দিনটি শুরু হয় ষষ্ঠী দেবীর পুজো দিয়ে, যেখানে ফলমূল, মিষ্টান্ন ও নানা উপচারে দেবীকে তুষ্ট করা হয়। জামাইয়ের আগমনে বাড়িতে শুরু হয় ধুমধাম—তাকে দেওয়া হয় তিলক, প্রদীপ আরতির মাধ্যমে শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ।

আজ জামাইষষ্ঠী
শেষ আপডেট: 1 June 2025 11:25
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজ জামাইষষ্ঠী। আর জামাইষষ্ঠী মানেই শুধু ভুরিভোজ বা উপহার নয়—এ এক আন্তরিকতার উৎসব, যেখানে শাশুড়ির স্নেহ আর জামাইয়ের হাসি মিলে তৈরি হয় সম্পর্কের এক মাধুর্যপূর্ণ বন্ধন। বাঙালির ক্যালেন্ডারে জামাইষষ্ঠী এক অন্যতম আবেগঘন দিন। জ্যৈষ্ঠ মাসের শুক্লা ষষ্ঠী তিথিতে উদযাপিত এই উৎসব মূলত শাশুড়ি ও জামাইয়ের মধ্যকার সম্পর্ককে আরও সুন্দর করে তোলে।
এই দিনটি ঘিরে রয়েছে দেবী ষষ্ঠীর উপাসনা, যিনি সন্তান রক্ষা ও পরিবারের কল্যাণের দেবী হিসেবে পূজিত হন। একটি জনপ্রিয় কিংবদন্তি অনুসারে, এক গৃহবধূ ভুলবশত দেবী ষষ্ঠীর বাহন বিড়ালটির উপর চুরির অভিযোগ আনেন, অথচ খাবারটি খেয়েছিলেন তিনি নিজেই। দেবী রুষ্ট হয়ে তার সন্তানকে সরিয়ে নেন, কিন্তু অনুশোচনায় ভরা মায়ের প্রার্থনায় সন্তুষ্ট হয়ে শিশুটিকে ফিরিয়ে দেন দেবী। এই কাহিনি আজও স্মরণ করিয়ে দেয় সততা, ক্ষমা এবং মাতৃত্বের গুরুত্ব, যা ষষ্ঠী পুজোর কেন্দ্রবিন্দু।
এক সময় বিয়ের পর মেয়েদের পিত্রালয়ে বারবার যাওয়া সমাজসিদ্ধ ছিল না। জামাইষষ্ঠী সেই সামাজিক ব্যবস্থার মধ্যেই এক ভালোবাসার সেতুবন্ধন গড়ে তোলে। জামাই ও কন্যাকে একত্রে আমন্ত্রণ জানিয়ে, শাশুড়ি-মা সাদর অভ্যর্থনার মাধ্যমে সম্পর্ককে মজবুত করেন। এই পুনর্মিলন শুধু একটি পারিবারিক ভোজ নয়, বরং আন্তরিকতার এক অনন্য বহিঃপ্রকাশ।
দিনটি শুরু হয় ষষ্ঠী দেবীর পুজো দিয়ে, যেখানে ফলমূল, মিষ্টান্ন ও নানা উপচারে দেবীকে তুষ্ট করা হয়। জামাইয়ের আগমনে বাড়িতে শুরু হয় ধুমধাম—তাকে দেওয়া হয় তিলক, প্রদীপ আরতির মাধ্যমে শুভেচ্ছা ও আশীর্বাদ। জামাইষষ্ঠীর সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক নিঃসন্দেহে তার ভুরিভোজ। পাতে থাকে ইলিশ, চিংড়ি, পোলাও, মাংস, মাছের কালিয়া থেকে শুরু করে নানা ধরনের মিষ্টি। এসব আয়োজন যেন ভালোবাসার এক প্রতীক।
এই দিন শ্বশুরবাড়ির পক্ষ থেকে জামাইয়ের জন্য থাকে উপহার—নতুন জামাকাপড়, ঘরোয়া প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ইত্যাদি। ২০২৫ সালে জামাইষষ্ঠীর তিথি পড়েছে ৩১ মে শনিবার রাত ৮টা ১৫ মিনিট থেকে শুরু হয়ে ১ জুন রবিবার রাত ৭টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত। অর্থাৎ রবিবার জামাইষষ্ঠী উদযাপন করার জন্য আদর্শ দিন।