ইরানের সঙ্গে সংঘাতের (Iran US Conflict) পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকা ঘোষণা করেছিল যে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলিকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে।

ভারতকে নিয়ে মন্তব্য ট্রাম্প ঘনিষ্ঠের
শেষ আপডেট: 7 March 2026 16:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতিতে (Middle East Tension) তেলের সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ভারতকে সাময়িকভাবে রাশিয়ার তেল (Russian Oil) কেনার অনুমতি দিয়েছে আমেরিকা (America)। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে, এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম (Worldwide Oil Price) ও সরবরাহের ওপর চাপ কিছুটা কমবে।
সম্প্রতি এক সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট (Scott Bessent) জানান, রাশিয়ার তেল কিনতে ভারতের (India) মতো মিত্র দেশগুলিকে অনুমতি দেওয়া হয়েছে (Russian oil waiver India)। তাঁর কথায়, “ভারত দায়িত্বশীল আচরণ করেছে। ওরা খুব ভাল অভিনেতা! আমরা তাদের রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করতে বলেছিলাম এবং তারা তা মেনেছিল।”
বর্তমানে দক্ষিণ এশিয়ার সমুদ্রপথে কয়েকশো মিলিয়ন ব্যারেল রাশিয়ার তেল ভাসমান অবস্থায় রয়েছে। এই তেল দ্রুত বাজারে এলে সরবরাহ বাড়বে এবং দামের চাপ কিছুটা কমবে। এই প্রসঙ্গ তুলেই বেসেন্ট বলেছেন, "বিশ্বজুড়ে তেলের যথেষ্ট সরবরাহ রয়েছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সাময়িকভাবে হালকা চাপ তৈরি হয়েছে। সেই কারণেই সমুদ্রে আটকে থাকা রাশিয়ার তেল বাজারে আনার জন্য এই অস্থায়ী ছাড় দেওয়া হয়েছে।"
আমেরিকার দাবি, দীর্ঘমেয়াদে তেলের ঘাটতির আশঙ্কা নেই। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী ঘিরে অনিশ্চয়তার কারণে তেলের বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। তাই এই মুহূর্তে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে প্রয়োজন বুঝে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
এর আগে ইরানের সঙ্গে সংঘাতের (Iran US Conflict) পরিস্থিতির মধ্যে আমেরিকা ঘোষণা করেছিল যে ভারতীয় তেল শোধনাগারগুলিকে রাশিয়ার তেল কেনার জন্য ৩০ দিনের ছাড় দেওয়া হচ্ছে। এই অনুমতি শুধুমাত্র সেই তেলের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, যা ইতিমধ্যেই ৫ মার্চ ২০২৬-এর আগে জাহাজে তোলা হয়েছিল এবং সমুদ্রপথে রয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের দাবি, এই অস্থায়ী সিদ্ধান্তে রাশিয়া বড় আর্থিক লাভ পাবে না। বরং বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ বজায় রাখাই এর মূল উদ্দেশ্য।
উল্লেখ্য, এর আগে রাশিয়া থেকে তেল কেনার কারণে ভারতের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump)। পরে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক আলোচনার পর সেই শুল্ক প্রত্যাহার করা হয় এবং ভারত আমেরিকা (India US relations) থেকে জ্বালানির আমদানি বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দেয়।
এদিকে, যুদ্ধ পরিস্থিতিতে ইরান হরমুজ প্রণালী (Hormuz Strait) বন্ধ করে দিতেই পরই বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম দ্রুত বেড়েছে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে ভারতের আর্থিক ঘাটতি (Current Account Deficit) এবং টাকার স্থিতিশীলতা—সব ক্ষেত্রেই চাপ বাড়তে পারে।
ভারতের তেল মজুত কতদিন চলবে
আপাতত পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো মজুত রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে। সরকারি সূত্র উদ্ধৃত করে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ভারতের কাছে প্রায় ২৫ দিনের ক্রুড অয়েলের মজুত রয়েছে। রিফাইনারিগুলির কাছেও প্রায় ২৫ দিনের ডিজেল, পেট্রোল ও এলপিজির মজুত রয়েছে। অর্থাৎ তেল সরবরাহ সাময়িকভাবে বন্ধ হলেও কিছুদিন পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব।