গত ২ এপ্রিল নিজের মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন সুজয় হাজরা। শঙ্কর গুছাইতের দাবি, সেই হলফনামায় সুজয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। আইনি নিয়ম অনুযায়ী, হলফনামায় ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে কমিশনের তরফে প্রার্থীর পদ বাতিলের সংস্থান রয়েছে।

তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা
শেষ আপডেট: 15 April 2026 14:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রথম দফার ভোটগ্রহণের ঠিক আগে মেদিনীপুর কেন্দ্রে ঘাসফুল শিবিরের অস্বস্তি বাড়িয়ে দিলেন বিজেপি প্রার্থী। তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরার বিরুদ্ধে হলফনামায় তথ্য গোপনের বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সরাসরি নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হয়েছেন মেদিনীপুরের বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইত। ইতিমধ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এই কেন্দ্রে সুজয়ের হয়ে প্রচার করে গিয়েছেন, আর ঠিক তার পরেই প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে সরব হলো পদ্ম শিবির।
গত ২ এপ্রিল নিজের মনোনয়ন পত্রের সঙ্গে হলফনামা জমা দিয়েছিলেন সুজয় হাজরা। শঙ্কর গুছাইতের দাবি, সেই হলফনামায় সুজয় বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছেন। আইনি নিয়ম অনুযায়ী, হলফনামায় ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য দিলে কমিশনের তরফে প্রার্থীর পদ বাতিলের সংস্থান রয়েছে। নদিয়া জেলায় ইতিমধ্যেই এক তৃণমূল প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিল হয়েছে, এবার সেই একই খাঁড়া মেদিনীপুরের প্রার্থীর ওপর নেমে আসে কি না, তা নিয়ে শুরু হয়েছে জল্পনা।
বিজেপির অভিযোগ ঠিক কী?
বিজেপি প্রার্থী শঙ্কর গুছাইতের দাবি, সুজয় হাজরা একটি পার্টনারশিপ ফার্ম বা অংশীদারি ব্যবসার সঙ্গে লাভজনকভাবে জড়িত। কিন্তু হলফনামার নির্দিষ্ট কলামে তিনি দাবি করেছেন যে, তাঁর এমন কোনও পার্টনারশিপ ব্যবসা নেই। শুধু তাই নয়, আয়ের হিসাবের ক্ষেত্রেও সুজয় বড়সড় গরমিল করেছেন বলে অভিযোগ তুলেছে বিজেপি। যাবতীয় নথিপত্র সংবাদমাধ্যমের সামনে তুলে ধরে শঙ্কর গুছাইত বলেন, "সুজয়বাবু নির্বাচন কমিশনকে ভুল তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করছেন। আমরা অবিলম্বে তাঁর প্রার্থীপদ বাতিলের দাবি জানাচ্ছি।"
কী বলছেন সুজয় হাজরা?
অভিযোগ অস্বীকার করে তৃণমূল প্রার্থী সুজয় হাজরা অবশ্য একে বিজেপির ‘বিভ্রান্তি ছড়ানোর রাজনীতি’ বলেই বর্ণনা করেছেন। তাঁর পাল্টা যুক্তি, "আমার পেশা যে ব্যবসা, তা তো হলফনামায় স্পষ্ট উল্লেখ করা আছে। আয়কর রিটার্নের যাবতীয় তথ্যও দিয়েছি। সেখানে তথ্য গোপনের কোনও প্রশ্নই ওঠে না। বিজেপি আসলে ভয় পেয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। নির্বাচন কমিশন যদি এ বিষয়ে আমাকে প্রশ্ন করে, তবে আমার আইনজীবী আইন মেনেই তার জবাব দেবেন।"
ভোটের আগে এই আইনি সংঘাত মেদিনীপুর কেন্দ্রের লড়াইয়ে নয়া মাত্রা যোগ করেছে। এখন কমিশনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক মহল। অভিযোগ যদি প্রমাণিত হয়, তবে মেদিনীপুরে তৃণমূলের প্রচার পরিকল্পনা বড়সড় ধাক্কা খেতে পারে।