পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ যশোর জেলার মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকজন যুবক তাঁকে আইস ফ্যাক্টরি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই কাছের একটি গলিতে তাঁকে গুলি করা হয়।

নিহত সাংবাদিক
শেষ আপডেট: 5 January 2026 21:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বাংলাদেশে (Bangladesh) ফের এক হিন্দু নাগরিকের (Minority Citizen) হত্যার ঘটনা ঘিরে চাঞ্চল্য। যশোরের মনিরামপুর উপজেলায় সোমবার সন্ধ্যায় গুলি করে খুন করা হল ৪৫ বছরের রানা প্রতাপকে (Rana Pratap)। তিনি একদিকে আইস ফ্যাক্টরির মালিক (Owner of Ice Factory), অন্যদিকে একটি আঞ্চলিক দৈনিকের ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক (Journalist) ছিলেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টা নাগাদ যশোর জেলার (Jessore) মনিরামপুর উপজেলার কপালিয়া বাজার এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের দাবি, কয়েকজন যুবক তাঁকে আইস ফ্যাক্টরি থেকে ডেকে বাইরে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণের মধ্যেই কাছের একটি গলিতে তাঁকে গুলি করা হয়।
মনিরামপুর থানার পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সাতটি গুলির খোসা উদ্ধার করেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য অনুযায়ী, হামলাকারীরা মোটরবাইকে এসেছিল। প্রথমে কথাকাটাকাটি, তার পর খুব কাছ থেকে গুলি চালানো হয়। মাথায় একাধিক গুলি লাগে রানা প্রতাপের।
মনোহরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আখতার ফারুক মিন্টু জানিয়েছেন, রানা প্রতাপ কেশবপুর উপজেলার আরুয়া গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর বাবা পেশায় শিক্ষক ছিলেন। গত দু’বছর ধরে কপালিয়া বাজার এলাকায় একটি আইস ফ্যাক্টরি চালাচ্ছিলেন তিনি।
রানা প্রতাপ নারাইল জেলা থেকে প্রকাশিত দৈনিক ‘বিডি খবর’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক মামলা ছিল বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি। যদিও পত্রিকার নিউজ এডিটর আবুল কাসেম জানিয়েছেন, ওই সমস্ত মামলায় তিনি পরে খালাস পেয়েছিলেন। তাঁর কথায়, “কী কারণে এই খুন, তা আমরা এখনও বুঝে উঠতে পারছি না।”
অন্যদিকে, বিএনপির স্থানীয় নেতা জাহাঙ্গীর আলম দাবি করেছেন, রানা প্রতাপ একটি চরমপন্থী সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন এবং বিভিন্ন বিবাদে জড়িয়ে পড়তেন। যদিও এই অভিযোগের সত্যতা সরকারি ভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।
মনিরামপুর থানার ওসি রাজিউল্লাহ খান জানিয়েছেন, দেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। “কারা এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্ত চলছে,” বলেন তিনি।
এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা এমন এক সময় সামনে এল, যখন গত ডিসেম্বর থেকে বাংলাদেশে একাধিক হিন্দু নাগরিকের উপর হামলা, ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ উঠে এসেছে। সোমবারই এক হিন্দু মহিলাকে গণধর্ষণ করে গাছে বেঁধে চুল কেটে নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলি মুহাম্মদ ইউনুসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন আরও জোরালো করেছে, বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।
বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ যে এখনও কাটেনি, যশোরের এই ঘটনা তারই আরেকটি রক্তাক্ত স্মারক হয়ে থাকল।