বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার (South Asia) সমুদ্রপথে কয়েকশো মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ার তেল ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। এই তেল দ্রুত বাজারে এলে সরবরাহ বাড়বে এবং দামের চাপ কিছুটা কমবে।
.jpg.webp)
শেষ আপডেট: 8 March 2026 12:08
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরবদুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে (Middle East tension) ইরান হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) বন্ধ করে দিতেই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেল নিয়ে সঙ্কটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন অবস্থায় ভারতকে রুশ তেল কেনায় (Russian Oil Import) ছাড় দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানালে, যদি প্রয়োজন হয় তিনি বিশ্ববাজারে চাপ কমাতে জরুরি পদক্ষেপ নিতেও প্রস্তুত আছেন।
এক সাংবাদিকের সঙ্গে কথোপকথনে ট্রাম্প বলেন, "তেলের সঙ্কট যাতে তৈরি না হয়, তার জন্য যদি কিছু করার হয় আমি করব। আমাদের দেশের কাছে প্রচুর তেল আছে। এই পরিস্থিতি দ্রুত স্থিতিশীল হবে।"
গত শুক্রবার এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) জানান, রাশিয়ার তেল কিনতে ভারতের (India) মতো মিত্র দেশগুলিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে (Russian oil waiver India)। তাঁর কথায়, “ভারত দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। ওরা খুব ভাল অভিনেতা! আমরা তাদের রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে বলেছিলাম এবং তারা তা মেনেছিল।”
বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার (South Asia) সমুদ্রপথে কয়েকশো মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ার তেল ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। এই তেল দ্রুত বাজারে এলে সরবরাহ বাড়বে এবং দামের চাপ কিছুটা কমবে। এই প্রসঙ্গ তুলেই বেসেন্ট বলেছেন, "বিশ্বজুড়ে তেলের যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে হালকা চাপ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল বাজারে আনার জন্য এই অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে।"
এর আগে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের (Iran US Conflict) পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকা ঘোষণা করেছিল যে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলিকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এই অনুমতি শুধুমাত্র সেই তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা ইতিমধ্যেই ৫ মার্চ ২০২৬-এর আগে জাহাজে তোলা হয়েছিল এবং সমুদ্রপথে রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই অস্থায়ী সিদ্ধান্তে রাশিয়া বড় আর্থিক লাভ পাবে না। বরং বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য।
তবে এর পরই ভারতের তরফে জবাব আসে। শনিবার কেন্দ্রীয় সরকার জানায়, উত্তেজনা বাড়লেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহ এখনও স্থিতিশীল রয়েছে। গত কয়েক বছরে ভারত তেলের উৎসের সংখ্যা ২৭টি দেশ থেকে বাড়িয়ে ৪০টি দেশে নিয়ে গেছে। ফলে কোনও একটি রুটে সমস্যা হলেও বিকল্প পথ থেকে তেল আনা সম্ভব। দেশের স্বার্থে ভারত সব সময় সেই দেশ থেকেই অপরিশোধিত তেল কিনবে যেখানে সবচেয়ে প্রতিযোগিতামূলক এবং সস্তা দামে তেল পাওয়া যায়।
কেন্দ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতেও ভারত রাশিয়ার তেল (India imports Russian Oil) আমদানি করছে এবং এখনও রাশিয়াই ভারতের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল সরবরাহকারী। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ (Ukraine-Russia War) শুরু হওয়ার পরেও গত তিন বছর ধরে ভারত রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কিনে আসছে। বিশেষ করে ২০২২ সালের পর কম দামের কারণে এই আমদানি অনেকটাই বেড়েছে।
প্রসঙ্গত, ফেব্রুয়ারিতে আমেরিকা ভারতের কিছু পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক তুলে নেয়। তখন ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল, ভারত রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। যদিও সেই ধরনের কোনও প্রতিশ্রুতির যৌথ বিবৃতিতে নেই এবং ভারত সরকারও এ বিষয়ে স্পষ্ট কিছু বলেনি।