মাদক পাচার-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে মার্কিন বাহিনী মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে আমেরিকায় নিয়ে যায়।
.jpg.webp)
নিকোলাস মাদুরো (ফাইল ছবি)
শেষ আপডেট: 14 January 2026 10:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ভেনেজুয়েলার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো (Maduro arrest) এবং তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে যুক্তরাষ্ট্রে আটক করার পর তাঁদের ঘিরে নতুন করে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। মাদুরোর এক্স হ্যান্ডেল থেকে বুধবার সকালে একটি পোস্ট করা হয়, যা তাঁর কারাগারে বন্দি (Maduro custody) হওয়ার পর পোস্ট হওয়া প্রথম বার্তা। এই পোস্টে লেখা ছিল, “তাদের অপহরণ করার পর ১১ দিন কেটে গেছে, আমরা তাদের ফেরাতে চাই'- যা স্বাক্ষর করা হয়েছিল ‘নিকোলাস মাদুরো মোরোস, বোলিভারীয় প্রজাতন্ত্রের রাষ্ট্রপতি’ এবং ‘সিলিয়া ফ্লোরেস, প্রথম কম্ব্যাট্যান্ট’ নামে। সামাজিক মাধ্যমে অনেক ব্যবহারকারী তা দেখে প্রশ্ন তুলেছেন যে, মাদুরো কি আসলেই বন্দি অবস্থায় থেকেও ফোন ব্যবহার (Maduro Post from Jail) করতে পারছেন কি না।
এই পোস্টটি আসে এমন সময়, যখন মাদুরো ও তাঁর স্ত্রীকে আমেরিকার বিমানবহর থেকে নিউইয়র্কে এনে বন্দি রাখা হয়েছে। কয়েকদিন আগেই মার্কিন অভিযানের পর পর তাঁদের কারাকাস থেকে আটক করে (Venezuela crisis) আমেরিকায় নেওয়া হয়, এমনটাই সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছে।
— Nicolás Maduro (@NicolasMaduro) January 14, 2026
মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী কোথায় আছেন?
মাদক পাচার, অস্ত্র সরবরাহ-সহ একাধিক গুরুতর অভিযোগে মার্কিন বাহিনী মাদুরো ও তাঁর স্ত্রী সিলিয়া ফ্লোরেসকে আটক করে আমেরিকায় নিয়ে যায়। বর্তমানে তাঁদের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে ‘মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার’ (MDC)-এ রাখা হয়েছে (US-Venezuela tensions)। এই জেলখানা আগেও বহু আলোচিত ও বিখ্যাত বন্দিকে রাখার জন্য পরিচিত, তাই মাদুরো দম্পতিকে সেখানে রাখা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলেও আগ্রহ তৈরি হয়েছে।
আদালতে তাঁদের পেশ করা হলে, দু’জনেই সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে ‘নো গিলটি’ দাবি করেছেন। তাঁরা জানিয়েছেন, নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে তাঁরা লড়াই চালিয়ে যাবেন।
জেলের পরিবেশ কি নিরাপদ?
ব্রুকলিনের মেট্রোপলিটন ডিটেনশন সেন্টার (MDC) নিয়ে আগে থেকেই নানা অভিযোগ রয়েছে। ভিড়, কর্মী সংকট, পর্যাপ্ত চিকিৎসা না থাকা, এসব সমস্যা বহুবার সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। এমনকি কয়েকজন বিচারকও বলেছেন, এই জেলের পরিবেশ অনেক সময়ই বন্দিদের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
মাদুরো-ফ্লোরেস দম্পতির গ্রেফতারি আন্তর্জাতিক মহলে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন (Trump Govt) দাবি করছে, এটি আইনসম্মত পদক্ষেপ, যার উদ্দেশ্য মাদক ও সহিংস অপরাধের অভিযোগে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা। তাদের মতে, এই অভিযান ভেনেজুয়েলাকে সুষ্ঠু ও নিরাপদ পরিবর্তনের পথে এগোতে সাহায্য করবে।
তবে, অন্যদিকে বেশ কিছু দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা প্রশ্ন তুলছে, এই পদক্ষেপ কি আন্তর্জাতিক আইন ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করেছে? এ বিষয়েই চলছে তীব্র বিতর্ক। এদিকে, মামলার প্রথম দফার শুনানিও শুরু হয়েছে এবং পরবর্তী শুনানি না হওয়া পর্যন্ত মাদুরো এবং তাঁর স্ত্রী জেলেই থাকবেন।
মাদুরোর অবস্থান ও ভবিষ্যৎ
আদালতে দাঁড়িয়ে মাদুরো নিজেকে এখনও ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, তিনি মূলত ‘যুদ্ধবন্দি’। তবে মার্কিন আইনের অধীনে তাঁকে সাধারণ বন্দির মতোই রাখা হয়েছে ব্রুকলিনের MDC-তে।
এই গোটা ঘটনা এখন রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, আন্তর্জাতিকভাবে আলোচিত এবং আইনি দৃষ্টিতে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিশ্বের নজর এখন এই হাই-প্রোফাইল মামলার পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।