শতাব্দীপ্রাচীন রীতি ভেঙে বিয়ের বন্ধনে বাঁধা পড়লেন দু'জন। সেখানে ছিল না কোনও কন্যাদান, বিদায়, পদবী পরিবর্তন কিংবা লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাত।

শেষ আপডেট: 14 August 2025 18:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বিয়ের আচার-অনুষ্ঠান মানেই শতাব্দীপ্রাচীন রীতি, যেখানে অধিকাংশ সময়ই মেয়েদের উপর সামাজিক চাপ বেশি থাকে। কিন্তু সমরুদ্ধি ঠাকুর ও শুভান শাইন ঠিক করলেন, তাঁরা এই প্রচলিত নিয়ম ভেঙে সমানাধিকারের বিয়ে করবেন - যেখানে থাকবে না কোনও কন্যাদান, বিদায়, পদবী পরিবর্তন কিংবা লিঙ্গভিত্তিক পক্ষপাত।
কেমন ছিল তাঁদের ‘ইক্যুয়াল ওয়েডিং’?
২৪ মে ইনস্টাগ্রামে সমরুদ্ধি লিখেছেন, “আমি সম্প্রতি আমার সাত বছরের প্রেমিককে বিয়ে করেছি, আর এটা ছিল আমার স্বপ্নের মতোই। সবসময় চাইতাম সমানাধিকার মেনে বিয়ে হোক, তাই প্রতিটা রীতি আমরা নিজেদের মতো বদলে নিয়েছি। কোনও প্রচলিত ধর্মীয় আচার হয়নি - শুধু কোর্ট ম্যারেজ, মালাবদল, আর সেটুকুই।”
তিনি জানান, “কন্যাদান হয়নি, সিঁদুরদানও নয়। আমরা একে অপরের গলায় চেইন পড়িয়েছি। আমি ওর বাড়িতে ‘গৃহপ্রবেশ’ পালন করেছি, আর সেও আমার বাড়িতে একই কাজ করেছে। কোনও কনেবিদায় হয়নি, কেউ কারও সামনে মাথা নোয়ায়নি – কারণ আমরা মনে করি যে, আমরা দু’জনই সমান। সমস্ত খরচ সমানভাবে ভাগ করেছি। আমি একা বাড়ি ছাড়িনি, আমরা দু’জন মিলে আমাদের পুরনো বাড়ি ছেড়ে নতুন জায়গায় সংসার শুরু করেছি।”
সমরুদ্ধি আরও বলেন, “আংটির বাইরে আমরা কোনও বিবাহের চিহ্ন রাখিনি। বাবা-মায়ের দায়িত্বও সমানভাবে পালন করব। আমরা সবসময় জানতাম, আমাদের দেশে ধর্ম বা সংস্কৃতি নির্বিশেষে বিয়েতে মেয়েদের প্রতি অনেক অন্যায় হয়, নিয়ম চাপিয়ে দেওয়া হয়। পরিকল্পনার সময় বুঝলাম—বিয়ের শুরু থেকে শেষ অবধি প্রতিটি ধাপ পুরুষদের সুবিধার জন্য তৈরি।”
তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, “আজও মেয়েদেরই কেন বাড়ি, চাকরি, জীবনযাপন, পদবী, এমনকী আরাধ্য দেবতা পর্যন্ত বদলাতে হয়? কেন শুধু মেয়েকেই পদবী বদলাতে হবে? কেন শুধু মেয়েকেই বাড়ি-পরিবার ছাড়তে হবে? কেন শুধু মেয়েকেই বিয়ের প্রতীক শরীরে বয়ে নিয়ে যেতে হবে? এসব ভেবে আমরা সমাজের তৈরি তথাকথিত ‘রীতি’ মানিনি।”
সমরুদ্ধির এই পোস্ট মুহূর্তে ভাইরাল হয়ে যায়। হাজার হাজার লাইক ও মন্তব্যে ভরে ওঠে সোশ্যাল মিডিয়া। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, “এটা সত্যিই দারুণ, আমি আমার মাকে দেখালাম, উনি বললেন - ঠিক এভাবেই বিয়ে হওয়া উচিত।”
আরও একজন মন্তব্য করেন, “আমাদের ঐতিহ্যবাহী বিয়ের রীতি ভাল লাগে, কিন্তু ভাবিনি যে এগুলো বেশিরভাগ সময় মেয়েদেরই বেঁধে রাখে। তোমাদের বিয়ের পদ্ধতি সত্যিই অনুপ্রেরণাদায়ক।”
আরেকজন লিখেছেন, “আপনারা ভারতীয় বিয়ের সংজ্ঞাই বদলে দিয়েছেন। স্টেরিওটাইপ ভেঙে নতুন কিছু গড়েছেন।” অন্য এক মন্তব্য বলছে, “আপনাদের ভিডিও অনেকের কাছে পৌঁছক। আপনারা ও আপনাদের পরিবার সমতার এক অসাধারণ উদাহরণ তুলে ধরেছেন।”