ট্রাম্প এতদিন নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপাতে দ্বিধায় ছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, পুতিনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির পথ খুলবে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার টেলিফোনে কথোপকথনের পর থেকে মাত্র ছয় দিনের মধ্যে ট্রাম্পের ধৈর্য ফুরিয়ে যায়।

ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ভ্লাদিমির পুতিন
শেষ আপডেট: 23 October 2025 07:54
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইউক্রেন যুদ্ধ (Russia Ukraine War) নিয়ে আলোচনায় রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন (Vladimir Putin) ‘সৎ ও স্পষ্ট’ আচরণ করেননি - এই অভিযোগে রাশিয়ার দুই বৃহত্তম তেল সংস্থা (Russian Oil Firms), রসনেফট ও লুকওইলের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা (Sanction) জারি করল মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। বুধবার এই ঘোষণা করেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট।
নিষেধাজ্ঞার এই সিদ্ধান্ত আসে একদিন পর, যখন বুদাপেস্টে নির্ধারিত ট্রাম্প-পুতিন বৈঠক (Trump-Putin Meeting) বাতিল করে ওয়াশিংটন জানায়, যুদ্ধবিরতি আলোচনায় মস্কোর সঙ্গে কোনও অগ্রগতি হয়নি।
বেসেন্ট বলেন, “পুতিন এই অর্থহীন যুদ্ধ শেষ করতে অস্বীকার করেছেন। তাই ক্রেমলিনকে (Kremlin) অর্থ জোগানো দুই বৃহত্তম তেল সংস্থাকে নিষিদ্ধ করা হচ্ছে।” তিনি সতর্ক করে দেন, প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত ট্রেজারি বিভাগ। এদিকে, সংবাদমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে বেসেন্ট বলেন, “রাশিয়ার বিরুদ্ধে আমরা যতগুলি বড় নিষেধাজ্ঞা নিয়েছি, এটি তার অন্যতম।”
সূত্রের খবর, ট্রাম্প এতদিন নতুন নিষেধাজ্ঞা চাপাতে দ্বিধায় ছিলেন। তিনি আশা করেছিলেন, পুতিনের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে যুদ্ধবিরতির পথ খুলবে। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার টেলিফোনে কথোপকথনের পর থেকে মাত্র ছয় দিনের মধ্যে ট্রাম্পের ধৈর্য ফুরিয়ে যায়।
বেসেন্ট বলেন, “আমরা ভেবেছিলাম পুতিন সৎভাবে আলোচনায় আসবেন। কিন্তু সেটা হয়নি।” তিনি আরও জানান, গত অগস্টে আলাস্কায় দুই নেতার বৈঠকে ট্রাম্প বুঝতে পারেন আলোচনা কোনও দিকেই এগোচ্ছে না, তাই তিনি বৈঠক ছেড়ে বেরিয়ে আসেন।
একই দিনে ইউরোপীয় ইউনিয়নও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২৭ সালের মধ্যে রুশ তরল প্রাকৃতিক গ্যাস আমদানি নিষেধ, রাশিয়ার তেল ট্যাঙ্কার ব্ল্যাকলিস্ট করা এবং রুশ কূটনীতিকদের ভিসা সীমাবদ্ধতা।
এ বছর জানুয়ারিতে আবার ক্ষমতায় ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প বারবার রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, কিন্তু বাস্তবে তা স্থগিত রেখেছিলেন আলোচনার আশায়। সম্প্রতি তিনি ইউক্রেন প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির ওপর চাপ বাড়িয়ে জানান, যুদ্ধবিরতির জন্য ইউক্রেনকেও কিছু অঞ্চল ছেড়ে দিতে হবে।
তবে মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, তিনি কোনও অর্থহীন বৈঠক করতে চান না! এই বলে পুতিনের সঙ্গে নির্ধারিত বৈঠক স্থগিত করেন।