এই ছোট্ট বার্তাটিই রাতের ওই সফরে মহিলার ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে।

শেষ আপডেট: 13 December 2025 18:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটু রাত বাড়লেই বাইরে থাকা মানে মহিলাদের কাছে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে চাপা টেনশন। 'ঠিকঠাক বাড়িতে পৌঁছতে পারব তো?', 'কেউ পিছু নিচ্ছে না তো?', 'এত রাত করার কোনও দরকার ছিল না' - নিজের কাছেই তখন নানারকম প্রশ্ন। কিন্তু সম্প্রতি বেঙ্গালুরুর এক মহিলার অভিজ্ঞতাই (women safety Bangalore) সেই গল্পই যেন পাল্টে দিল নিমেষে। সোশ্যাল মিডিয়ায় মুহূর্তে ভাইরাল সেই পোস্ট।
এক মহিলা ইনস্টাগ্রামে জানান, মাঝরাতে এক অচেনা অজানা অটোচালকের (Rapido auto viral story) ছোট্ট অথচ মানবিক উদ্যোগ এই চরম অনিশ্চয়তার সময়েও নিরাপদ এবং নিশ্চিন্ত বোধ করিয়েছে। কী ঘটেছিল তাঁর সঙ্গে সেই ভিডিও-ও পোস্ট করেন তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় (Bengaluru auto driver viral video)।
রাত প্রায় ১২টা নাগাদ একজন মহিলা র্যাপিডো অটোতে (Rapido auto) ফিরছিলেন। অটোতে বসে তিনি নিজের অভিজ্ঞতা রেকর্ড করেন। ভিডিওটি শেয়ার করা হয়েছে @littlebengalurustories নামের ইনস্টাগ্রাম হ্যান্ডল থেকে।
ভিডিওতে মহিলাকে বলতে শোনা যায়, “রাত ১২টা, আমি একটা র্যাপিডো অটোয় চেপে ফিরছি। তারপর এটা চোখে পড়ল, আর এখন আমার সত্যিই নিজেকে নিরাপদ মনে হচ্ছে।”
এরপর তিনি ক্যামেরা অটোচালকের দিকে ঘোরান এবং দেখান অটোর ভিতরে সাঁটানো একটি হাতে লেখা নোট। সেখানে লেখা ছিল, “আমি একজন বাবা এবং একজন ভাইও। আপনার নিরাপত্তা গুরুত্বপূর্ণ। নিশ্চিন্তে বসুন।”
এই ছোট্ট বার্তাটিই রাতের ওই সফরে মহিলার ভরসার জায়গা হয়ে ওঠে।
‘সবচেয়ে নিরাপদ শহর’ বেঙ্গালুরু?
ভিডিওটি পোস্ট হওয়ার পর থেকেই তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে। শেষ আপডেট অনুযায়ী, ভিডিওটি ৩.৭ লক্ষের বেশি ভিউ পেয়েছে এবং জমা পড়েছে শত শত মন্তব্য। বহু বেঙ্গালুরুবাসী শহরের মানবিক মুখ ও সংস্কৃতির প্রশংসা করেছেন।
একজন ব্যবহারকারী লেখেন, “আমি গত ২০ বছর ধরে এই শহরকে চিনি। সবার জন্য এটাই সবচেয়ে নিরাপদ শহর।” আরেকজন মন্তব্য করেন, “এরা হল আসল নম্মা বেঙ্গালুরু অটো ড্রাইভার। ওঁরা ভীষণ দায়িত্বশীল।” আরও এক জন লেখেন, “ম্যাডাম, বিশ্বাস করুন, বেঙ্গালুরুতে আপনি নিরাপদ। এখানকার স্থানীয় ছেলে বা পুরুষরা কখনও আপনাকে বিরক্ত করবে না। যদি কেউ করে, তার আসল বাড়ি কোথায়, সেটা দেখে নেবেন।”
এই ঘটনাটি একেবারে বিচ্ছিন্ন বা প্রথম নয়। গত মাসেই এমনই আরেকটি অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলেন আশা মানে নামের এক মহিলা। তিনি জানিয়েছিলেন, অনেকটা রাতে ৩৮ কিলোমিটারের একটি র্যাপিডো রাইডে হঠাৎ বাইকের চেন খুলে যায়। সাধারণত এমন পরিস্থিতিতে রাইড বাতিল করে নতুন করে বুক করতে হয়। কিন্তু সেই চালকের কথায় ভরসা পেয়েছিলেন আশা।
আশা মানে লিখেছিলেন, “উনি বলেছিলেন, ‘চিন্তা করবেন না, আমরা এই সমস্যাটি ঠিক করে নেব, আর আমি আপনাকে বাড়ি পৌঁছে দেব।’ ওই আশ্বাসটুকুই সব। কত সহজ, মানবিক।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমরা প্রায়ই দুনিয়ায় কী কী ভুল হচ্ছে, সেই কথাই বেশি শুনি। তাতে ভুলে যাই, এখনও এমন মানুষ আছেন, যাঁরা ঠিক কাজটা বেছে নেন। হাজারটা খারাপ অভিজ্ঞতার মধ্যেও এমন কিছু মুহূর্ত থাকে, যা মানুষের উপর, নিরাপত্তার উপর, মানবতার উপর আবার বিশ্বাস ফিরিয়ে দেয়।”