মার্কিন বাহিনী তাঁদের জানিয়েছিল, মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে হত্যা করা হয়েছে, অপহরণ নয়, এমনই দাবি করেন রদ্রিগেজ। তিনি নাকি জবাব দিয়েছিলেন, 'আমাদের পরিণতিও একই হলে মেনে নেব।"

ফাইল ছবি
শেষ আপডেট: 24 January 2026 23:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে (Nicolas Maduro) গ্রেফতার করার পর পরিস্থিতি কতটা ভয়ংকর হয়ে উঠেছিল, তা নিয়ে বিস্ফোরক দাবি করলেন দেশের কার্যনির্বাহী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ (Venezuela Acting President Delcy Rodriguez)। তিনি অভিযোগ করেন, মাদুরোকে আটক করার পর মার্কিন বাহিনী তাঁদের মন্ত্রিসভার শীর্ষ সদস্যদের মাত্র ১৫ মিনিট সময় দিয়েছিল আমেরিকার নির্দেশ মানবে কি না তা জানাতে, না মানলে মেরে ফেলা হবে বলে হুমকিও (US military threat) দেওয়া হয়েছিল।
একটি ফাঁস হওয়া অডিও–ভিডিও রেকর্ডিংয়ে ডেলসি রদ্রিগেজকে বলতে শোনা যায়, মাদুরোকে আটক (Maduro arrest) করার প্রথম মিনিট থেকেই হুমকি দেওয়া শুরু হয়েছিল। তিনি দাবি করেন, তাঁকে, তাঁর ভাই ও ভেনেজুয়েলার কংগ্রেস প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কাবেল্লোকে ১৫ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য।
লাহোরা দে ভেনেজুয়েলা নামে স্থানীয় একটি সাংবাদিক সংগঠনের হাতে আসা দু'ঘণ্টার মিটিংয়ের ভিডিওতে দেখা যায়, মাদুরোকে সরানোর পর কীভাবে ক্ষমতা ধরে রাখার কৌশল তৈরি করছিলেন মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যরা। ডেলসি বলেন, তাঁর সবচেয়ে বড় লক্ষ্য ছিল-
মার্কিন বাহিনী তাঁদের জানিয়েছিল, মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে হত্যা করা হয়েছে, অপহরণ নয়, এমনই দাবি করেন রদ্রিগেজ। তিনি নাকি জবাব দিয়েছিলেন, 'আমাদের পরিণতিও একই হলে মেনে নেব।"
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (US President Donald Trump) যদিও দাবি করেন যে ভেনেজুয়েলার বর্তমান প্রেসিডেন্ট তাঁর সঙ্গে সহযোগিতা করছেন, কিন্তু রদ্রিগেজ বলেন, এটা সহযোগিতা নয়, বরং অবিরাম হুমকি ও ব্ল্যাকমেলের কারণে তাঁরা বুদ্ধি করে পরিস্থিতি সামলাচ্ছেন।
তবে ভেনেজুয়েলার (Venezuela Politics) রাজনৈতিক বিশ্লেষক মার্গারিটা লোপেজ মেয়া মনে করেন, রদ্রিগেজ নিজের ভূমিকা রক্ষার জন্যই হয়তো এমন বয়ান দিচ্ছেন। তাঁর মতে, মাদুরোকে সরানোর ঘটনায় অভ্যন্তরীণ সহযোগিতা ছাড়া এটি অসম্ভব ছিল।
মাদুরো আটক হওয়ার পর থেকেই ওয়াশিংটনের সব দাবি মেনে নিচ্ছে ভেনেজুয়েলা, যদিও প্রকাশ্যে আমেরিকার বিরুদ্ধে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। মাদুরোকে আটক করে নিউইয়র্কে নিয়ে যাওয়ার পরই দেশের প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন রদ্রিগেজ। এছাড়াও মার্কিন সহায়তার বিনিময়ে দেশের তেলসম্পদের ওপর আমেরিকার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে বলেও খবর রয়েছে। ট্রাম্প সাম্প্রতিক মন্তব্যে রদ্রিগেজকে 'শক্তিশালী নেতা' বলে আখ্যা দিয়ে দাবি করেছেন, 'এই চুক্তির ফলেই আমেরিকা আরও ধনী হবে।'