খাওয়াদাওয়ার শেষে জলের গ্লাসে ঢোঁক দিতে গিয়ে চোখে পড়ে বিশুদ্ধ জলের বোতলের দাম ১০০ টাকা। যে বোতলটি রেস্তরাঁর পাশে পানের দোকানেই মাত্র ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে।

ব্যাপক ক্ষোভপ্রকাশ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট।
শেষ আপডেট: 23 August 2025 11:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রেস্তরাঁয় ঢুকলেই যে কোনও খাবারের আকাশছোঁয়া দাম। মেনু কার্ডের দিকে তাকালেই চোখ কপালে ওঠার জোগাড় হয়। ঠান্ডাঘর, আরামের চেয়ার, সাজানো-গোছানো পরিবেশ, হালকা আলোয় সিনেমার নায়ক-নায়িকার মতো মনে হয় নিজেদের। সঙ্গে গোটা কয়েক লোকেশন দেওয়া সেলফি। খাওয়াদাওয়ার শেষে জলের গ্লাসে ঢোঁক দিতে গিয়ে চোখে পড়ে বিশুদ্ধ জলের বোতলের দাম ১০০ টাকা। যে বোতলটি রেস্তরাঁর পাশে পানের দোকানেই মাত্র ২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। আর তা নিয়েই ব্যাপক ক্ষোভপ্রকাশ করেছে দিল্লি হাইকোর্ট। শুধু ক্ষোভপ্রকাশ করেই ছেড়ে দেয়নি ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার কাছে কড়া প্রশ্ন তুলেছে।
দিল্লি হাইকোর্ট শুক্রবার রেস্তরাঁ মালিক সংগঠন ন্যাশনাল রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার (NRAI) কাছে জানতে চেয়েছে, কীভাবে হোটেল ও রেস্তরাঁগুলি গ্রাহকদের কাছ থেকে MRP-র থেকে বেশি দাম নিতে পারে। এমআরপি বা সর্বোচ্চ খুচরো দাম প্রতিটি প্যাকেট করা খাবারে বড় বড় অক্ষরে লিখে রাখার কথা। যদিও অধিকাংশ প্যাকেটে তা এত ছোট করে গোপন জায়গায় লেখা থাকে যে, তা বয়স্কদের খুঁজে পেতে অত্যন্ত সমস্যা হয়। তা সত্ত্বেও সর্বোচ্চ খুচরো দাম লেখা থাকলেও কীভাবে তা চড়া দামে বিক্রি করা হয়, তা সংগঠনের কাছে জানতে চেয়েছে উচ্চ আদালত।
দিল্লি হাইকোর্ট এও জানতে চেয়েছে, এই দাম হোটেলের পরিষেবা করের আওতায় আনা হয় না। কেন, এটাকে আলাদা করে দাম হিসেবে ধরা হয়ে থাকে? দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ডিকে উপাধ্যায় ও বিচারপতি তুষার রাও গেডেলার ডিভিশন বেঞ্চ একটি একক বেঞ্চের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে করা মামলার শুনানি শুনছিলেন। একক বেঞ্চ এর আগে নির্দেশ দিয়েছিল যে, কোনও হোটেল বা রেস্তরাঁ গ্রাহকের কাছ থেকে জোর করে পরিষেবা কর বা টিপস নিতে পারবে না। পরিষেবা কর ও টিপস বাধ্যতামূলক নয়, সেটা পুরোপুরি গ্রাহকের ইচ্ছানুযায়ী নেওয়া যাবে। তাকে আবশ্যিক বা বাধ্যতামূলক করা যায় না। এই নির্দেশকেই চ্যালেঞ্জ জানিয়ে হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চে যায় এনআরএআই এবং ফেডারেশন অফ হোটেলস অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়া (FHRAI)।
এ প্রসঙ্গে অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল চেতন শর্মা কেন্দ্রের তরফে জানান, একক বেঞ্চের নির্দেশ অমান্য করে কিছু রেস্তরাঁ এখনও গ্রাহকদের কাছ থেকে পরিষেবা কর আদায় করছে। এটাকে তাদের নিজস্ব ক্ষমতা বলে তা চালিয়ে যাচ্ছে। রেস্তরাঁ মালিকদের তরফের কৌঁসুলি বলেন, সেন্ট্রাল কনজিউমার প্রটেকশন অথরিটির দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা নেই। পরিষেবা কর নেওয়া হয় এই কারণে যে, হোটেল বা রেস্তরাঁ গ্রাহককে যে যে সুবিধা দিচ্ছে তার মূল্য বাবদ।
বিচারপতির প্রশ্নের জবাবে রেস্তরাঁ সংগঠনগুলির মালিকদের আইনজীবী আরও বলেন, এটা ঠিক যে, পরিষেবা কর নিয়ে কোনও আইন নেই। এটা সম্পূর্ণ কর্তৃপক্ষ ও গ্রাহকদের নিজস্ব ব্যাপার। আমরা হোটেল খুলে রেখেছি। মেনু কার্ড টেবিলে রয়েছে। এখন গ্রাহক বাছাই করবেন, তিনি খাবেন কি খাবেন না। যদি তাঁর মনে হয় পয়সায় কুলোচ্ছে না, তিনি অন্য রেস্তরাঁতে যেতেই পারেন।
তখন প্রধান বিচারপতি জানতে চান, তাহলে ২০ টাকার একটি জলের বোতলের দাম কী করে ১০০ টাকা হতে পারে? প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, ধরুন আপনি কাউকে এক বোতল জল দিলেন। ফলে আপনি তাঁকে পরিষেবা দিয়েছেন, জায়গা দিয়েছেন, বসতে দিয়েছেন এবং জলের বোতল এগিয়ে দিয়েছেন। আর এ কারণে আপনারা পরিষেবা কর নিচ্ছেন। কিন্তু কী করে যে জিনিসের দাম সরকার নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতিতে করা রয়েছে, তার থেকে বেশি নিতে পারেন! কোন ক্ষমতায় আপনারা সরকার নির্ধারিত এমআরপির থেকে বেশি দাম নিতে পারেন?
আপনার কথা মতো, ২০ টাকার একটি বোতলের জন্য আপনারা পরিবেশ ও জায়গা দেওয়ার জন্য ৮০ টাকা বেশি কীভাবে নিতে পারেন? এমনকী আপনারা যদি পরিষেবা কর নিয়েই থাকেন তাহলে এই অতিরিক্ত ৮০ টাকা কী কারণে নেওয়া হয়? গ্রাহককে যখন বিল মেটাতে হয়, তখন দেখা যায় জলের বোতলের জন্য ১০০ টাকা প্লাস তার সঙ্গে ১০ শতাংশ পরিষেবা কর দিতে হচ্ছে। এমআরপির থেকে বেশি দামে যখন কিছু বিক্রি করা যায় না, তখন কী করে অতিরিক্ত ৮০ টাকা নিচ্ছেন আপনারা? আদালত জানায়, এই বিষয়টি চূড়ান্ত ফয়সালা করা হবে এবং এর কোনও অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে না। আগামী ২২ সেপ্টেম্বর এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে।