এক-দুলাইন নির্ভুল ও বিশুদ্ধ আধুনিক ইংরেজিতে হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ পাঠিয়ে কী কারণে আসতে পারছেন না, তা মালকিনকে জানিয়ে দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরা বেঙ্গালুরুর এক মহিলার সেই মেসেজগুলিই এখন ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।

এই লেখার সঙ্গে তিনি দু-তিনটি মেসেজের স্ক্রিনশটও তুলে দিয়েছেন।
শেষ আপডেট: 23 August 2025 16:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ কাজের লোক আসবে না। সাতসকালে গিন্নির এই চিৎকারই কর্তার গোটা দিনের পূর্বাভাস দিয়ে দেয়। অফিস যাওয়ার আগে সহধর্মিণীরা এখন সহমরণের দৃষ্টান্ত দিয়ে সংসার ধর্ম পালন করে তবে বেরনোর অনুমতি দিয়ে থাকেন। ইদানীং, গৃহপরিচারিকারা অফিসের রীতিনীতি মেনে মাসে চারদিন ছুটি নিয়ে থাকেন। সমস্যা সেখানেও নয়, সংকট আসে তখন, যখন তাঁরা বিনা নোটিসে ‘সিক লিভ’ নিয়ে থাকেন। ফোন করলেও সাড়া মেলে না। কিন্তু, এবার এমন একজনকে পাওয়া গেল, যিনি না আসার কথা জানান হোয়াটসঅ্যাপে। চোখ ছানাবড়া হয়ে যাবে জানলে, তিনি এক-দুলাইন নির্ভুল ও বিশুদ্ধ আধুনিক ইংরেজিতে হোয়াটস অ্যাপ মেসেজ পাঠিয়ে কী কারণে আসতে পারছেন না, তা মালকিনকে জানিয়ে দেন। সোশ্যাল মিডিয়ায় তুলে ধরা বেঙ্গালুরুর এক মহিলার সেই মেসেজগুলিই এখন ভাইরাল হয়ে গিয়েছে।
এই ঘটনাকে মহিলা বেঙ্গালুরুর ‘পিক’ সেরা সময় বলে ব্যাখ্যা করেছেন। গৃহপরিচারিকার পাঠানো মেসেজের স্ক্রিনশট নিয়ে মহিলা লিঙ্কডিনে পোস্ট করেছেন। যেখানে কাজের মহিলাকে অত্যন্ত সুশীল অথচ কর্পোরেট ধাঁচের ইংরেজি মেসেজে কথোপকথন করতে দেখা গিয়েছে। বাড়ির মালকিন লিখেছেন, এটাই বোধহয় বেঙ্গালুরুর সেরা সময়। আমার বাড়ির পরিচারিকা সিক লিভ নিয়েছেন অত্যন্ত প্রফেশনাল ধাঁচে। আমি যাঁদের সঙ্গে কাজ করি, তাঁদের অর্ধেকের বেশি এরকম সুমার্জিত, ললিত ইংরেজিতে ছুটির আবেদন করতে পারেন না। উনি আমাকে সিক লিভ নেওয়ার বিস্তারিত কারণ জানিয়ে ইংরেজিতে মেসেজ পাঠান। এই লেখার সঙ্গে তিনি দু-তিনটি মেসেজের স্ক্রিনশটও তুলে দিয়েছেন। যা দেখে তাজ্জব হয়ে গিয়েছে নেট পাড়া।
একটি মেসেজে লেখা হয়েছে, I am not well I have cold and throat infection so I will be not coming to work today (আমার শরীর ভাল নেই ঠান্ডা লেগেছে গলায় সংক্রমণ হয়েছে তাই আমি আজ কাজে যেতে পারছি না)। আরেকটি মেসেজে লেখা, I won't be able to come today cuz I'm not well so (আমি আজ আসতে পারছি না কারণ আমার শরীর ঠিক নেই)। শেষ একটি মেসেজ যা স্ক্রিনশটে দেখা যাচ্ছে তাতে লেখা, I won't be able to come today because I have got hurt in leg and it's swollen and I'm not able to walk (আজ আমার যাওয়ার মতো অবস্থা নেই কারণ আমার পায়ে চোট লেগেছে যেখানে ফুলে গিয়েছে ব্যথা রয়েছে হাঁটার মতো অবস্থা নেই)।
এর কোনওটিই ওই পরিচারিকার লেখা নয়। এর কৃতিত্ব প্রাপ্য তাঁর ১০ বছরের মেয়ে। যে মায়ের মোবাইলে এই মেসেজগুলি লিখে পাঠায়। পোস্ট করা মহিলা ছোট্ট মেয়েটির প্রফেশনালিজমকে প্রশংসা করে এই প্রচেষ্টাকে ১০০-র মধ্যে ১০০ দিয়েছেন। এই পোস্ট ভাইরাল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই নানান মন্তব্য বেরিয়ে এসেছে। অধিকাংশই পরিচারিকা ও তাঁর মেয়ের প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন।
দিল্লির এক মহিলার জবাব, আমাদের এখানে তো কোনও খবরই দেয় না। আচমকা উধাও। আর আমরা তাকে ফোন করে করে মরি। কাজের লোক বলেকয়ে ছুটি নিয়েছে তা খুবই কম ঘটে। আরেকজন লিখেছেন, পরবর্তী প্রজন্মের কপি রাইটার তৈরির কাজ চলছে। গুরুগ্রামের একজন লিখেছেন, আমরা অপেক্ষা করে বসে থাকি, ১০ বার ফোন করেও সাড়া মেলে না।
সম্প্রতি এরকমই একটি পোস্টে জানা যায়, এক সংস্থার মালিক জানিয়েছিলেন জেন জি যুগের ছেলেমেয়েরা কীভাবে অফিস ছুটি করে। অনেকে আছে, যারা আজ কাজের মুড নেই, ঘুরে আসছি বলেও লিখে পাঠায়। সঙ্গে হোটেল-যানবাহনের টিকিটের ছবি দিয়ে দেয়। একজন তো বসকে লিখেছিলেন, ২৮-৩০ তারিখ আসছি না, আমাকে চোখে হারাবেন না প্লিজ (pls don't miss me)।