আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বাণিজ্য হুমকির মুখেও নতজানু হল না স্পেন। বরং স্পষ্ট ভাষায় যুদ্ধবিরোধী অবস্থান ঘোষণা করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ফের জানিয়ে দিলেন—“আমাদের অবস্থান মাত্র চারটি শব্দে— সে নো টু ওয়ার।”

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ
শেষ আপডেট: 4 March 2026 16:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কড়া বাণিজ্য হুমকির মুখেও নতজানু হল না স্পেন। বরং স্পষ্ট ভাষায় যুদ্ধবিরোধী অবস্থান ঘোষণা করে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ ফের জানিয়ে দিলেন—“আমাদের অবস্থান মাত্র চারটি শব্দে— সে নো টু ওয়ার।”
মঙ্গলবার রাতে জাতির উদ্দেশে টেলিভিশন ভাষণে সানচেজ বলেন, আন্তর্জাতিক আইনের অবমাননা করে একটি অবৈধ পদক্ষেপের জবাব দেওয়া যায় না। পশ্চিম এশিয়ায় বর্তমান পরিস্থিতিকে তিনি “একটি বিপর্যয়” বলেও উল্লেখ করেন।
কেন ক্ষুব্ধ ট্রাম্প?
ইরানের বিরুদ্ধে হামলার জন্য স্পেনের ভূখণ্ডে থাকা যৌথ সামরিক ঘাঁটি ব্যবহার করতে চেয়েছিল আমেরিকা। কিন্তু মোরোন ও রোটা ঘাঁটি ব্যবহার করার অনুমতি দেয়নি মাদ্রিদ। এর জবাবেই ট্রাম্প হুমকি দেন, স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে।
জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎসের সঙ্গে বৈঠকে ট্রাম্প বলেন, “স্পেন ভীষণ খারাপ আচরণ করেছে। আমরা স্পেনের সঙ্গে সব ধরনের বাণিজ্য বন্ধ করে দেব।”
কিন্তু তাতে বিন্দুমাত্র বিচলিত হয়নি স্পেন। প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন লা মঙ্কলোয়া থেকে দেওয়া ভাষণে সানচেজ বলেন, “একটি অবৈধ কাজের জবাবে আরেকটি অবৈধ কাজ করা যায় না।”
ইউক্রেন যুদ্ধ, গাজা সংঘাত এবং ২০০৩ সালের ইরাক যুদ্ধের প্রসঙ্গ টেনে পেদ্রো সতর্ক করেন—ইরানের উপর হামলার ফলেও বিশ্বের অর্থনীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনে বড় ধাক্কা আসতে পারে। সানচেজের কথায়, “যুদ্ধের ধোঁয়াশা ব্যবহার করে কেউ নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে পারে না।”
ট্রাম্প আরও অভিযোগ করেছেন, স্পেন ন্যাটো জোটের “ভালো অংশীদার নয়”। কারণ দেশটি প্রতিরক্ষা খাতে জিডিপির ৫ শতাংশ ব্যয় করার লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করেনি। তবে স্পেন সরকার জানিয়েছে, বর্তমান সংকটে দেশের অর্থনীতি যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সে জন্য প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক পদক্ষেপ বিবেচনা করা হচ্ছে।
সানচেজ স্পষ্ট করেছেন, ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের পাশে দাঁড়ানোর প্রশ্নই নেই। কিন্তু যুদ্ধের পরিবর্তে শান্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দাঁড়ানোই স্পেনের অবস্থান। তাঁর কথায়, “প্রশ্নটা এই নয় আমরা কার পাশে। প্রশ্নটা হল—আমরা কি শান্তি এবং আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে?”