কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিতা আনন্দকে নতুন বিদেশমন্ত্রী করলেন।

অনিতা আনন্দ।
শেষ আপডেট: 14 May 2025 14:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মন্ত্রিসভায় ব্যাপক রদবদল। কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নে ভারতীয় বংশোদ্ভূত অনিতা আনন্দকে নতুন বিদেশমন্ত্রী করলেন। মেলানি জোলিকে শিল্প মন্ত্রকে সরিয়ে বিদেশমন্ত্রীর চেয়ার দেওয়া হয়েছে অনিতা। আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও রাজনীতিক আনন্দ হলেন কানাডার প্রথম ক্যাবিনেট পদমর্যাদার হিন্দু মন্ত্রী।
ভগবদ্গীতার উপর হাত রেখে শপথ নেওয়ার পর এক্সবার্তায় অনিতা আনন্দ তাঁর আনন্দ-উচ্ছ্বাসের কথা ব্যক্ত করেছেন। তিনি লিখেছেন, কানাডার বিদেশমন্ত্রী হতে পেরে আমি নিজেকে সম্মানিত বোধ করছি। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়ে গর্বিত। আমাদের সরকার প্রতিটি কানাডাবাসীর জন্য একটি সুরক্ষিত, স্বচ্ছ পৃথিবী গড়ে তুলতে অঙ্গীকারবদ্ধ।
মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী কার্নে ৩৮ সদস্যের মন্ত্রিসভা গঠন করেন। যার মধ্যে ২৮ জন মন্ত্রী ও ১০ জন প্রতিমন্ত্রী রয়েছেন। মন্ত্রিসভার শপথের পর প্রধানমন্ত্রী সরকারের অগ্রাধিকারের কথা ঘোষণা করেন। তিনি বলেন, নয়া অর্থনীতি এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক, দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং অর্থনীতিতে দেশকে আরও শক্তিশালী করে তোলা হবে।
কে অনিতা আনন্দ?
অনিতা আনন্দ পেশায় আইনজীবী। এছাড়াও দেশের অন্যতম শিক্ষাবিদ হিসেবেও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। রাজনীতিক হিসেবে তিনি এর আগে প্রতিরক্ষামন্ত্রী, পরিবহণ মন্ত্রী এবং ইনোভেশন, সায়েন্স ও শিল্পমন্ত্রকের দায়িত্ব সামলেছেন। আনন্দের জন্ম ১৯৬৭ সালের ২০ মে, নোভা স্কটিয়ার কেন্টভিলে-তে। পুরো নাম অনিতা ইন্দিরা আনন্দ। ১৯৬০ সালে তাঁর ভারতীয় বংশোদ্ভূত ডাক্তার বাবা-মা কানাডায় স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। অনিতা আনন্দের মা সরোজ পাঞ্জাবি এবং বাবা এসভি আনন্দ তামিলনাডু়র বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর ঠাকুরদা ভিএ সুন্দরম ছিলেন স্বাধীনতা সংগ্রামী। তাঁর দুই বোন গীতা আইনজীবী ও সনিয়া ডাক্তার।
লিবারেল পার্টি ওয়েবসাইটের তথ্য অনুযায়ী, তিনি মেধাবী গবেষক। চার সন্তানের মা। কুইনস বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাম্মানিক স্নাতক। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনেও স্নাতক করেছেন। এরপরেও ডালহৌসি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইন এবং টরন্টো বিশ্ববিদ্যালয় স্নাতকোত্তর পাশ করেন। আনন্দ কোভিড-১৯ এর সময় কানাডার পাবলিক সার্ভিস অ্যান্ড প্রকিওরমেন্ট মন্ত্রী ছিলেন। রাজনীতিতে যোগদানের আগে কানাডার বেশ কয়েকটি সুনামের অধিকারী কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন পড়াতেন।