নতুন প্রজন্মের এই মনোভাব স্পষ্ট করছে আধুনিক যুগে সম্পর্কের মানে বদলাচ্ছে। ভালবাসা আর কমিটমেন্ট এখন আগের মতো সমাজিক নিয়ম নয়, কিন্তু কেন, কীভাবে বদলাচ্ছে গোটা বিষয়টি?

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 31 October 2025 18:17
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভালবাসা, রোম্যান্স আর কমিটমেন্টের মানে আজ আর আগের মতো নেই। সময়ের সঙ্গে বদলাচ্ছে তার সংজ্ঞা, বদলাচ্ছে মানুষের মানসিকতাও। ভবিষ্যতে ঘনিষ্ঠতার ধারণা একেবারে নতুন আকার নিতে চলেছে— এমনটাই বলছে একটি সাম্প্রতিক সমীক্ষা।
ডেটিং অ্যাপ ‘QuackQuack’-এর করা ওই সমীক্ষা বলছে, ৩ জন কোটিপটি মানুষের মধ্যে অন্তত ১ জন মনে করেন, আগামী দশ বছরে বিয়ে আর সম্পর্কের ধারণা একেবারে পাল্টে যাবে।
ভারতের মেট্রো শহর, শহরতলি আর গ্রামীণ এলাকার ২২ থেকে ৩৫ বছর বয়সি ডেট করছেন এমন ১০,৩৪০ জনের উপর এই সমীক্ষা চালানো হয়। আইটি, স্বাস্থ্য, ব্যাঙ্কিং, শিক্ষা, সেলস, মার্কেটিং এমনকি সোশ্যাল মিডিয়া ক্রিয়েটর, প্রায় সমস্ত ক্ষেত্রের মানুষই এতে অংশ নেন। উদ্দেশ্য ছিল, ডিজিটাল যুগে মানুষ কীভাবে আবেগ আর ঘনিষ্ঠতার মানে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করছে, তা বোঝা।
অ্যাপের প্রতিষ্ঠাতা এবং সিইও রবি মিত্তল বলেছেন, 'আজকের দিনে ৫ জনের মধ্যে ৪ জন নিজেদের সম্পর্কে অনেক বেশি সচেতন। তাঁরা বিয়ে-বিরোধী নন, কমিটমেন্ট-বিরোধীও নন। কিন্তু সমাজের সময়সূচি মেনে নয়, নিজেদের মতো করে জীবনে বাঁচতে চান এবং বেছে নিতে চান জীবনসঙ্গী।'
‘বিয়ে এখন আর বাধ্যতামূলক নয়, ইচ্ছের বিষয়’
সমীক্ষা অনুযায়ী, এখন বিয়ে ক্রমে ‘বাধ্যতামূলক’ থেকে অপশনাল অর্থাৎ ‘ইচ্ছা হলে করা যায়’-এর পর্যায়ে চলে গিয়েছে। মানে এনিয়ে আগেকার দিনের মতো চাপ কমছে সমাজে। এখন যার যখন ইচ্ছে হচ্ছে, তখন বিয়ের সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
২৮ বছরের ঊর্ধ্বে শহরের প্রায় ৩৯ শতাংশ মানুষ মনে করেন, বিয়ে এখন আর জীবনের অপরিহার্য অংশ নয়।
ভার্চুয়াল ডেটিংয়ের উত্থানও দেখিয়ে দিচ্ছে, ভালবাসার জন্য একসঙ্গে থাকা, এমনকি কাগজে সই করার দরকার নেই।
দেশের বড় শহরগুলির প্রায় প্রতি ৪ জন মহিলার মধ্যে ২ জন বলেছেন, এটা আধুনিক জীবনযাত্রা আর সমাজের বদলানো অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রতিফলন। ২৯ বছরের অবিনাশ যিনি এই অ্যাপ ব্যবহার করেন, জানিয়েছেন, বিয়ে তাঁর কাছে কোনও লক্ষ্য নয়। তিনি সেটা ডেটিং প্রোফাইলেও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন শুরুতেই। তাঁর কাছে গুরুত্বপূর্ণ হল সত্যিকারের সংযোগ আর কমিটমেন্ট। কারণ, বিয়ে মানেই যে নিশ্চয়তা বা স্থায়িত্ব, তা নয়।
‘সিঙ্গল’ মানেই এখন ‘সেলফ গ্রোথ’
এই সমীক্ষায় আরও জানা গিয়েছে, যারা এখনও নিজেদের জন্য উপযুক্ত সঙ্গী খুঁজে পাননি, তাঁরা তাঁদের ‘সিঙ্গল’ সময়টাকেই আত্ম-উন্নতির সুযোগ হিসেবে দেখছেন। প্রতি ১০ জনের মধ্যে ৬ জন জানিয়েছেন, প্রতিটি ব্যর্থ ইনিংস তাঁদের শেখাচ্ছে কীভাবে আরও বেটার হওয়া যায়। ২৭ বছর বয়সি মার্কেটিং স্পেশালিস্টের কথায়, 'অনলাইন ডেটিং মানুষকে নিজের ভিতরটা বুঝতে শেখায়। অনেক সময় অন্যদের গল্প শুনে নিজের পুরোনো ক্ষতও সারিয়ে ফেলা যায়। আমি শিখেছি কীভাবে নিজের দুর্বলতাগুলো প্রকাশ করতে হয়, বিচার হওয়ার ভয় ছাড়াই।'
এমনকি ২৫ থেকে ৩৫ বছর বয়সি প্রায় ২৩ শতাংশ মানুষের মত, 'যে কেউ যদি টানা পাঁচ মাস কোনও ডেটিং অ্যাপে থাকেন এবং নানারকম মানুষের সঙ্গে কথা বলেন, তাহলে তার আত্ম-চেতনা অনেকটাই বাড়ে কারণ তিনি নানা দৃষ্টিকোণ থেকে জীবনকে দেখতে শেখেন।'
নতুন প্রজন্মের এই মনোভাব স্পষ্ট করছে আধুনিক যুগে সম্পর্কের মানে বদলাচ্ছে। ভালবাসা আর কমিটমেন্ট এখন আগের মতো সমাজের নিয়ম নয় বরং নিজের মতো করে বাঁচার স্বাধীনতারই এক নতুন সংজ্ঞা।