Date : 15th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
হলফনামায় তথ্য গোপনের অভিযোগ! মেদিনীপুরের তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবি বিজেপির‘১৫ বছরের অচলাবস্থা কাটানোর সুবর্ণ সুযোগ!’ নববর্ষের শুভেচ্ছাবার্তায় তৃণমূল সরকারকে তোপ মোদীরঅভিষেক পত্নীকে টার্গেট করছে কমিশন! হোয়াটসঅ্যাপে চলছে নেতাদের হেনস্থার ছক? সরাসরি কমিশনকে চিঠি তৃণমূলেরIPL 2026: আজ আদৌ খেলবেন তো? ‘চোটগ্রস্ত’ বিরাটের অনুশীলনের ভিডিও দেখে ছড়াল উদ্বেগনৌকাডুবিতে ১৫ জনের মৃত্যু, বৃদ্ধার প্রাণ বাঁচাল ইনস্টা রিল, ফোনের নেশাই এনে দিল নতুন জীবন!‘ভূত বাংলা’-তে যিশু সেনগুপ্তর আয় নিয়ে হইচই! ফাঁস হল অঙ্কপদ খোয়ানোর পর এবার নিরাপত্তা! রাঘব চাড্ডার Z+ সুরক্ষা তুলে নিল পাঞ্জাব সরকার, তুঙ্গে জল্পনাফাঁকা স্টেডিয়ামে পিএসএলের আড়ালে ভারতের জ্বালানি সঙ্কট! নকভির ‘যুক্তি’তে হতভম্ব সাংবাদিকভোটের রেজাল্টে পর ফের ডিএ মামলার শুনানি শুনবে সুপ্রিম কোর্ট! ৬০০০ কোটি টাকা দেওয়া হয়েছে, জানাল রাজ্যহরমুজ প্রণালীতে ট্রাম্পের দাপট! মার্কিন যুদ্ধজাহাজের বাধায় ফিরল বিদেশী ট্যাঙ্কার

দেশের চৌকিদার হতে চায় জামাত, বলছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান, যেমন বলেছিলেন মোদী

দেশের ‘চৌকিদার’ হওয়ার ডাক দিল জামাত, আমির শফিকুর রহমান জানালেন—শাসন নয়, সেবা দিতেই মাঠে তারা। মোদীর পুরনো স্লোগানের সঙ্গেও তুলনা টানছে রাজনৈতিক মহল।

দেশের চৌকিদার হতে চায় জামাত, বলছেন দলটির আমির শফিকুর রহমান, যেমন বলেছিলেন মোদী

গার্গী দাস

শেষ আপডেট: 10 February 2026 11:43

অমল‌ সরকার

ঢাকা

বাংলাদেশের সরকার গড়ার সুযোগ পেলে তারা দেশবাসীর চৌকিদার হতে চান বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। দেশবাসীর উদ্দেশ্যে প্রতিটি সভায় তিনি বলেছেন, দেশের ১৮ কোটি মানুষের চৌকিদারী করতে চাই। তাদের জীবন সম্পদ ও ইজ্জতের পাহারাদার হতে চাই। সেই সুযোগ আপনারা যদি দেন আপনাদের ও আস্থার প্রতিদান দেওয়া আমাদের জন্য ওয়াজিব বা অবশ্য পালনীয় কর্তব্য। ‌ আমরা জান প্রাণ দিয়ে সেটার চেষ্টা চালিয়ে যাব।'

বাংলাদেশ এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী বিগত দিনের তুলনায় ভাল অবস্থায় আছে বলে প্রায় সম্মোহলী মনে করছে। তার প্রধান কারণ দলটির মূল প্রতিপক্ষ আওয়ামী লিগ এবার নির্বাচনী ময়দানে নেই। শেখ হাসিনার দলকে নির্বাচনে অংশ নিতে দেওয়া হচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের ক্ষমতায় আসার আশায় বুক বেঁধেছে জামাত। নতুন আধুনিক এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গঠনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন জামাতে ইসলামীর নেতারা। জামাত ক্ষমতায় এলে শফিকুর রহমানেরই প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সম্ভাবনা বেশি। ‌ যদিও জামাতের তরফে এমন ইঙ্গিত একবার দেওয়া হয়েছিল যে তাদের শরিকদল জাতীয় নাগরিক পার্টির নাহিদ ইসলাম হবেন প্রধানমন্ত্রী। ‌ যদিও সেই অবস্থান বদলে জামাত আমির বলেছেন তারা সরকার গড়লে নাহিদ ইসলাম অবশ্যই মন্ত্রী হবেন।

জামাতের সঙ্গে এবারের প্রধান লড়াই বিএনপির। ভোটের ময়দানে দুই দলই আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার কথা বলছে। ‌বলছে সক্ষম বাংলাদেশ গড়ার কথা। দুই দলই দেশের মর্যাদা রক্ষার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে দেশবাসীকে। ‌ আওয়ামী লিগ বিরোধিতায় দুই দলের অবস্থানও অভিন্ন। আওয়ামী জমানার লুটতরাজের অবসান ঘটিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামাতের আমির বলছেন আমরা চৌকিদারের ভূমিকা পালন করব যাতে দেশের সম্পদ কেউ লুট করতে না পারে। প্রসঙ্গত ভারতে ২০১৪-র লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির প্রধানমন্ত্রী প্রার্থী নরেন্দ্র মোদী দেশবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তিনি দেশের চৌকিদার হবেন। দেশের স্বার্থ রক্ষা করাই হবে তার কাজ কোনোভাবে যাতে দেশের সম্পদ বেহাদ না হয় সেদিকটাও তিনি নিশ্চিত করবেন।

বিএনপি যেমন তারেক রহমান তেমনই জামাতের প্রধান মুখ শফিকুর রহমান। ‌ বাংলাদেশের রাজনীতিতে তিনি তুলনামূলকভাবে নরম প্রকৃতির জামাত নেতা বলে পরিচিত। দলকেও তিনি তুলে ধরেছেন একটি উদারপন্থী রাজনীতির চর্চা কেন্দ্র হিসেবে। তার দাবি জামাতে ইসলামি কোন কট্টর পন্থায় বিশ্বাস করে না। এটি একটি মধ্যপন্থী ইসলামিক দল। বাংলাদেশের এবারের নির্বাচনে সম্ভবত সেই কারণেই জামাত একজন হিন্দুকেও প্রার্থী করেছে। তারা দেখাতে চাইছে ইসলামিক দল হলেও ইসলামের আদর্শ মেনে তারা সকলকে নিয়ে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ গড়তে চান।

সোমবার রাতে বাংলাদেশ টেলিভিশনে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছেন জামাতের আমির শফিকুর রহমান। ভাষণে তিনি বলেন, আজ আমি আপনাদের সামনে এখানে এসেছি কোনো গতানুগতিক রাজনৈতিক ভাষণ দিতে নয়। আজ আমি একেবারে মনের ভেতরের কিছু কথা বলতে চাই। যে কথাগুলো একজন জেন-জি, একজন যুবক, আর আমাদের প্রজন্ম সবার সাথে সম্পৃক্ত। একজন মুসলমানের জন্য যেমন, তেমনি আমাদের দেশের অন্য ধর্মের ভাই-বোনদের জন্যও।

তিনি বলেন, জুলাইতে (২০২৪) রাস্তায় নেমেছিল আমার তরুণ বন্ধুরা। রাস্তায় নেমেছিল আমাদের প্রিয় মা-বোন-মেয়েরা। রাস্তায় নেমেছিল শ্রমিক, রিকশাশ্রমিক ভাইয়েরা এবং সকল মেহনতি জনতা। ফ্যাসিবাদ বিরোধী বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরাও তখন এক হয়েছিল। শিক্ষক, প্রকৌশলী, ডাক্তারসহ সব শ্রেণির পেশাজীবী মানুষও রাস্তায় নেমে এসেছিল। দেশপ্রেমিক সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরাও সে সময়ে প্রশংসনীয় দায়িত্ব ও ভূমিকা পালন করে। আমরা জুলাই আর চাই না; আমরা চাই এমন বাংলাদেশ, যেখানে আর কোনো দিন জনগণকে রাস্তায় নামতে না হয়।

আমাদের বুঝতে হবে, জুলাই কেন হয়েছিল। জুলাই হয়েছিল একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশের জন্য। জুলাই হয়েছিল একটা কালো রাজনৈতিক ধারার পরিবর্তনের জন্য। যুগের পর যুগ ক্ষমতা কুক্ষিগত ছিল পরিবারতন্ত্রের হাতে, নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর হাতে। সেখান থেকে মুক্তির জন্য।

বিশেষ করে, ২০০৯ সাল থেকে জাতির উপর এমন এক শাসকগোষ্ঠী চেপে বসে যারা মানবাধিকার, ভোটাধিকারসহ সকল গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেয়া হয় এবং সকল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করে ফেলে। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, আয়নাঘর প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের উপর নিপীড়ন চালায়। ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর পরপর তিনটি জাতীয় নির্বাচন নামে তামাশার মাধ্যমে আমদের ভোটাধিকার হরণ করা হয়। এই সব নিপীড়ন ও অধিকার ফিরে পাওয়ার জন্যই এসেছিল রক্তাত জুলাই। আমাদের তরুণরা এখন একটা নতুন দেশ দেখতে চায়। যে দেশকে তারা গর্ব করে বলতে পারবে নতুন বাংলাদেশ, এটি আমার দেশ- বাাংলাদেশ ২.০।

এক কথায় যদি বলি দেশের মানুষ পরিবর্তন চায়। কিন্তু একটি মহল পরিবর্তনের বিরোধী। কারণ পরিবর্তন হলেই তাদের অপকর্মের পথ বন্ধ হবে, মানুষের অধিকার কেড়ে নেওয়ার সুযোগ থাকবে না। এই সংস্কৃতি বদলানোর সাহস সবার থাকে না। ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর হিম্মত সবার হয় না। এই হিম্মত দেখিয়েছে আমাদের শহিদেরা। শহিদের রক্তের শপথ নিয়ে নতুন প্রজন্মের লক্ষ লক্ষ সাহসী সন্তান আজ এই পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত। এই দেশ আমাদের সময়ের এই সাহসী সন্তানদের হাতেই তুলে দিতে হবে। কারণ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এই তরুনরা রচনা করবে।

এই তরুণরা পরিশ্রমী।
এই তরুণরা সাহসী, এই তরুণরা মেধাবী।
এই তরুণরা পরিবর্তনকে ভালোবাসে।
এই তরুণরা নতুনকে আলিঙ্গন করে।
এই তরুণরা সত্য বলতে দ্বিধা করে না।
এই তরুণরা প্রযুক্তি বোঝে এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যেতে জানে।
তারাই পারবে নতুন বাংলাদেশ গড়তে।

আমির বলেন, আমরা তোমাদের হাত ধরতে চাই। জুলাইয়ের মতো কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দেশ গড়ার কাজে সঙ্গী হতে চাই। প্রচলিত ধারা বদলাতে চাই। দেশটা বিভেদ ও বিভাজনের রাজনীতি থেকে মুক্ত করতে চাই, মানুষের জীবনে শান্তি ফিরুক, এটি আমাদেও প্রয়াস। এই আমাদের চাওয়া। সবাইকে নিয়ে ঐক্যের বাংলাদেশ গড়তে চাই। এমন বাংলাদেশ যেখানে কেবল পারিবারিক পরিচয়ে কেউ দেশের চালকের আসনে বসতে পারবে না। এমন বাংলাদেশ যেখানে রাষ্ট্র হবে সবার, সরকার হবে জনগণের।

তিনি আরও বলেন, জনগণ চায় একটু নিরাপত্তা সুশাসন ও ইনসাফ । তাই আগামীর বাংলাদেশকে এসব অঙ্গীকার ও মূল্যবোধের আলোকে সাজাতে চাই। রাষ্ট্রের মৌলিক কিছু সংস্কারের লক্ষ্যে জুলাই বিপ্লব পরবর্তী সরকার কিছু গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার পদক্ষেপ গ্রহণ করে; কিন্তু এসব পরিকল্পনার সবগুলো যেমন বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি তেমনি অনেকগুলো একদমই প্রাথমিক পর্যায়ে আছে। এই বাস্তবায়ন সম্ভব হবে আগামীতে যে গণভোট , সেই গণভোটে আমরা যদি আমাদের মূল্যবান ভোট দিয়ে হ্যাঁ বলি তাহলে সংস্কার প্রক্রিয়া তার পূর্ণতা পাবে ইনশাআল্লাহ। আমরা জনগণকে এজন্য বলবো যে গণভোটে হ্যাঁ বলুন এবং সংস্কারকে আলিঙ্গন করুন। আমাদের সন্তানদের স্বপ্ন পূরণে আপনিও গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হোন।

নতুন বাংলাদেশের আকাঙ্ক্ষার আলোকে আমাদের পরিকল্পনা, কর্মসূচি ও অঙ্গীকার আপনাদের নিকট স্পষ্ট করার চেষ্টা করেছি। বাংলাদেশে আমরাই প্রথম পলিসি সামিট এর মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার নীতি কৌশল জনগনের সামনে তুলে ধরেছি। আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে এর প্রতিফলন রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় দেশের এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞরা অবদান রেখেছেন। এছাড়াও আমরা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের সাথে বসেছি, এবং তাদের মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ নিয়েছি। আমরা সুযোগ পেলে, মহান আল্লাহ ইচ্ছায় জনগনের ভালবাসায় আমরা সরকার গঠন করলে প্রথম দিনে ফজর নামাজ পড়েই আমাদের পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়ন শুরু করব ইনশহাল্লাহ।

তার কথায়, আমাদের শাসক শ্রেণি সরকারি পদে নির্বাচিত হওয়ার পর নিজেদেরকে দেশের মালিক গন্য করেছে। ফলে রাষ্ট্রীয় সম্পদ, পদ-পদবী-নীতি-প্রতিষ্ঠান, সবকিছু ব্যক্তিগত ও দলীয় স্বার্থ হাসিলের উপায় হিসাবে অন্যায়ভাবে ব্যবহার করেছে। এর ফলে চুরি ও দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে প্রতারিত করে জনগনের সম্পদ লুন্ঠন করেছে। উন্নয়ন প্রকল্প ব্যক্তিগত ও দলীয় লুন্ঠনের সিঁড়ি হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছে। এই ব্যাবস্থার অবসান ঘটানই আমাদের প্রধান লক্ষ্য।

অতীতে জামায়াতে ইসলামীর থেকে যারা জনপ্রতিনিধি হিসাবে সংসদ, সরকার ও স্থানীয় সরকারে দায়িত্ব পালন করেছে তারা কেউই দুর্নীতির দায়ে অভিযুক্ত হয়নি। তারা দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। আপনারা দেশের মানুষ আপনারাই তার সাক্ষী।

শফিকুর রহমান বলেন, আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন জাতিকে একটি নতুন স্বপ্নের দিকে নিয়ে যাওয়ার এক মহাসুযোগ হিসাবে এসেছে। যেসব সমস্যা আমরা বিগত দিনে সমাধান করতে পারিনি, যে লুটেরা গোষ্ঠীকে আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে পারিনি, সেসব সমস্যার সমাধান এবং লুটেরা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণের সুযোগ হচ্ছে আগামী নির্বাচন। তাই জনগণকে ঠিক করতে হবে আমরা আমাদের নিজেদের জন্য, আমাদের তরুণদের জন্য, আমাদের নারীদের জন্য, বয়স্ক মানুষের জন্য, প্রান্তিক জনপদের জন্য, শ্রমিকের জন্য, উদ্যোক্তাদের জন্য কোন বাংলাদেশ চাই।

আমাদেরকে প্রশ্ন করতে হবে আমরা কি সমাজে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আমরা কি নিয়ম-নীতি-শান্তির রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে চাই, আমরা কি উন্নত দেশ হতে চাই, আমরা কি শোষণ-জুলুম-দুর্নীতি-চাঁদাবাজমুক্ত রাষ্ট্র চাই। আমাদেরকে ভাবতে হবে আমরা কি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহিতার আওতায় আনতে চাই, যোগ্যতা ও সততাকে সরকারি পদের জন্য মৌলিক শর্ত করতে চাই; আমরা কি আমাদের জাতীয় সক্ষমতা ও সৃজনশীলতা বৃদ্ধি করতে চাই। এসব বিষয়ে যদি আমরা ইতিবাচক পরিবর্তন দেখতে চাই তাহলে আমাদেরকে আগামী নির্বাচন নিয়ে নৈতিকভাবে ভাবতে হবে। রাজনৈতিক কথার ফুলঝুরির বাইরে এসে বাস্তবতার আলোকে সৎ, দক্ষ, নিষ্ঠাবান নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারে বলেছি যে আমাদের স্বপ্নের বাংলাদেশ তৈরির জন্য ৫টি বিষয়ে হ্যা এবং ৫টি বিষয়ে না বলতে হবে। সততা, ঐক্য, ইনসাফ, দক্ষতা ও কর্মসংস্থানকে আমরা হ্যা বলতে বলেছি। কারণ এসব মৌলিক শর্ত ছাড়া বৈষম্যহীন, উন্নত, নৈতিক মানসম্পন্ন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। পাশাপাশি দুর্নীতি, ফ্যাসিবাদ, আধিপত্যবাদ, বেকারত্ব, চাঁদাবাজি-কে স্পষ্ট করে না বলতে হবে।

তার কথায়, বাংলাদেশ আয়তনে ছোট কিন্তু জনসংখ্যায় বড় একটি দেশ। এ জনসংখ্যাকে অনেকে সমস্যা হিসাবে বিবেচনা করলেও আমরা মনে করি এটি আল্লাহর নেয়ামত এবং এক বড় সম্পদ। তাই আমাদের জনসংখ্যাকে জনশক্তি হিসাবে রুপান্তর করতে হলে নীতি ও নৈতিকতা ভিত্তিক রাজনীতির বিকল্প নাই। সমাজে নীতি-নৈতিকতা-শৃঙ্খলা-জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠা করা ছাড়া কোন জাতি আগাতে পারেনি। আমাদের পক্ষেও সম্ভব না।

মহিলাদের নিয়ে জামাত আমিরের একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের ভোটের রাজনীতি যথেষ্ট সরগরম। যদিও জামাত ইসলামের নেতারা বলছেন তাদের বক্তব্য বিকৃত করা হয়েছে। ‌ জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে শফিকুর রহমান বলেছেন, যে সমাজ নারীর মর্যাদা রক্ষা করতে পারে না, সেই সমাজ কখনো সমৃদ্ধ হতে পারে না। আমরা ক্ষমতায় এলে নারীরা কেবল ঘরের ভেতরে নয়, সমাজের মূলধারার নেতৃত্বে থাকবেন সগৌরবে। কর্পোরেট জগত থেকে রাজনীতি সবখানে তাঁদের মেধার মূল্যায়ন হবে কোনো বৈষম্য ছাড়াই। আমরা এমন এক দেশ গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি যেখানে কোনো মা বা বোনকে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হবে না। আপনাদের অধিকার রক্ষার লড়াইয়ে আমাদের সঙ্গী হোন। একটি উন্নত ও আধুনিক দেশ গড়ার কারিগর হিসেবে আমাদের নির্বাচিত করুন।

আমরা মনে করি সমাজে ন্যায় বিচার ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করতে হলে সকলকে মর্যাদা দিতে হবে এবং সকলের মানবাধিকার সুরক্ষা দিতে হবে। সকল পরিচয় নির্বিশেষে আমরা এ অঙ্গীকার ব্যক্ত করছি যে একটি মানবিক-উন্নত দেশ গড়ার জন্য দল-মত-নির্বিশেষে সকলের মান-ইজ্জত-অধিকারের সুরক্ষা দিবো। এই বাংলাদেশর মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান সবার। কেউ ভয়ের সংস্কৃতির মধ্যে বাস করবে না। যদি কেউ ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে আঘাত করার চেষ্টা করে, আমরা অতীতের মত ভবিষ্যতেও তা প্রতিরোধ করব। 
আমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে হলে তিনটি জায়গায় আমাদেরকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। 
একটি হচ্ছে শিক্ষায় সংস্কার।

শিক্ষা হতে হবে নৈতিকতা ভিত্তিক এবং সেটা হতে হবে টেক বেইজড। এখনকার সারা দুনিয়া প্রযুক্তিভিত্তিক শিক্ষার উপর নির্ভরশীল, আমরা সেই শিক্ষা থেকে বঞ্চিত। আমাদের সন্তানদের হাতকে আমরা দক্ষ কারিগরের হাত হিসেবে গড়ে তুলতে চাই এবং তাদের হাতে হাতে আমরা কাজ দিতে চাই।  কোনো বেকার ভাতা তাদেরকে তুলে দিতে চাই না।

দ্বিতীয় জায়গাটা হচ্ছে বিচারাঙ্গন। ন্যায়বিচার সমাজে প্রতিষ্ঠা হলেই কেবল আমরা আমাদের প্রত্যাশার বাংলাদেশ গড়তে পারব। অন্যথায় দুঃশাসন এবং দুর্নীতির কণ্ঠরোধ মোটেই সম্ভব হবে না। অতএব, বিচার বিভাগকে আমূল ঢেলে সাজাতে হবে। সেখানে অবশ্যই সৎ, দক্ষ এবং কমিটেড যে সমস্ত লোকেরা আছেন তাদের বিচারের আসনে বসাতে হবে।

তৃতীয় জায়গাটা হচ্ছে আমাদের অর্থনীতি। এই ভঙুর অর্থনীতি নিয়ে দেশকে আগানো সম্ভব নয়। সুতরাং অর্থনীতিতে  ব্যাপক সংস্কার সাধন করতে হবে। বিশেষ করে ব্যাংকিং সেক্টরে এবং অপ্রাতিষ্ঠানিক যে সমস্ত খাত রয়েছে সে জায়গাগুলোতে আমাদের প্রাতিষ্ঠানিক ও অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতে আমাদের হাত দিতে হবে। আমাদের ব্যবসাকে করতে হবে বিনিয়োগবান্ধব। বিনিয়োগবান্ধব হলেই দেশে কর্মসংস্থান তৈরি হবে এবং আমাদের বেকারত্ব দূর হবে। এই তিনটা জায়গায় আমাদের গুরুত্ব দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। আমরা আশা করবো দেশবাসী আমাদেরকে তাদের মূল্যবান ভোটের আমানত অর্পন করে আমাদের দেশকে প্রত্যাশার আলোকে গড়ে তোলার ক্ষেত্রে সহযোগিতা করবেন।


```