Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
'বন্ধু' মোদীকে ফোন ট্রাম্পের! ৪০ মিনিট ধরে হরমুজ প্রণালী নিয়ে কী আলোচনা হল?লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তান

‘শূন্য শুল্ক’ জল্পনার মধ্যেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হোয়াইট হাউসের

হোয়াইট হাউসের দাবি, এই চুক্তির ফলে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের ভারতীয় বাজার আমেরিকার পণ্যের জন্য আরও বেশি করে খুলে যাবে।

‘শূন্য শুল্ক’ জল্পনার মধ্যেই ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হোয়াইট হাউসের

ভারত-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ হোয়াইট হাউসের

শুভম সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: 10 February 2026 12:53

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ডোনাল্ড ট্রাম্পের (White House) ‘শূন্য শুল্ক’ দাবিকে ঘিরে জল্পনার মধ্যেই ভারত–আমেরিকা বাণিজ্য চুক্তি (India-US Trade Deal) নিয়ে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করল হোয়াইট হাউস (White House)। নতুন এই চুক্তিকে ‘ঐতিহাসিক’ বলে আখ্যা দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন (Donald Trump)। হোয়াইট হাউসের দাবি, এই চুক্তির ফলে ১৪০ কোটিরও বেশি মানুষের ভারতীয় বাজার আমেরিকার পণ্যের জন্য আরও বেশি করে খুলে যাবে।

হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত ফ্যাক্টশিট অনুযায়ী, পারস্পরিক শুল্ক কাঠামোয় বড়সড় বদল আসছে। ভারতীয় পণ্যের উপর আমেরিকার আরোপিত ২৫ শতাংশ রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ কমিয়ে ১৮ শতাংশে নামাতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন। পাশাপাশি, রাশিয়া থেকে তেল (Russian Oil) কেনা বন্ধ করার বিষয়ে নয়াদিল্লির প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি হিসেবে ভারতীয় আমদানির উপর অতিরিক্ত ২৫ শতাংশ শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে আমেরিকা।

এই বিবৃতিতে ট্রাম্পের সেই বিতর্কিত দাবিরও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন— ভারত আমেরিকার জন্য ‘শুল্ক ও অশুল্ক বাধা শূন্যে নামাতে’ রাজি হয়েছে। হোয়াইট হাউস স্পষ্ট করেছে, এর অর্থ সব পণ্যের উপর অবিলম্বে শুল্ক তুলে নেওয়া নয়। বরং নির্দিষ্ট কিছু শিল্প ও কৃষিপণ্যে ধাপে ধাপে শুল্ক কমানো বা প্রত্যাহারের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত।

হোয়াইট হাউস জানায়, আমেরিকার সব শিল্পপণ্য এবং বিস্তৃত পরিসরের খাদ্য ও কৃষিপণ্যের উপর শুল্ক ‘কমানো বা তুলে নেওয়ার’ ব্যাপারে সম্মত হয়েছে ভারত। এর মধ্যে রয়েছে ড্রাইড ডিস্টিলার্স গ্রেন (ডিডিজি), লাল জোয়ার, বিভিন্ন ধরনের বাদাম, তাজা ও প্রক্রিয়াজাত ফল, কিছু ডাল, সয়াবিন তেল, ওয়াইন ও মদ-সহ আরও নানা পণ্য।

এ ছাড়াও আগামী দিনে আমেরিকার কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ পণ্য কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ভারত। হোয়াইট হাউসের দাবি, জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, কৃষি, কয়লা-সহ নানা ক্ষেত্রে ৫০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি মূল্যের মার্কিন পণ্য কেনার পথে এগোবে নয়াদিল্লি।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে বাধা সৃষ্টি করে এমন একাধিক অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা দূর করতেও সম্মত হয়েছে ভারত। ডিজিটাল পরিষেবা কর প্রত্যাহার এবং ডিজিটাল বাণিজ্য সংক্রান্ত দ্বিপাক্ষিক নিয়মকানুন নিয়ে আলোচনা চালানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ইলেকট্রনিক ট্রান্সমিশনের উপর কাস্টমস ডিউটি আরোপ না করার বিষয়টিও রয়েছে।

চুক্তির আওতায় ‘রুলস অফ অরিজিন’ নিয়েও আলোচনা হবে বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস, যাতে চুক্তির সুবিধা মূলত ভারত ও আমেরিকাই পায়। পাশাপাশি, তৃতীয় পক্ষের অ-বাজারমুখী নীতির মোকাবিলায় সরবরাহ শৃঙ্খল আরও মজবুত করা, বিনিয়োগ ও রফতানি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার কথাও বলা হয়েছে। প্রযুক্তি ক্ষেত্রে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও যৌথ সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য ভাবে বাড়বে বলেও দাবি করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ট্রাম্প আগেই দাবি করেছিলেন যে ভারত আমেরিকার জন্য শুল্ক ও অশুল্ক বাধা ‘শূন্যে নামাতে’ রাজি হয়েছে। তাঁর সেই বক্তব্যে ভারতীয় ব্যবসায়ী মহলে উদ্বেগ তৈরি হয়। হোয়াইট হাউসের ব্যাখ্যায় স্পষ্ট, এটি মূলত কিছু নির্দিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে নীতিগত সমঝোতা, সর্বাত্মক শুল্কমুক্ত ব্যবস্থার ঘোষণা নয়।

গত সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যে ফোনালাপের পর এই বিবৃতি প্রকাশ্যে আসে। সেই আলোচনাতেই পারস্পরিক বাণিজ্য নিয়ে একটি অন্তর্বর্তী কাঠামোয় সম্মতি তৈরি হয় এবং বৃহত্তর ভারত–আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি (বিটিএ) নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই এই কাঠামো কার্যকর করা হবে এবং অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে আলোচনা এগোবে। দীর্ঘমেয়াদে শ্রমিক, ব্যবসা ও অর্থনীতির পক্ষে লাভজনক একটি পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করাই দুই দেশের লক্ষ্য।


```