Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
শয়তান বা কালু বলে আর ডাকা যাবে না! স্কুলের খাতায় পড়ুয়াদের নতুন পরিচয় দিচ্ছে রাজস্থান সরকার‘পাশে মোল্লা আছে, সাবধান!’ এবার শুভেন্দুর বিরুদ্ধে কমিশনে নালিশ তৃণমূলেরWest Bengal Election 2026: বাম অফিসে গেরুয়া পতাকা! মানিকচকে চরম উত্তেজনা, থানায় বিক্ষোভ বামেদেরপয়লা বৈশাখে শুটিং শুরু, যিশুর কামব্যাক—‘বহুরূপী ২’ কি ভাঙবে সব রেকর্ড?‘কেকেআরের পাওয়ার কোচ রাসেল ২৫ কোটির গ্রিনের থেকে ভাল!’ আক্রমণে টিম ইন্ডিয়ার প্রাক্তন তারকাবিহারে আজ থেকে বিজেপি শাসন, রাজনীতির যে‌ অঙ্কে পদ্মের মুখ্যমন্ত্রী আসলে নীতীশেরই প্রথম পছন্দঅশোক মিত্তলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ইডি, ক'দিন আগেই রাজ্যসভায় রাঘব চাড্ডার পদ পেয়েছেন এই আপ সাংসদ West Bengal Election 2026: প্রথম দফায় ২,৪০৭ কোম্পানি বাহিনী! কোন জেলায় কত ফোর্স?IPL 2026: ভাগ্যিস আইপিএলে অবনমন নেই! নয়তো এতক্ষণে রেলিগেশন ঠেকানোর প্রস্তুতি নিত কেকেআর TCS Scandal: যৌন হেনস্থা, ধর্মান্তরে চাপ! নাসিকের টিসিএসকাণ্ডে মালয়েশিয়া-যোগে আরও ঘনাল রহস্য

ট্রাম্পের খবরদারি মানছে না ইউরোপ, খামখেয়ালের সীমারেখা পেরোবেন না, হুমকি দিচ্ছে বন্ধুরাও

মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্ব-রাজনৈতিক ব্যবস্থা (US-led global order) কার্যত ভেঙে পড়ছে। ইউরোপীয় নেতারা দাভোসে (Davos) ডেনমার্কের (Denmark) সুমেরু প্রদেশীয় দ্বীপটিকে কেন্দ্র করে জোটবদ্ধ অবস্থান নিতে চাইছেন। 

ট্রাম্পের খবরদারি মানছে না ইউরোপ, খামখেয়ালের সীমারেখা পেরোবেন না, হুমকি দিচ্ছে বন্ধুরাও

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের (Denmark) সার্বভৌমত্ব (sovereignty) কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় ইউরোপের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক মারাত্মকভাবে তিক্ত (soured) হয়েছে।

শুভেন্দু ঘোষ

শেষ আপডেট: 21 January 2026 12:33

দ্য ওয়াল ব্যুরো: গ্রিনল্যান্ড (Greenland) দখলের প্রশ্নে মার্কিন প্রেসিডেন্ট (US President) ডোনাল্ড ট্রাম্পের (Donald Trump) আগ্রাসী অবস্থানের জেরে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ বন্ধুরাই এবার প্রকাশ্যে বিরোধিতা করছেন। তাঁদের মতে, মার্কিন নেতৃত্বাধীন বিশ্ব-রাজনৈতিক ব্যবস্থা (US-led global order) কার্যত ভেঙে পড়ছে। ইউরোপীয় নেতারা দাভোসে (Davos) ডেনমার্কের (Denmark) সুমেরু প্রদেশীয় দ্বীপটিকে কেন্দ্র করে জোটবদ্ধ অবস্থান নিতে চাইছেন। যাতে অস্পষ্ট হলেও একটি ইঙ্গিত মিলছে যে, ইউরোপীয় দেশগুলি ট্রাম্পের খামখেয়ালি আচরণ আর বরদাস্ত করতে নারাজ।

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের (World Economic Forum) বার্ষিক সম্মেলনে ট্রাম্পের যোগ দেওয়ার আগেই স্পষ্ট হয়ে গেছেতাঁর প্রেসিডেন্সির প্রথম বছরেই বিশ্বের ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামোতে (global geopolitical and economic order) বড়সড় ফাটল ধরেছে।

বিশ্বনেতারা কে, কী বলছেন

ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট (French President) ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ (Emmanuel Macron) বলেনইউরোপীয় ইউনিয়নের (EU) উচিত নয়, সবচেয়ে শক্তিশালীর কথার কাছে মাথা নত করা। তাঁর মতেযুক্তরাষ্ট্রের (United States) বিরুদ্ধে ইইউ-কে ‘বলপ্রয়োগবাদ বিরোধী নীতি’ (anti-coercion instrument) ব্যবহারের কথা ভাবতে হচ্ছে। এটাই প্রমাণ করে পরিস্থিতি কতটা অস্বাভাবিক। ম্যাক্রোঁ আরও বলেনআমাদের বেশি করে একতা দরকারবেশি স্থিতিশীলতা দরকার। আমরা কথায় কথায় হেনস্তার (bullies) বদলে সম্মান চাইআর নৃশংসতার বদলে আইনের শাসন (rule of law) চাই।

ফরাসি প্রেসিডেন্টের এই সোজাসাপ্টা ভাষাই দাভোস জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে ট্রাম্পের উপস্থিতিকে ঘিরে আগে থেকেই কূটনৈতিক উত্তেজনা (diplomatic tension) এবং বাজারে উদ্বেগ (market anxiety) তৈরি হয়েছে। সরাসরি ট্রাম্পের নাম না করেও ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট (European Commission President) উরসুলা ফন ডার লেয়েন (Ursula von der Leyen) বলেনবিশ্বব্যবস্থায় যে ভূকম্পনের মতো পরিবর্তন (seismic shifts) হচ্ছেতার মোকাবিলায় ইউরোপকে স্বাধীন পথ বেছে নিতে হবে। তিনি বলেনএটাই সময়, নতুন এক স্বাধীন ইউরোপ (independent Europe) গড়ে তোলার।

বেলজিয়ামের প্রধানমন্ত্রী (Belgium’s Prime Minister) বার্ট দে ওয়েভার (Bart De Wever) বলেন২৭ সদস্যের ইইউ এখন এক “মোড় ঘোরার জায়গায়” দাঁড়িয়ে আছে। ট্রাম্পকে তুষ্ট করে (appease Trump) ইউক্রেন যুদ্ধ (Ukraine war) নিয়ে সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা ইউরোপকে এক “খুব খারাপ অবস্থানে” এনে ফেলেছে। ডে ওয়েভারের মন্তব্য, “হাসিখুশি অনুগত (happy vassal) হওয়া এক কথাকিন্তু দুঃখী দাস (miserable slave) হওয়া আরেক।” গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ট্রাম্পের শুল্ক হুমকি (tariffs) প্রসঙ্গে তিনি বলেনএখন পিছিয়ে গেলে নিজ নিজ মর্যাদা হারাতে হবে। আমাদের একজোট হয়ে ট্রাম্পকে বলতে হবে, আপনি অধিকারের শেষ গণ্ডি (red lines) পেরিয়ে যাচ্ছেন।

সবচেয়ে কড়া মন্তব্য করেছেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী (Canadian Prime Minister) মার্ক কার্নি (Mark Carney)। তিনি বলেনআমেরিকা-নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা (global system of governance) এখন এক ভাঙনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। কার্নির ভাষায়আমরা কোনো রূপান্তরের মধ্যে নেইআমরা ভাঙনের মধ্যে আছি। তথাকথিত নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা (rules-based order) আসলে আংশিক সত্য ছিল। শক্তিশালীরা নিজেদের সুবিধামতো নিয়ম মানত না। তিনি আরও বলেনকানাডা পুরনো ব্যবস্থার সুবিধা পেয়েছিলএমনকী ‘আমেরিকান আধিপত্য’ (American hegemony) থেকেও। কিন্তু বাস্তব এখন ভিন্ন। তাঁর মতেএটা এমন এক বিশ্বযেখানে শক্তিধর রাষ্ট্রগুলো অর্থনৈতিক যোগাযোগকে (economic integration) চাপের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তিনি সতর্ক করে বলেনমাঝারি শক্তির দেশগুলোর (middle powers) আর ভাবার সুযোগ নেই যে নিয়ম মানলে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে, “তা আর হবে না,” স্পষ্ট ভাষায় বলেন তিনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের কৌশল কী হতে পারে

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নেতারা বৃহস্পতিবার ব্রাসেলসে (Brussels) জরুরি শীর্ষ বৈঠক (emergency summit) ডাকতে চলেছেন। ট্রাম্পের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি (trade deal) হওয়ার পর যেসব মার্কিন পণ্যের ওপর ৯৩ বিলিয়ন ইউরো শুল্ক স্থগিত ছিলসেগুলি ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে আবার কার্যকর হতে পারে। ম্যাক্রোঁ চাইছেনইইউ প্রথমবার তাদের ‘অ্যান্টি-কোয়ারশন ইনস্ট্রুমেন্ট’যাকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বলা হচ্ছে ‘ট্রেড বাজুকা’ (trade bazooka), ব্যবহার করুক। এতে মার্কিন সংস্থার জন্য সরকারি টেন্ডার (public tenders) বা ডিজিটাল পরিষেবা (tech platforms) সীমিত করা যেতে পারে।

আমেরিকার সঙ্গে সম্পর্ক তলাচ্ছে

গ্রিনল্যান্ড নিয়ে ডেনমার্কের (Denmark) সার্বভৌমত্ব (sovereignty) কেড়ে নেওয়ার ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় ইউরোপের সঙ্গে আমেরিকার সম্পর্ক মারাত্মকভাবে তিক্ত (soured) হয়েছে। শুধু বাণিজ্য নয়নানা কূটনৈতিক ইস্যুতেও এই ফাটল স্পষ্ট। হাঙ্গেরি (Hungary) একমাত্র ইউরোপীয় দেশযারা ট্রাম্প ঘোষিত ‘বোর্ড অফ পিস’ (Board of Peace)-এ যোগ দিয়েছে। অন্যদিকে, ফ্রান্স এই নতুন সংস্থায় যোগ দিতে রাজি হয়নি। কারণ তারা মনে করছে এটি রাষ্ট্রসঙ্ঘের (United Nations) ভূমিকা দুর্বল করতে পারে।

যদিও এ নিয়ে ট্রাম্প রীতিমতো হুমকি দিয়েছেন। তিনি বলেছেনআমি ম্যাক্রোঁর ওয়াইন আর শ্যাম্পেনে (wines and champagnes) ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাবতখন দেখবেন সে যোগ দেবে। ট্রাম্প জানিয়েছেনদাভোস সফরে তিনি ন্যাটো মহাসচিব (NATO Secretary-General) মার্ক রুট্টে (Mark Rutte)-র সঙ্গে গ্রিনল্যান্ড নিয়ে বৈঠক করবেন। কিন্তু বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ অনেক দেশই সেই বৈঠকে যোগ দিচ্ছে না। ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী সুইৎজারল্যান্ডের স্কি-রিসর্ট দাভোসেই আসেননি ট্রাম্পকে এড়াতে। আর ম্যাক্রোঁও ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা না করেই সুইৎজারল্যান্ড (Switzerland) ছেড়ে চলে যান।

সব মিলিয়েদাভোসে উঠে আসা বার্তাটিতে স্পষ্ট— গ্রিনল্যান্ড শুধু একটি দ্বীপ নয়এটি এখন সেই প্রতীকযার মাধ্যমে বিশ্বনেতারা ঘোষণা করে দিলেনট্রাম্প-যুগে আমেরিকা আর এককভাবে বিশ্বের চালকের আসনে নেই।


```