাচরা ক্যাফে’ একদম সঠিক দিশা দেখাচ্ছে।