প্রসঙ্গত, কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ ভেনেজুয়েলা। সেখানকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে গ্রেফতার করার পরই কমিউনিস্ট-শাসিত কিউবার বিরুদ্ধে জ্বালানি অবরোধ জারি করে ওয়াশিংটন। এর ফলে দ্বীপরাষ্ট্রটির জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে।

শেষ আপডেট: 6 March 2026 08:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় চলা সংঘাতের (Middle East war) মাঝেই মার্কিন বিদেশনীতি (US foreign policy) নিয়ে নতুন ইঙ্গিত দিলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (Donald Trump)। তাঁর বক্তব্য, আপাতত আমেরিকার প্রধান লক্ষ্য ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া যুদ্ধ শেষ করা। তবে সেই সংঘাত মিটে গেলে খুব দ্রুতই ওয়াশিংটনের নজর ঘুরে যেতে পারে কিউবা (Cuba)-র দিকে।
হোয়াইট হাউসে এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে এই মন্তব্য করেন ট্রাম্প (Trump Iran war Cuba statement)। সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন মেজর লিগ সকারের চ্যাম্পিয়ন ক্লাব ইন্টার মায়ামি সিএফ (Inter Miami CF)-এর খেলোয়াড় ও কর্মকর্তারা। সেখানে বক্তব্য রাখতে গিয়েই মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট করে দেন, আপাতত ইরান প্রশাসনের 'ফোকাস' (Trump Iran conflict update)।
ট্রাম্প বলেন, “আমরা প্রথমে এই যুদ্ধটাই শেষ করতে চাই। কিন্তু তারপর কিউবার বিষয়টি সামনে আসতে সময় লাগবে না। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই আপনারা এবং অসংখ্য অসাধারণ মানুষ আবার কিউবায় ফিরে যেতে পারবেন।”
ইতিমধ্যেই আমেরিকার জ্বালানি অবরোধের মুখে পড়েছে কিউবা। ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরান প্রসঙ্গের পর কিউবা ঘিরে একটি নতুন, যদিও এখনও অনির্দিষ্ট প্রকল্পের দিকে ঝুঁকতে পারে ওয়াশিংটন।
প্রসঙ্গত, কিউবার প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ ভেনেজুয়েলা। সেখানকার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো-কে গ্রেফতার করার পরই কমিউনিস্ট-শাসিত কিউবার বিরুদ্ধে জ্বালানি অবরোধ জারি করে ওয়াশিংটন। এর ফলে দ্বীপরাষ্ট্রটির জ্বালানি সরবরাহে বড় ধাক্কা লাগে।
সূত্রের খবর, গত ৯ জানুয়ারি থেকে কিউবায় নতুন করে তেল আমদানি হয়নি। জ্বালানির ঘাটতির প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে পরিবহণ ও বিমান পরিষেবায়। বেশ কয়েকটি বিমান সংস্থা ফ্লাইট কমাতে বাধ্য হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন ধরেই অর্থনৈতিক সঙ্কটে জর্জরিত কিউবার পরিস্থিতি এই অবরোধের ফলে আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
কিউবা আলোচনা করতে মরিয়া, দাবি ট্রাম্পের
ট্রাম্পের দাবি, হাভানা ইতিমধ্যেই ওয়াশিংটনের সঙ্গে কোনও সমঝোতায় পৌঁছতে আগ্রহী। তাঁর কথায়, “কিউবা খুবই মরিয়া হয়ে চুক্তি করতে চাইছে।” তিনি আরও বলেন, অনেক কিউবান-আমেরিকান ভবিষ্যতে আবার নিজেদের দ্বীপে ফিরে যাবেন।
প্রেসিডেন্টের ভাষায়, “আমরা চাই আপনারা ফিরে আসুন। আমরা আপনাদের হারাতে চাই না।”
ইরান যুদ্ধ নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প
অনুষ্ঠানের মঞ্চ থেকেই ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাত নিয়ে আশাবাদী সুরে কথা বলেন ট্রাম্প। তাঁর দাবি, মার্কিন বাহিনী এবং ইজরায়েলি মিত্ররা দ্রুত অগ্রগতি করছে। “মার্কিন সেনাবাহিনী এবং আমাদের অসাধারণ ইজরায়েলি অংশীদাররা একসঙ্গে শত্রুকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিচ্ছে, নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই,” বলেন ট্রাম্প।
তিনি আরও দাবি করেন, ইরানের সামরিক শক্তি মারাত্মকভাবে দুর্বল হয়ে পড়েছে।
ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, “ওদের কোনও বিমানবাহিনী নেই, কোনও কার্যকর বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা নেই।” তাঁর দাবি, ইরানের নৌবাহিনীকেও কার্যত ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে এবং মাত্র তিন দিনের মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ২৪টি জাহাজ ধ্বংস করেছে।
তবে এই দাবিগুলির বিষয়ে বিস্তারিত কোনও তথ্য দেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট। পাশাপাশি স্বাধীনভাবে এই তথ্যগুলির সত্যতা তাৎক্ষণিকভাবে যাচাইও করা যায়নি।
ইরান আলোচনা চাইছে, দাবি মার্কিন প্রেসিডেন্টের
ট্রাম্প আরও বলেন, এখন নাকি ইরানের নেতৃত্বই যুদ্ধ শেষ করতে আলোচনা চায়। তাঁর কথায়, “ওরা ফোন করছে। বলছে, কীভাবে একটা চুক্তি করা যায়?”
তবে ট্রাম্প দাবি করেন, তিনি নাকি ইরানকে জানিয়েছেন যে তারা আলোচনার জন্য দেরি করে ফেলেছে। “আমি বলেছি, তোমরা একটু দেরি করে ফেলেছ। এখন আমরা লড়াই করতে চাই, তোমাদের থেকেও বেশি,” মন্তব্য করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
একই সঙ্গে ইরানের কূটনীতিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যারা সহযোগিতা করবে তারা ভবিষ্যতে একটি “নতুন এবং আরও ভাল ইরান” গড়ে তুলতে সাহায্য করতে পারে। তবে সংঘাত চলতে থাকলে তার ফল খুবই কঠোর হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি।
তেলের বাজার ও পরবর্তী পরিকল্পনা
আরব দুনিয়ার সংঘাত সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক তেলের বাজার মোটামুটি স্থিতিশীল রয়েছে বলেও দাবি করেছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, “তেলের বাজার মোটামুটি স্থির হয়ে গেছে। আগে দাম অনেক কম ছিল, কিন্তু এই সংঘাতের জন্য আমাকে সাময়িকভাবে অন্য দিকে মন দিতে হয়েছে।” তবে শক্তির বাজারে চাপ কমাতে নতুন কিছু পদক্ষেপ শীঘ্রই ঘোষণা করা হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
সব মিলিয়ে হোয়াইট হাউসের বার্তা স্পষ্ট, আপাতত ইরান যুদ্ধই যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান অগ্রাধিকার। তবে সেই সংঘাত মিটে গেলে খুব দ্রুতই ওয়াশিংটনের নজর দেবে কিউবার দিকে।