সংসদের ভাষণে আসিফ স্বীকার করেন, অতীতে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তান প্রায়শই নিজেদের ইতিহাস অস্বীকার করেছে। তিনি বলেন, সামরিক শাসকদের আমলে নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত আজ দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে।

খওয়াজা আসিফ
শেষ আপডেট: 11 February 2026 11:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পাকিস্তানের (Pakistan) প্রতিরক্ষামন্ত্রী খওয়াজা আসিফের (Khawaja Asif) সাম্প্রতিক মন্তব্য ঘিরে চরম অস্বস্তির পরিবেশ তৈরি হয়েছে সরকারের অন্দরেই। আমেরিকার সঙ্গে অতীতের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক (US Pakistan Relation) নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন তিনি। কার্যত স্বীকার করে নিয়েছেন যে, মার্কিন প্রশাসন পাকিস্তানকে স্রেফ ব্যবহার করেছে!
খওয়াজার অভিযোগ, কৌশলগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য ওয়াশিংটন ইসলামাবাদকে ব্যবহার করেছে। উদ্দেশ্য পূরণ হয়ে যাওয়ার পর পাকিস্তানকে (Pakistan) ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। তাঁর সংযোজন, “টয়লেট পেপারের (Pakistan is Like Toilet Paper) মতো ব্যবহার করে ফেলে দেওয়া হয়েছে পাকিস্তানকে।”
ইতিহাস অস্বীকার
সংসদের ভাষণে আসিফ স্বীকার করেন, অতীতে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে পাকিস্তান প্রায়শই নিজেদের ইতিহাস অস্বীকার করেছে। তিনি বলেন, সামরিক শাসকদের আমলে নেওয়া একাধিক সিদ্ধান্ত আজ দেশের জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে এনেছে। তাঁর দাবি, আফগানিস্তানকে (Afghanistan Pakistan Conflict) ঘিরে দুটি পৃথক যুদ্ধে জড়িয়ে পড়াই ছিল বড় ভুল। বর্তমানে পাকিস্তানে যে সন্ত্রাস ও অস্থিরতার পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে, তা সেই সব সিদ্ধান্তেরই প্রতিঘাত।
আফগানিস্তান প্রসঙ্গ
বিশেষ করে ১৯৯৯ সালের পর এবং ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পর আমেরিকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার প্রসঙ্গ টেনে আসিফ জানান, সেই সময়কার কৌশলগত সমীকরণ পাকিস্তানের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ক্ষতিকর হয়েছে। মার্কিন নেতৃত্বাধীন আফগান অভিযানে শরিক হয়ে ইসলামাবাদ তালিবানের বিরুদ্ধেও অবস্থান নেয়। কিন্তু পরে আমেরিকা অঞ্চল ছাড়লেও পাকিস্তানকে হিংসা, উগ্রপন্থা ও অর্থনৈতিক চাপের ভার বইতে হয়েছে বলে তাঁর মত।
ধর্মীয় দায়বদ্ধতার নামে আফগান যুদ্ধে অংশগ্রহণের সরকারি ব্যাখ্যাকেও তিনি প্রশ্ন করেন। সংসদে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, পাকিস্তানি নাগরিকদের ‘জিহাদ’-এর নামে যুদ্ধে পাঠানো হয়েছিল, যা প্রকৃত অর্থে বিভ্রান্তিকর ব্যাখ্যা। তাঁর দাবি, প্রাক্তন দুই সামরিক শাসক - জিয়াউল হক ও পারভেজ মুশাররফ ইসলামের স্বার্থে নয়, বরং একটি পরাশক্তিকে সন্তুষ্ট করতেই আফগান যুদ্ধে জড়িয়েছিলেন।
আসিফের কথায়, “আমরা নিজেদের ইতিহাস অস্বীকার করি, ভুল স্বীকার করি না। অথচ আজকের সন্ত্রাস সেই অতীত সিদ্ধান্তেরই ফল।” তিনি আরও জানান, ওই সময় শিক্ষাব্যবস্থাতেও আদর্শগত পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যাতে যুদ্ধকে ন্যায়সঙ্গত বলে প্রতিষ্ঠা করা যায়। সেই প্রভাব আজও রয়ে গেছে।
সব মিলিয়ে, পাকিস্তানের অতীত কূটনৈতিক ও সামরিক সিদ্ধান্তকে ‘অপরিবর্তনীয় ক্ষতি’ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী। তাঁর মতে, যে ক্ষয়ক্ষতি ইতিমধ্যেই হয়েছে, তার পূরণ আর সম্ভব নয়।