প্রথমে অপরাধ অস্বীকার করলেও পরে পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়ে রাম। তার বয়ানেই উদ্ধার হয় নীলমের দেহ।

শেষ আপডেট: 30 October 2025 21:22
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বোনের বিয়ের টাকার ভাগ নিয়ে বিরোধের জের! 'ঝামেলা মেটাতে' খুন করে ৭০ কিলোমিটার দূরে দেহ ফেলে এল দাদা - এমনই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠে এসেছে। ঘটনাস্থল, উত্তরপ্রদেশের গোরক্ষপুরে (Uttar Pradesh Incident)।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্তের নাম রাম আশিস নিষাদ (৩২)। বুধবার রাতে কুশীনগর জেলার এক আখের খেতে ১৯ বছরের নীলম নিষাদের পচাগলা দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনার নৃশংস বিবরণ উঠে এসেছে অভিযুক্তের স্বীকারোক্তিতে।
গোরক্ষপুরের পুলিশ জানিয়েছে, মৃতার বাবা চিঙ্কু নিষাদ একটি রাস্তা প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৫ লক্ষ টাকা পেয়েছিলেন। সেই টাকা মেয়ের বিয়ের খরচের জন্য রাখার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। কিন্তু সেই টাকা থেকে নিজের ভাগ দাবি করে রাম। তাতে বাবা রাজি না হওয়ায় রাগে-ক্ষোভে বোনকে খুন করে সে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
২৭ অক্টোবর, যখন বাড়িতে অন্য কেউ ছিল না, তখনই খুনের পরিকল্পনা কার্যকর করে সে। পুলিশ জানিয়েছে, প্রথমে কাপড় দিয়ে নীলমের গলা টিপে খুন করা হয়, তারপর হাত-পা ভেঙে তার দেহ বস্তায় ভরে মোটরবাইকে বেঁধে কুশীনগর জেলার এক আখখেতে ফেলে আসে অভিযুক্ত।
পরিবারের সদস্যরা প্রথমে ভেবেছিলেন নীলম ছটপুজোর জন্য বাইরে গিয়েছে। কিন্তু প্রতিবেশীরা জানান, রামকে দেখা গিয়েছিল বড় একটি বস্তা নিয়ে বাড়ি থেকে বেরোতে। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখে। সেখানে দেখা যায়, বোনের দেহ ভরে সেই বস্তা নিয়ে মোটরবাইকে চেপে যাচ্ছে রাম।
প্রথমে অপরাধ অস্বীকার করলেও পরে পুলিশের জেরায় ভেঙে পড়ে রাম। তার বয়ানেই উদ্ধার হয় নীলমের দেহ।
পুলিশের পক্ষ থেকে শহরের এসপি (সিটি) অভিনব ত্যাগী জানিয়েছেন, “অভিযুক্ত সম্পূর্ণ অপরাধের কথা স্বীকার করেছে। খুনের পর বোনের দেহ কুশীনগরে ফেলে আসে সে।”
এই ঘটনার পর উত্তাল গোটা এলাকা। মৃতার বাবা-মা অভিযুক্ত পুত্রের মৃত্যুদণ্ড দাবি করেছেন। তাঁদের সন্দেহ, রামের স্ত্রীও এই ঘটনায় জড়িত থাকতে পারেন। পুলিশ জানিয়েছে, সেই দিকটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।