সোনালির (Sonali Khatun) এই বিপদের শুরু জুন মাসে। দিল্লির রোহিণীর যেখানে তিনি থাকতেন, সেখান থেকেই ১৭ জুন তাঁকে, তাঁর স্বামীকে এবং ছেলেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
.jpeg.webp)
ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 5 January 2026 20:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুত্র সন্তানের জন্ম দিলেন সোনালি খাতুন (Sonali Khatun gives birth to baby boy)। ছ’মাস আগে ‘বাংলাদেশি’ সন্দেহে জোর করে বাংলাদেশে পাঠানো হয়েছিল অন্তঃসত্ত্বা সোনালি খাতুনকে। দীর্ঘ আইনি লড়াই শেষে গত ডিসেম্বর মাসে ফিরে আসেন নিজের মাতৃভূমিতে। সোমবার বীরভূমের রামপুরহাট মেডিক্যাল কলেজে এক ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম দিলেন সোনালি (Sonali Khatun)। তাঁকে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee)। মঙ্গলবার সোনালির (যদিও তাঁর আধার কার্ডে নাম রয়েছে সুনালী খাতুন) সঙ্গে দেখা করতে যাবেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার নিজের এক্স হ্যান্ডেলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhishek Banerjee) লিখেছেন, “সোনালি খাতুন সুস্থ এক পুত্রসন্তানের জন্ম দিয়েছেন, এটি সত্যিই আনন্দের খবর। তাঁর সঙ্গে যে অন্যায় হয়েছিল, সেই বাধা পেরিয়ে এই সুখবরের তাৎপর্য অনেক। তিনি অভিযোগ করেন, “দিল্লি পুলিশ এবং কেন্দ্রীয় সরকার তাঁকে মিথ্যা অভিযোগে বাংলাদেশি বলে চিহ্নিত করে জোর করে বাংলাদেশে পাঠিয়েছিল।”
I am deeply moved and genuinely heartened to learn that Sunali Khatun has given birth to a healthy baby boy at Rampurhat Medical College, Birbhum. This moment of joy feels even more profound against the backdrop of the injustice she was subjected to. In a shocking abuse of power,…
— Abhishek Banerjee (@abhishekaitc) January 5, 2026
অভিষেকের মতে, গত বছর সোনালির সঙ্গে অমানবিক আচরণ করা হয়েছিল। তিনি লেখেন, “এই ভোগান্তি কোনও নাগরিকেরই প্রাপ্য নয়। কিন্তু সোনালি যে সাহস এবং মানসিক শক্তি দেখিয়েছেন, সেটাই মানবতার জয়।” তিনি জানান, মঙ্গলবার বীরভূম সফরে গিয়ে হাসপাতালে সোনালি এবং তাঁর নবজাতকের সঙ্গে দেখা করবেন।
কীভাবে ঘটেছিল গোটা ঘটনা
সোনালির (Sonali Khatun) এই বিপদের শুরু জুন মাসে। দিল্লির রোহিণীর যেখানে তিনি থাকতেন, সেখান থেকেই ১৭ জুন তাঁকে, তাঁর স্বামীকে এবং ছেলেকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। অভিযোগ, তাঁরা বাংলা ভাষায় কথা বলায় বাংলাদেশি মনে করে ধরে ফেলা হয়। পরে ২৬ জুন অন্তঃসত্ত্বা সোনালি-সহ কয়েক জনকে বাংলাদেশে ‘পুশ ব্যাক’ করে দেওয়া হয়।
বাংলাদেশে (Bangladesh) গিয়ে আরও বিপাকে পড়েন অন্তঃসত্ত্বা মহিলা। ২০ অগস্ট তাঁকে ‘অনুপ্রবেশকারী’ বলে গ্রেফতার করে চাঁপাই নবাবগঞ্জ থানার পুলিশ। কয়েকমাস সেখানেই আটক থাকতে হয়েছে তাঁকে।
জল গড়ায় আদালত পর্যন্ত। কলকাতা হাইকোর্ট (Calcutta High Court) নির্দেশ দেয়, চার সপ্তাহের মধ্যে সোনালিকে ভারতে ফিরিয়ে আনার। কেন্দ্রীয় সরকার সেই নির্দেশ মানেনি, ফলে আদালত অবমাননার অভিযোগ ওঠে। পরে কেন্দ্র সুপ্রিম কোর্টে (Supreme Court) যায়। শীর্ষ আদালত তাঁদের দেশে ফিরিয়ে আনার নির্দেশ দেয়। সেই নির্দেশ মেনে ২০২৫ সালের ৬ ডিসেম্বর সোনালি ও তাঁর আট বছরের ছেলেকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়। দেশে ফিরেই তাঁকে রামপুরহাট মেডিক্যালে ভর্তি করা হয় প্রয়োজনীয় চিকিৎসার জন্য।
যদিও সোনালি খাতুন এবং তাঁর ছেলে ফিরে এসেছেন, তবে আরও চারজন এখনও বাংলাদেশেই আটকে রয়েছেন। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন সোনালির স্বামীও। তাঁদের প্রত্যাবর্তনের দাবিতে সুপ্রিম কোর্ট এবং কলকাতা হাইকোর্টে মামলা চলছে। তবে তাঁর স্বামীর ফিরে আসা নিয়ে এখনও অনিশ্চয়তা কাটেনি।