এক সময় বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত শহর ছিল বেজিং। কীভাবে কঠোর নীতি ও রাজনৈতিক ঐকমত্যে দূষণ কমাল চিন?

বুধবার দুপুরে বাঁ দিকে দিল্লি, ডানদিকে বেইজিংয়ের রাস্তার ছবি। দূষণ ও কুয়াশার কারণে দিল্লিতে দুপুরেও গাড়ির হেডলাইট জ্বালিয়ে চলতে হচ্ছে।
শেষ আপডেট: 18 December 2025 12:28
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা সময় বিশ্বের দূষিত শহরগুলির তালিকায় শীর্ষে ছিল চিনের রাজধানী বেজিং। ২০০৮-এ সেখানে অলিম্পিক আয়োজনের আগে দূষণের কারণে বহু দেশ আপত্তি তুলেছিল। সেই বেজিং এখন বিশ্বের দূষণমুক্ত শহরগুলির তালিকা প্রথম সারিতে আছে।
অন্যদিকে, ভারতের রাজধানী দিল্লিতে দম বন্ধ কর পরিস্থিতি। বৃহস্পতিবার বিশ্বের দূষিত শহর গুলির মধ্যে এক নম্বরে আছে ভারতের রাজধানী। অষ্টম স্থানে বাংলাদেশের রাজধানীর ঢাকা। দিল্লির শীর্ষস্থানে থাকাটাই যেন ভবিতব্য হয়ে গিয়েছে। দূষণের মাত্রা এতই প্রবল যে বহু মানুষ বাড়ি থেকে বের হচ্ছেন না। দূষণের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে কুয়াশা। সব মিলিয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত।
এমন সময়ে দূষণ মোকাবিলায় ভারতকে বেইজিংয়ের অভিজ্ঞতা বিনিময় করল দিল্লির চিনা দূতাবাস। সপ্তাহ দুই আগেই অরুণাচল প্রদেশের এক যাত্রীকে চিনের সাংহাই বিমানবন্দরে হেনস্তার ঘটনায় দু'দেশের মধ্যে তীব্র কূটনৈতিক বিরোধ তৈরি হয়েছিল। এমন প্রেক্ষাপটে দিল্লির চিনা দূতাবাস ভারতের রাজধানীকে দূষণমুক্ত করতে গুচ্ছ পরামর্শ দিয়েছে।
চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র উ শিং এক্সে একাধিক পোস্টে বলেছেন, ভারত ও চিনের অভিন্ন সমস্যাগুলির একটি হলো শহরাঞ্চলের দূষণ। দুই দেশেই দ্রুত শহর বাড়ছে। নতুন বাড়িঘর রাস্তাঘাট তৈরির কারণে ধুলোর দূষণ মাত্রা ছাড়িয়েছে। অন্যদিকে, দু দেশেই প্রাইভেট গাড়ি বেড়ে যাওয়ায় দূষণ মাত্রা ছাড়িয়েছে।
এরপর তিনি জানিয়েছেন কীভাবে রাজধানী বেজিংকে দূষণের বিপদ থেকে তারা রক্ষা করতে পেরেছেন। উ শিং জানিয়েছেন, প্রচলিত কিছু পদক্ষেপ কঠোরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমেই তারা সাফল্য অর্জন করেন। তার মধ্যে অন্যতম হলো চিন্তার নিজের মতো করে গাড়ির ধোয়া পরিমাপের মানদণ্ড তৈরি করে যা আন্তর্জাতিক মানদন্ডের তুলনায় অনেক কঠোর। প্রত্যেক নাগরিককে বাধ্য করা হয়েছিল ওই মানদন্ড মেনে গাড়ি চালাতে। গাড়ি কোম্পানিগুলিতেও একই পরামর্শ দেয় তখন চিনের প্রশাসন। পুরনো গাড়িগুলিকে পর্যায়ক্রমে বেইজিং থেকে বের করে দেয়া হয়েছিল। তার আগে সেগুলির সংখ্যা কমাতে সপ্তাহে দিন বেঁধে দেওয়া হয় কোন দিন কোন গাড়ি বেজিয়ে ঢুকতে পারবে। এটা ঠিক করা হতো লটারির মাধ্যমে। পাশাপাশি তারা রেল পরিষেবায় বাড়তি গুরুত্ব দেয়। চিন জানিয়েছে, এই মুহূর্তে বিশ্বের দীর্ঘতম মেট্রোরেল এবং বাস পরিষেবা তাদের দেশেই আছে। এই ভাবনাগুলি সবই প্রথম বাস্তবায়ন করা হয়েছিল বেজিংয়ে। চিনের দাবি, এর ফলে প্রাইভেট গাড়ির চাপ কমেছে। এছাড়া অনেক আগে থেকেই তারা বিদ্যুৎ চালিত গাড়ি তৈরিতে জোর দেয়। চিনা মুখপাত্রের দাবি, গত তিন দশকের চেষ্টায় তারা সাফল্য অর্জন করেছেন। চিনের শহরগুলি অতীতের তুলনায় এখন অনেক দূষণমুক্ত।
তিনি জানিয়েছেন দ্বিতীয় ধাপ ছিল কলকারখানাগুলির জায়গা বদল। তিন হাজারের বেশি তিন হাজারের বেশি বড় কারখানা শহর এবং লাগোয়া এলাকা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। সেই ফাঁকা জায়গায় তৈরি করা হয়েছে অসংখ্য পার্ক। তৈরি করা হয়েছে নতুন বনাঞ্চল।
ভারতের থিম ট্যাংক বা নীতি পরামর্শ প্রদানকারী সংস্থা এনভি-র উপদেষ্টা সুনীল দাহিয়া চিনা দূতাবাসের অভিজ্ঞতাকে স্বাগত জানিয়ে বলেন ভারতে কিছু বাস্তব সমস্যা আছে। বড় শিল্প এলাকাকে উন্মুক্ত সরানোর মতন পরিস্থিতি এ দেশে নেই। তার কথায় চিন যে পদক্ষেপগুলি করেছে সেগুলিতে তারা সফল হয়েছে রাজনৈতিক সহমত থাকায়। সবকটি পদক্ষেপই ভারতে বাস্তবায়ন করা হয়েছিল। কিন্তু রাজনৈতিক বিরোধিতার কারণে সাফল্য আসেনি।