মাদুরো গ্রেফতারের পর ভেনেজুয়েলায় রাজনৈতিক পালাবদলের আশা জেগেছিল। তবু কেন আমেরিকার সমর্থন পেলেন না বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদো?

ছবি: এআই
শেষ আপডেট: 6 January 2026 23:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার (Venezuela) প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) গভীর রাতে মার্কিন বিশেষ বাহিনীর অভিযানে আটক করার পর দেশটির রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের আশা তৈরি হয়েছিল। অনেকেই ভেবেছিলেন, দীর্ঘদিনের বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর (Maria Corina Machado) হাতেই এবার ক্ষমতার ভার তুলে দেবে আমেরিকা। কিন্তু সেই আশা খুব দ্রুতই ভেঙে পড়ে।
মাদুরোকে আটক করার পরই স্পষ্ট করে দেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump), মাচাদোর নেতৃত্বে তিনি ভরসা রাখতে চান না। ট্রাম্পের কথায়, “ওঁর পক্ষে দেশের নেতৃত্ব দেওয়া খুব কঠিন হবে। দেশের ভিতরে ওঁর যথেষ্ট সমর্থন বা সম্মান নেই। খুব ভাল মানুষ, কিন্তু নেতৃত্ব দেওয়ার মতো গ্রহণযোগ্যতা নেই।”
৫৮ বছরের মারিয়া কোরিনা মাচাদো গত দু’দশকের বেশি সময় ধরে মাদুরোর সবচেয়ে কড়া সমালোচক। ২০২৩ সালে বিরোধী শিবিরের প্রাইমারিতে ৯৩ শতাংশ ভোট পেয়ে জয়ী হলেও অনেকের কাছেই তিনি ছিলেন ‘অতি কট্টর’। এরপরই মাদুরো সরকার তাঁকে সরকারি পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে নিষিদ্ধ করে। ফলে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেননি মাচাদো। তার বদলে তিনি সমর্থন জানান অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক এডমুন্ডো গনসালেসকে। যদিও সেই নির্বাচনে মাদুরো নিজেকেই বিজয়ী ঘোষণা করেন। বিরোধীরা ভোটে কারচুপির অভিযোগ তুলে ফলাফল মানতে অস্বীকার করে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যেই অক্টোবরে মারিয়া কোরিনা মাচাদো নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটির বক্তব্য ছিল, “স্বৈরতন্ত্রের অন্ধকারে গণতন্ত্রের আগুন জ্বালিয়ে রাখার জন্য” তাঁকে এই সম্মান দেওয়া হয়েছে। পুরস্কারটি তিনি উৎসর্গ করেন ডোনাল্ড ট্রাম্পকে, যিনি নোবেল পাওয়ার ব্যাপারে নিজের আগ্রহ কখনওই গোপন করেননি।
তবে এতদিন সম্পর্ক গড়ে তোলার পরও সংকটের মুহূর্তে ট্রাম্পের সমর্থন পাননি মাচাদো। সোমবার ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, অক্টোবরের পর আর ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর কোনও কথা হয়নি। এমনকি মাদুরোকে আটক করার অভিযানের বিষয়েও তিনি আগে কিছু জানতেন না।
নোবেল পুরস্কার নিতে গত মাসে নরওয়ে গিয়েছিলেন মাচাদো। তারপর আর ভেনেজুয়েলায় ফেরেননি। যদিও তাঁর দাবি, যত দ্রুত সম্ভব দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে। এই সাক্ষাৎকারেই তিনি মার্কিন অভিযানের প্রশংসা করে বলেন, “এটা মানবতা, স্বাধীনতা ও মানব মর্যাদার জন্য এক বিশাল পদক্ষেপ।” ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে আবারও বলেন, নোবেল পুরস্কার ভাগ করে নিতে তিনি প্রস্তুত, কারণ ট্রাম্প ‘এই সম্মানের যোগ্য’।
তবে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে ট্রাম্প কেন শেষ মুহূর্তে সরে এলেন? নিউ ইয়র্ক টাইমসের রিপোর্ট অনুযায়ী, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলির ধারণা ছিল, বিরোধী শিবির ক্ষমতায় এলে কার্যকরভাবে দেশ চালাতে পারবে না। পাশাপাশি, ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে মাচাদোর সম্পর্কও ধীরে ধীরে খারাপ হচ্ছিল। ওয়াশিংটন পোস্টের দাবি, নোবেল পুরস্কার গ্রহণ করায় ট্রাম্প ক্ষুব্ধ হন এবং এরপরই তাঁর আগ্রহ কমে যায়।
বর্তমানে ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন মাদুরোর ভাইস-প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ। মার্কিন প্রশাসনের মতে, তাঁর সঙ্গে কাজ করাই আপাতত বেশি বাস্তবসম্মত। তেল শিল্পের বড় সংস্থাগুলিও তাঁকেই পছন্দ করছে।
সব মিলিয়ে স্পষ্ট, ভেনেজুয়েলায় দ্রুত গণতন্ত্র ফেরানো এখনই ওয়াশিংটনের অগ্রাধিকার নয়। মার্কিন বিদেশসচিব মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, “এই ধরনের পরিবর্তন সময়সাপেক্ষ।” তাঁর কথায়, আপাতত আমেরিকার জাতীয় স্বার্থই সবার আগে, আর সম্পূর্ণ শাসনব্যবস্থা বদলাতে গেলে দীর্ঘমেয়াদি সামরিক উপস্থিতি প্রয়োজন হতে পারে।