Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
পয়লা বৈশাখেই কালবৈশাখীর দুর্যোগ! মাটি হতে পারে বেরনোর প্ল্যান, কোন কোন জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাসমেয়েকে শ্বাসরোধ করে মেরে আত্মঘাতী মহিলা! বেঙ্গালুরুর ফ্ল্যাটে জোড়া মৃত্যু ঘিরে ঘনীভূত রহস্য UCL: চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ চারে পিএসজি-আতলেতিকো, ছিটকে গেল বার্সা-লিভারপুল‘ইরানকে বিশ্বাস নেই’, যুদ্ধবিরতির মাঝে বিস্ফোরক জেডি ভ্যান্স! তবে কি ভেস্তে যাবে শান্তি আলোচনা?১৮০ নাবালিকাকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে শোষণ! মোবাইলে মিলল ৩৫০ অশ্লীল ভিডিও, ধৃতের রয়েছে রাজনৈতিক যোগ ৩৩ বছর পর মুখোমুখি ইজরায়েল-লেবানন! ওয়াশিংটনের বৈঠকে কি মিলবে যুদ্ধবিরতির সমাধান?ইউরোপের আদালতে ‘গোপনীয়তা’ কবচ পেলেন নীরব মোদী, জটিল হচ্ছে পলাতক ব্যবসায়ীর প্রত্যর্পণ-লড়াইইরানের সঙ্গে সংঘাত এবার শেষের পথে? ইঙ্গিত ভ্যান্সের কথায়, দ্বিতীয় বৈঠকের আগে বড় দাবি ট্রাম্পেরওIPL 2026: টানা চতুর্থ হারে কোণঠাসা কেকেআর, ৩২ রানে ম্যাচ জিতল সিএসকে‘ভূত বাংলো’য় সেন্সর বোর্ডের কাঁচি! বাদ গেল ৬৩টি দৃশ্য, ছবির দৈর্ঘ্য কমতেই চিন্তায় অক্ষয়

অবৈধ অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় আমেরিকা ছাড়লে ২.৬৮ লক্ষ টাকা, দেশে ফেরার খরচও দেবে ট্রাম্প প্রশাসন

পাশাপাশি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে থাকার জন্য যে নাগরিক জরিমানা বা আর্থিক দণ্ড ধার্য হয়, সেগুলিও মকুব করা হবে।

অবৈধ অভিবাসীরা স্বেচ্ছায় আমেরিকা ছাড়লে ২.৬৮ লক্ষ টাকা, দেশে ফেরার খরচও দেবে ট্রাম্প প্রশাসন

পৃথা ঘোষ

শেষ আপডেট: 23 December 2025 11:30

দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বেচ্ছায় আমেরিকা (America) ছাড়লে এবার মিলবে আরও বড় অঙ্কের 'বোনাস'। অবৈধভাবে বসবাসকারী অভিবাসীদের জন্য স্বেচ্ছা-নির্বাসনের (self-deportation) বোনাস তিনগুণ বাড়িয়ে ৩,০০০ ডলার করার ঘোষণা করল মার্কিন স্বরাষ্ট্র দফতর (Department of Homeland Security বা DHS)। এর পাশাপাশি দেওয়া হবে বিনামূল্যের বিমানের টিকিট, যাতে অভিবাসীরা নিজেদের দেশে ফিরে যেতে পারেন।

সোমবার প্রকাশিত এক বিবৃতিতে DHS জানিয়েছে, যেসব নথিহীন অভিবাসী ৩১ ডিসেম্বরের আগে CBP One অ্যাপে নাম নথিভুক্ত করে স্বেচ্ছা-নির্বাসনের জন্য আবেদন করবেন, তাঁরা এই নগদ বোনাস পাওয়ার যোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। শুধু তাই নয়, তাঁদের দেশে ফেরার সমস্ত খরচও বহন করবে মার্কিন সরকার। পাশাপাশি, ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও দেশে থাকার জন্য যে নাগরিক জরিমানা বা আর্থিক দণ্ড ধার্য হয়, সেগুলিও মকুব করা হবে।

স্বেচ্ছা-নির্বাসন প্রক্রিয়া কীভাবে কাজ করে?

DHS জানিয়েছে, স্বেচ্ছা-নির্বাসন একটি দ্রুত, বিনামূল্যের এবং সহজ প্রক্রিয়া। এর জন্য সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে শুধু CBP One অ্যাপ ডাউনলোড করতে হবে, প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে হবে এবং নিজের ভ্রমণের ব্যবস্থা করার দায়িত্ব দফতরের হাতে ছেড়ে দিতে হবে। যাত্রার পুরো খরচই বহন করবে সরকার।

তবে যারা এই সুযোগ নিচ্ছেন না, তাঁদের জন্য কড়া বার্তাও দিয়েছে স্বরাষ্ট্র দফতর। DHS স্পষ্ট জানিয়েছে, স্বেচ্ছা-নির্বাসনে রাজি না হলে সংশ্লিষ্ট অভিবাসীদের গ্রেফতার করা হবে, জোর করে দেশছাড়া করা হবে এবং ভবিষ্যতে স্থায়ীভাবে আমেরিকায় প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হবে।

এই বাড়তি বোনাস মূলত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বে চলা কঠোর অভিবাসন অভিযানেরই অংশ। দ্বিতীয় দফার শাসনকালে ট্রাম্প প্রশাসনের অন্যতম প্রধান নীতি হয়ে উঠেছে অভিবাসন আইন আরও কড়াভাবে কার্যকর করা।

DHS-এর হিসেব অনুযায়ী, এই স্বেচ্ছা-নির্বাসন কর্মসূচি চালু হলে নির্বাসনের খরচ প্রায় ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। চলতি বছরের মে মাস পর্যন্ত এক জন অবৈধ অভিবাসীকে গ্রেফতার, আটক ও দেশছাড়া করতে গড়ে ১৭,১২১ ডলার খরচ হচ্ছিল সরকারের।

‘সীমিত সময়ের সুযোগ’, বললেন মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিব

মার্কিন স্বরাষ্ট্র সচিব ক্রিস্টি নোম এই ঘোষণাকে “সীমিত সময়ের সুযোগ” বলে উল্লেখ করেছেন। ছুটির মরশুমের কথা মাথায় রেখেই এই বাড়তি বোনাস দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।

নোমের কথায়, “মার্কিন করদাতাদের অর্থে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার বোনাস তিনগুণ বাড়ানো হয়েছে। অবৈধ অভিবাসীদের এই উপহার কাজে লাগানো উচিত।”

তিনি আরও হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “যদি তাঁরা তা না করেন, আমরা তাঁদের খুঁজে বের করব, গ্রেফতার করব এবং তাঁরা আর কখনও আমেরিকায় ফিরতে পারবে না।”

DHS-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ১৯ লক্ষ অবৈধ অভিবাসী স্বেচ্ছায় আমেরিকা ছেড়েছেন। এর মধ্যে কয়েক হাজার মানুষ CBP Home কর্মসূচির মাধ্যমে দেশে ফিরেছেন। দফতর জানিয়েছে, এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীরা ভিসা লঙ্ঘন বা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে দেশ না ছাড়ার জন্য ধার্য সমস্ত নাগরিক জরিমানা থেকেও রেহাই পাচ্ছেন।

চলতি বছরের শুরুতেই CBP Home অ্যাপের মাধ্যমে আর্থিক ও ভ্রমণ সহায়তা চালু করেছিল মার্কিন প্রশাসন। তখন স্বেচ্ছা-নির্বাসনের পর দেশে ফেরার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ১,০০০ ডলার দেওয়া হত। এবার সেই অঙ্কই বেড়ে দাঁড়াল ৩,০০০ ডলারে।

মার্কিন প্রশাসন সূত্রে খবর, ২০২৬ সালে আরও কঠোর অভিবাসন অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার। এর জন্য ইতিমধ্যেই বরাদ্দ হয়েছে কয়েক বিলিয়ন ডলার। পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে হাজার হাজার নতুন অভিবাসন আধিকারিক নিয়োগ, আটক কেন্দ্রের ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথভাবে বৈধ কাগজপত্র না থাকা অভিবাসীদের চিহ্নিত করার উদ্যোগ।


```