হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাতে একজন 'সঙ্গী' বাইরে যান এবং রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ফিরে আসেন। কিছুক্ষণ পর দু'জন একসঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে হোটেলের বাইরে চলে যান। রাতভর হোটেলের কর্মীরা কিছু বুঝতে পারেননি।

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 25 October 2025 15:56
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পার্ক স্ট্রিটের হোটেলে এক যুবকের দেহ উদ্ধারের ঘটনায় একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। পুলিশ সূত্রে খবর, হোটেলের ৩০২ নম্বর ঘর থেকে পচা গন্ধ বের হচ্ছিল। উৎস খুঁজতে গিয়েই বক্স খাট থেকে উদ্ধার হয় দেহ।
পুলিশ সূত্রে খবর, মৃতের নাম রাহুল দাস। পিকনিক গার্ডেনে এক আত্মীয়ের বাড়িতে থাকতেন। তদন্তে জানা গেছে, রাহুল হোটেলে চেক ইন করতে ভুয়ো আধার কার্ড ব্যবহার করেছিলেন। রিসেপশনে জমা দিয়েছিলেন নিজের ভাইয়ের আধার কার্ড।
বুধবার বিকেলে দুই বন্ধুর সঙ্গে পার্কস্ট্রিটের ওই হোটেলে ওঠেন যুবক। মদ্যপান করতে কয়েক ঘণ্টার জন্য ঘর ভাড়া নিয়েছিলেন তাঁরা।
হোটেলের সিসিটিভি ফুটেজে দেখা গেছে, রাতে একজন 'সঙ্গী' বাইরে যান এবং রাত সাড়ে এগারোটা নাগাদ ফিরে আসেন। কিছুক্ষণ পর দু'জন একসঙ্গে ঘর থেকে বের হয়ে হোটেলের বাইরে চলে যান। রাতভর হোটেলের কর্মীরা কিছু বুঝতে পারেননি।
পুলিশের ধারণা, মদ্যপানের সময়ই তাঁদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। তারপরই দু'জন মিলে রাহুলকে গলায় কাপড় পেঁচিয়ে হত্যা করে। মৃতদেহ বক্স খাটের মধ্যে রেখে পালিয়ে যায়। রাহুলের মোবাইল ট্র্যাক করে পুলিশ জানতে পেরেছে, এই দুই অভিযুক্ত আসলে ওড়িশার বাসিন্দা।
এরপর ঘটেছে আরও এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। বৃহস্পতবারের এই ঘটনার পর এক দম্পতি হোটেলের ওই রুমে চেকইন করেন। রাতে সেই বক্স খাটে ঘুমোন। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও টের পাননি বিছানার নীচে দেহ লুকানো রয়েছে।
শুক্রবার সকালে দুর্গন্ধ বেরোতে শুরু করলে হোটেলের কর্মীরা বক্স খাট খুলে দেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তের প্রাথমিক রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, শ্বাসরোধ করেই যুবককে খুন করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে আরও জানা গিয়েছে, মৃত রাহুল দাসের নামেও চুরি-সহ নানা অপরাধের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। দুই অভিযুক্ত এবং ওই যুবক তিনজনেই অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িত বলে অনুমান পুলিশের। পলাতক দু'জনের খোঁজে তল্লাশি শুরু হয়েছে।