এদিন দুপুরে শুভেন্দু অধিকারী এবং রূপা গাঙ্গুলিকে পাশে নিয়ে ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ডের উদ্বোধন করেন স্মৃতি ইরানি। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মাছ-মাংস নিয়ে তৃণমূলের ‘অপপ্রচারে’র জবাব দেন তিনি। স্মৃতি স্পষ্ট করে দেন, বাংলায় বিজেপি সরকার এলে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কোনও বিধিনিষেধ আসবে না।

স্মৃতি ইরানি
শেষ আপডেট: 15 April 2026 18:05
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ছাব্বিশের বিধানসভা ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) প্রচারে তৃণমূলের অন্যতম প্রধান হাতিয়ার এখন ‘আমিষ বনাম নিরামিষ’। তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্ব থেকে নীচুতলার কর্মী - বারবার দাবি করছেন, বিজেপি ক্ষমতায় এলে বাংলায় মাছ-মাংস খাওয়া বন্ধ হয়ে যাবে। বুধবার কলকাতায় সাংবাদিক বৈঠক থেকে এই অভিযোগকে কার্যত ফুৎকারে উড়িয়ে দিলেন বিজেপি নেত্রী স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani)। স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতেই তাঁর পাল্টা চ্যালেঞ্জ, “ইলিশ মাছ নিয়ে আসুন, আমি নিজে বেছে খাইয়ে দিচ্ছি।”
এদিন দুপুরে শুভেন্দু অধিকারী এবং রূপা গাঙ্গুলিকে পাশে নিয়ে ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ডের উদ্বোধন করেন স্মৃতি ইরানি। সেখানেই সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মাছ-মাংস নিয়ে তৃণমূলের ‘অপপ্রচারে’র জবাব দেন তিনি। স্মৃতি স্পষ্ট করে দেন, বাংলায় বিজেপি সরকার এলে খাদ্যাভ্যাস নিয়ে কোনও বিধিনিষেধ আসবে না। বরং এই ধরনের লঘু বিষয়ে আলোচনা না করে নারী নিরাপত্তা ও দুর্নীতির মতো গুরুতর ইস্যুতে তৃণমূলের জবাব দেওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি। কেবল আমিষ তর্কের জবাব দিয়েই ক্ষান্ত থাকেননি স্মৃতি ইরানি। তিনি অভিযোগ তোলেন, বিপুল চাহিদা থাকা সত্ত্বেও পশ্চিমবঙ্গ এখনও মাছ উৎপাদনে আত্মনির্ভর হতে পারেনি।
উল্লেখ্য, এর আগে রাজ্য সফরে এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও একই অভিযোগ তুলেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, “বিগত ১১ বছরে সারা দেশে মাছের উৎপাদন দ্বিগুণ হয়ে গিয়েছে। অথচ পশ্চিমবঙ্গকে এখনও অন্য রাজ্য থেকে মাছ আমদানি করতে হচ্ছে। তৃণমূল সরকারের ভ্রান্ত নীতির কারণেই রাজ্যের মৎস্যজীবীরা সেই উন্নতির স্বাদ পাননি।” এদিন সেই একই সুর শোনা গেল স্মৃতির গলাতেও।
স্মৃতি ইরানির মতে, তৃণমূল ইচ্ছাকৃতভাবে মাছ-মাংসের ভয় দেখিয়ে আসল সমস্যাগুলো ধামাচাপা দিতে চাইছে। তাঁর দাবি, “আরজি করের ঘটনা হোক বা রেশন দুর্নীতি - এই সব প্রশ্নের কোনও উত্তর নেই শাসক দলের কাছে। তাই তারা মাছ-মাংস বন্ধের মতো অবান্তর কথা বলে মানুষের নজর ঘোরানোর চেষ্টা করছে।”
ভোটের লড়াই যখন বুথ থেকে হেঁশেল পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছে, তখন স্মৃতি ইরানির এই ‘ইলিশ চ্যালেঞ্জ’ যে বাংলার রসনাবিলাসী ভোটারদের আশ্বস্ত করারই কৌশল, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার, মাছ-মাংসের এই রাজনীতি শেষ পর্যন্ত ইভিএমে কী প্রতিফলন ঘটায়।