
প্রতীকী ছবি (গুগল)
শেষ আপডেট: 21 June 2025 15:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ৬১ বছর বয়সে কিডনি প্রতিস্থাপনের (Kidney Transplant of a 61 year old man) পর নতুনভাবে জীবনে বাঁচার আশা দেখেছিলেন প্রৌঢ়। হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরে ভেবেছিলেন হয়তো এবার সুস্থ হচ্ছেন। কিন্তু দু'মাসের মধ্যেই ছন্দপতন। ফের ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে। দুর্বলতা, বমি, অতিরিক্ত জলতৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব- একাধিক উপসর্গ দেখা যায় তাঁর শরীরে। পরে ধরা পড়ে, কিডনির মাধ্যমে ওই ব্যক্তির শরীরে ঢুকে পড়েছে কৃমি।
'নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অফ মেডিসিন'-এ (New England Journal of Medicine) প্রকাশিত একটি রিপোর্টে এই ঘটনাটি জানা গিয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, কিডনি প্রতিস্থাপনের কয়েক সপ্তাহ পরই রোগীর (Kidney Transplant of a 61 year old man) রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা কমতে থাকে এবং ফুসফুসে জল জমে যায়। এমনকি ফিডিং টিউব বসানো সত্ত্বেও তাঁর অবস্থা অবনতি ঘটতে থাকে।
সংক্রমণ সংক্রান্ত বিভাগের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ক্যামিল কটন লক্ষ্য করেন, রোগীর রক্তে ইওসিনোফিলের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। একইসঙ্গে তাঁর পেটের অংশের চামড়ায় লালচে-বেগুনি রঙয়ের র্যাশ দেখা গিয়েছে। তখনই চিকিৎসকে সন্দেহ হয়, রোগীর শরীরে 'Strongyloides stercoralis' নামের একটি ভয়ানক পরজীবী কৃমি বাসা বেঁধেছে। এটি মূলত অন্ত্রনালিতে বাসা বাঁধে এবং শরীরে ছড়িয়ে পড়তে পারে।
খোঁজ নিয়ে দেখা যায়, যিনি কিডনি দিয়েছেন, ক্যারিবিয়ান অঞ্চলের বাসিন্দা যেখানে এই কৃমি বেশি দেখা যায়। দাতার রক্তে পরবর্তীতে কৃমির প্রতিরোধক পাওয়া যায়, যা প্রমাণ করে তিনি আগে সংক্রমিত হয়েছিলেন। অথচ প্রতিস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয় রক্ত পরীক্ষায় এই কৃমির কোনও চিহ্ন ছিল না। চূড়ান্ত পরীক্ষা করার পর তাঁর ফুসফুস ও মল থেকে কৃমির লার্ভা পাওয়া যায়।
এই মারাত্মক সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয় 'আইভারমেকটিন' নামের একটি 'ডিওয়ার্মিং' ওষুধ (কৃমি প্রতিরোধক), যা সাধারণত খাওয়ার জন্যই অনুমোদিত। তবে ওই রোগীর ক্ষেত্রে শরীরে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগের জন্য বিশেষ অনুমতি নেওয়া হয়।
এই ওষুধের প্রভাবে ধীরে ধীরে সুস্থ হতে থাকেন রোগী। ঠিক তখনই খবর আসে, দাতার অন্য কিডনি যিনি পেয়েছেন, সেই রোগীও একই রকমভাবে কৃমি বাসা বেঁধেছে। চিকিৎসকেরা একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং দুই রোগীই শেষপর্যন্ত সুস্থ হয়ে ওঠেন।