ধৃত দুই যুবকের নাম শক্তিকান্ত বেহরা ও সন্তোষ বেহরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে ওড়িশা থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, সন্দেহভাজন দুই সঙ্গী ওড়িশার বাসিন্দা

প্রতীকী ছবি
শেষ আপডেট: 29 October 2025 09:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্ক স্ট্রিট হোটেলে যুবকের খুনের ঘটনার কিনারা করল পুলিশ। ওড়িশা থেকে গ্রেফতার করা হল নিহতের দুই সঙ্গীকে। খুনের উদ্দেশ জানতে ধৃতদের জেরা করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
জানা গিয়েছে, ধৃত দুই যুবকের নাম শক্তিকান্ত বেহরা ও সন্তোষ বেহরা। মঙ্গলবার গভীর রাতে ওড়িশা থেকে দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পুলিশ তদন্তে জানতে পারে, সন্দেহভাজন দুই সঙ্গী ওড়িশার বাসিন্দা, সেখান থেকেই অনুমান করা হয়, খুনের পরই গা ঢাকা দিতে দুই যুবক হয়তো ওড়িশায় পালিয়ে গিয়েছে। এরপরই শুরু হয় তল্লাশি অভিযান। অবশেষে সাফল্য আসে তাদের হাতে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, গত ২২ অক্টোবর দুই বন্ধুর সঙ্গে পার্কস্ট্রিটের হোটেলে যান রাহুল দাস (নিহত যুবক)। চেকইনের সময় নাকি ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করেছিলেন। রিসেপশনে জমা দিয়েছিলেন নিজের ভাইয়ের আধার কার্ড। মদ্যপান করতে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁরা।
হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাতে একজন 'সঙ্গী' বাইরে যান এবং রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ফিরে আসেন। কিছুক্ষণ পর দু'জন একসঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে হোটেলের বাইরে চলে যান। রাতভর হোটেলের কর্মীরা কিছু বুঝতে পারেননি।
বৃহস্পতিবারের এই ঘটনার পর এক দম্পতি হোটেলের ওই রুমে চেকইন করেন। রাতে সেই বক্স খাটে ঘুমোন। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও টের পাননি বিছানার নীচে দেহ লুকানো রয়েছে।
শুক্রবার, ২৪ অক্টোবর সকালে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করলে হোটেলের কর্মীরা বক্স খাট খুলে দেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্বাসরোধ করেই যুবককে খুন করা হয়েছে।
মৃত রাহুল দাসের নামেও চুরি-সহ নানা অপরাধের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দুই অভিযুক্ত এবং ওই যুবক তিনজনেই অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত বলে অনুমান পুলিশের। পলাতক দু'জনের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।
পুলিশের ধারণা, মদ্যপানের সময়ই তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তারপরই দু'জন মিলে রাহুলকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে। মৃতদেহ বক্স খাটের মধ্যে রেখে পালিয়ে যায়। তবে খুনের আসল কারণ জানতে জেরা দু'জনকে জেরা করবে পুলিশ।