মার্কিন মধ্যস্থতায় আবুধাবিতে রাশিয়া-ইউক্রেন শান্তি বৈঠক। একদিকে আলোচনা, অন্যদিকে কিয়েভে হামলা। ডনবাস ইস্যুতে কি আটকে যাবে শান্তি প্রক্রিয়া?

ছবি: দ্য ওয়াল
শেষ আপডেট: 25 January 2026 09:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাশিয়া ও ইউক্রেনের (Russia Ukraine War) দীর্ঘদিনের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় আবুধাবিতে বসেছিল বিশেষ শান্তি বৈঠক (Abu Dhabi Meeting)। দু’দিন ধরে চলা এই বৈঠক শনিবার শেষ হলেও, আলোচনার মাধ্যমে কোনও চূড়ান্ত সমাধান (Russia Ukraine peace talks) মিলেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে কূটনৈতিক সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী সপ্তাহেই আবুধাবিতে ফের পরবর্তী দফার আলোচনা বসতে চলেছে।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই প্রথমবার দুই প্রতিবেশী দেশ সরাসরি আলোচনায় অংশ নিল। এই বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ প্রতিনিধিরা। যদিও শান্তি আলোচনার মধ্যেই সংঘাতের ছবি সামনে এসেছে। ঠিক সেই সময় ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে রাশিয়া।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ওই হামলায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং চার জন আহত হয়েছেন। প্রবল শীতের মধ্যে এই হামলায় কিয়েভের বিদ্যুৎ পরিকাঠামো মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে শহরের প্রায় ১২ লক্ষ মানুষ বিদ্যুৎহীন অবস্থায় পড়েছেন বলে জানা গিয়েছে।
শান্তি চুক্তির পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউক্রেনের ডনবাস অঞ্চল। রাশিয়ার দাবি, শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হলে ইউক্রেনকে পূর্বাঞ্চলের দখল করা এলাকাগুলি থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হবে। তবে এই প্রস্তাবে স্পষ্ট আপত্তি জানিয়েছে ইউক্রেন। দাভোসে বিশ্ব অর্থনৈতিক মঞ্চে দাঁড়িয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি স্পষ্ট করে জানান, দেশের কোনও ভূখণ্ড রাশিয়ার হাতে তুলে দেওয়া হবে না। তাঁর কথায়, এটি ইউক্রেনের সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রশ্ন।
যদিও জেলেনস্কি ইঙ্গিত দিয়েছেন, একটি সম্ভাব্য শান্তি চুক্তির খসড়া প্রায় প্রস্তুত। অন্য দিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাত সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, শান্তি বৈঠক অত্যন্ত ইতিবাচক পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। মার্কিন প্রস্তাবের ভিত্তিতেই দুই দেশের প্রতিনিধিরা সরাসরি আলোচনায় বসেন। তবে ডনবাস নিয়ে রাশিয়া ও ইউক্রেনের বিপরীত অবস্থানই এখন শান্তি প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।