সামাজিক ও পরিবেশ-প্রশাসনিক কাঁটাতার ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছেন জম্মু-কাশ্মীরের মেয়ে সিমরন বালা (Simran Bala)। মাত্র ২৬ বছর বয়সে কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনীর (CRPF) অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট পদে কর্মরত তিনি।

সিমরন বালা (Simran Bala)। ছবি এআই দিয়ে তৈরি করা।
শেষ আপডেট: 21 January 2026 17:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘যা সিমরন, যা...’। ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে জায়েঙ্গে’র প্রেমিকা সিমরন যেমন পরিবারের সমস্ত বাধাকে তুচ্ছ করে জয় হাসিল করেছিল। ঠিক তেমনই সমস্ত সামাজিক ও পরিবেশ-প্রশাসনিক কাঁটাতার ভেঙে নতুন ইতিহাস গড়তে চলেছেন জম্মু-কাশ্মীরের মেয়ে সিমরন বালা (Simran Bala)। মাত্র ২৬ বছর বয়সে কেন্দ্রীয় সংরক্ষিত পুলিশ বাহিনীর (CRPF) অ্যাসিস্ট্যান্ট কমান্ড্যান্ট পদে কর্মরত তিনি। এই তরুণী অফিসারই হতে চলেছেন ২৬ জানুয়ারির কুচকাওয়াজের সিআরপিএফ ইউনিটের নেত্রী। তাঁর অধীনেই রাজধানীর কর্তব্যপথে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুকে অভিবাদন জানিয়ে প্যারেডে অংশ নেবে পুরুষ সহকর্মীদের বাহিনী। ৭৬-তম সাধারণতন্ত্র দিবসের (76th Republic Day) প্যারেডে এই সত্যি সিমরনই হতে চলেছেন প্রথম মহিলা অফিসার, যিনি পুরোপুরি পুরুষ সদস্যদের একটি ইউনিটের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য নির্বাচিত হয়েছেন।

জম্মু ও কাশ্মীরের (Jammu and Kashmir) নৌশেরার (Nowshera) বাসিন্দা সিমরনের বেড়ে ওঠা পাকিস্তানের লাগাতার গোলাবর্ষণে ক্ষতবিক্ষত এক সীমান্ত এলাকায়। ছোটবেলা কেটেছে গোলাগুলির শব্দের মধ্যে। সেই ভয় আর অনিশ্চয়তাকেই তিনি বদলে ফেলেছেন অদম্য মানসিক শক্তির গল্পে। এই তরুণ অফিসার দেশের ইতিহাসে নিজের নাম লেখাতে চলেছেন। ১৪০ জনের বেশি পুরুষ জওয়ানের একটি ইউনিটের কমান্ড সামলাবেন তিনি, তাও দেশের সবচেয়ে বড় আধা সামরিক বাহিনীর (paramilitary force) একেবারে সামনে থেকে। শুধু সিআরপিএফের জন্য নয়, গোটা দেশের ইউনিফর্মধারী নারীদের জন্যই এটা এক বড় মাইলফলক।

এনডিটিভিকে (NDTV) দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিমরন বলেন, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। এই অনুভূতির কোনও তুলনা নেই। সামনে প্যারেড, দূরে দাঁড়িয়ে ইন্ডিয়া গেট (India Gate)। দেশের সবচেয়ে বড় দিনে এই বাহিনীর নেতৃত্ব দেওয়া গর্বের, আবার বিশাল দায়িত্বেরও। সত্যিই কথায় বোঝানো যাবে না, বলেন তিনি।

জম্মুর অবসরপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক ক্যাপ্টেন অনিল গৌর (Captain Anil Gour) সিমরনের এই সাফল্য নিয়ে বলেন, এটা শুধু ব্যক্তিগত কৃতিত্ব নয়, একটা বড় পরিবর্তনের প্রতীক। এটা এক নতুন যুগের ইঙ্গিত। যেখানে পুরনো বাধা ভাঙছে, আর মেয়েদের জন্য উর্দি নিজের ভবিষ্যৎ গড়ার দরজা খুলছে। রাজৌরি (Rajouri) আর পুঞ্চ (Poonch)-এর সীমান্ত এলাকাতেও সিমরনের কীর্তি নতুন স্বপ্ন জাগিয়ে তুলেছে। সিমরনের মতো আমরাও ইউনিফর্ম পরতে চাই, দেশের সেবা করতে চাই, বলেন রাজৌরির এক কিশোরী গীতা রানি (Geeta Rani)। তাঁর কথায় প্রতিধ্বনিত হয়েছে বহু মেয়ের মনের ইচ্ছে।

সিমরন বালাই তাঁর জেলার প্রথম মহিলা, যিনি সিআরপিএফে অফিসার হিসেবে যোগ দিয়েছেন। ইউপিএসসি ((UPSC) সিএপিএফ (CAPF) পরীক্ষায় প্রথম চেষ্টাতেই তিনি সারা ভারতে ৮২-তম র্যাঙ্ক করেন, মোট ১৫১ জন নির্বাচিত প্রার্থীর মধ্যে। কলেজে পড়াশোনার পাশাপাশি প্রস্তুতি নিয়েই এই সাফল্য। ২০২৩ সালের মে মাসে জম্মু ও কাশ্মীর থেকে তিনিই ছিলেন একমাত্র মহিলা প্রার্থী, যিনি এই পরীক্ষায় সফল হন। সব মিলিয়ে সীমান্তের গোলার শব্দ থেকে দিল্লির রাজপথ— সিমরন বালার যাত্রা আজ শুধু এক সাফল্যের গল্প নয়, তা হয়ে উঠেছে হাজারো ভারতীয় মেয়ের অনুপ্রেরণা।