এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, রুশ তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতকে অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়তে হবে। মার্কিন প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে চাপ বাড়াতে।

নরেন্দ্র মোদী এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প
শেষ আপডেট: 23 October 2025 07:36
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়ার থেকে তেল (Russian Crude Oil) আমদানির ইস্যুতে কদিন আগেই বিরাট দাবি করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। বলেছিলেন, নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তাঁকে কথা দিয়েছেন যে ভারত এই তেল কেনা ছেড়ে দেবে। এই বিষয়ে ফের মুখ খুলে কার্যত 'সময়সীমা' (Deadline) বলে দিলেন ট্রাম্প। কবে থেকে তেল কেনা বন্ধ করছে ভারত?
মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ব্যক্তিগত আশ্বাসে চলতি বছরের শেষের মধ্যেই ভারত রাশিয়া থেকে তেল আমদানি ‘প্রায় শূন্যে’ নামিয়ে আনবে। হোয়াইট হাউসে (White House) ন্যাটো সেক্রেটারি জেনারেল মার্ক রুটের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, “ভারত আমাকে জানিয়েছে তারা তেল কেনা বন্ধ করে দেবে। তবে এটা একদিনে সম্ভব নয়, ধীরে ধীরে হবে। বছরের শেষে তারা প্রায় কিছুই আমদানি করবে না - এটা বড় ব্যাপার।”
বর্তমানে ভারতের মোট অপরিশোধিত তেল আমদানির প্রায় ৪০ শতাংশই আসে রাশিয়া (Russia) থেকে। ট্রাম্প বলেন, “ভারত দারুণ কাজ করছে। কালই মোদীর সঙ্গে কথা বলেছি। উনি আশ্বাস দিয়েছেন, রুশ তেলের ওপর নির্ভরতা দ্রুত কমবে।”
দীপাবলির (Diwali 2025) দিন মোদীর সঙ্গে ফোনালাপের পর ট্রাম্প জানিয়েছিলেন, দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যই ছিল আলোচনার মূল বিষয়। মোদীও পরের দিন উষ্ণ প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “দুটি মহান গণতন্ত্র একসঙ্গে বিশ্বকে আলোকিত করবে বিশ্বাস ও উন্নতির পথে।”
এর আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন, রুশ তেল কেনা বন্ধ না করলে ভারতকে অতিরিক্ত শুল্কের মুখে পড়তে হবে। মার্কিন প্রশাসন ইতিমধ্যেই ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক বসিয়েছে, রাশিয়ার সঙ্গে জ্বালানি বাণিজ্যে চাপ বাড়াতে।
যদিও এরই মধ্যে বড় খবর সামনে এসেছে। এক রিপোর্ট বলছে, ভারতীয় পণ্যে আমেরিকার শুল্ক (USA Tariff) ৫০ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ১৫–১৬ শতাংশে নামতে পারে।
সর্বভারতীয় এক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, দুই রাষ্ট্রের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন হলে ভারতীয় পণ্যে আমেরিকার শুল্ক (USA Tariff) ৫০ শতাংশ থেকে কমে প্রায় ১৫–১৬ শতাংশ হতে পারে।
সূত্রের খবর, ট্রাম্প এবং মোদীর আলোচনার মূল ফোকাস ছিল জ্বালানি ও কৃষি খাতে সহযোগিতা জোরদার করা। এই চুক্তির অংশ হিসেবে ভারত ধীরে ধীরে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির পরিমাণ কমাতে পারে - যা ওয়াশিংটনের লক্ষ্য।
কূটনৈতিক সূত্রের দাবি, উভয় দেশই আলোচনার শেষ ধাপে রয়েছে এবং এ মাসের শেষের দিকে আয়োজিত আসিয়ান সম্মেলনের আগেই চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। সেক্ষেত্রে সেই আন্তর্জাতিক মঞ্চেই আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তির ঘোষণা হওয়ার সম্ভাবনা প্রবল। যদিও এখনও পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে হোয়াইট হাউস বা নয়াদিল্লি কোনও বক্তব্য রাখেনি।