বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডটি হবে সেই ভাতার নিশ্চয়তা। এদিন দুর্গাপুর পূর্বে বিজেপি মহিলা মোর্চার পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই কার্ডের ফর্ম ফিলাপ করা শুরু হয়েছে। মহিলাদের নাম, ফোন নম্বর ও ঠিকানা দিয়ে ফর্ম পূরণ করে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এই ‘ভরসা কার্ড’।

স্মৃতি ইরানি এবং শুভেন্দু অধিকারী
শেষ আপডেট: 15 April 2026 17:23
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৬-এর ভোটের (West Bengal Assembly Election 2026) জন্য তৈরি বিজেপির ইস্তাহারে লেখা ছিল ‘নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত’ পরিবারের কথা। তা নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধন্দ - তবে কি লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের মতো বাংলার সব মহিলারা ভাতার আওতায় আসবেন না? বুধবার সেই ধোঁয়াশা পুরোপুরি কাটিয়ে দিলেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী স্মৃতি ইরানি (Smriti Irani)। কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন, “কোনও ভেদাভেদ নেই, বাংলার সব মহিলারাই মাসিক ৩,০০০ টাকা করে পাবেন। এটাই বিজেপির সংকল্প।”
বুধবার দুপুরে শুভেন্দু অধিকারী এবং রূপা গাঙ্গুলিকে পাশে নিয়ে বিজেপির বিশেষ ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ড উন্মোচন করেন স্মৃতি ইরানি। এদিন প্রতিকি হিসেবে পাঁচ জন মহিলার হাতে এই ‘ভরসা কার্ড’ তুলেও দেওয়া হয়। স্মৃতি ইরানির এই আশ্বাসের পর রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন, তৃণমূলের ‘লক্ষ্মীর ভাণ্ডার’-কে টেক্কা দিতে এবার টাকার অঙ্ক বাড়ানোর ওপরই সবথেকে বেশি বাজি ধরছে পদ্ম শিবির।
কী এই ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ড?
বিজেপির পরিকল্পনা অনুযায়ী, এই কার্ডটি হবে সেই ভাতার নিশ্চয়তা। এদিন দুর্গাপুর পূর্বে বিজেপি মহিলা মোর্চার পক্ষ থেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে এই কার্ডের ফর্ম ফিলাপ করা শুরু হয়েছে। মহিলাদের নাম, ফোন নম্বর ও ঠিকানা দিয়ে ফর্ম পূরণ করে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে এই ‘ভরসা কার্ড’। বিজেপির দাবি, ৫ মে সরকার গড়ার পর মাসের ১ থেকে ৫ তারিখের মধ্যেই সরাসরি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পৌঁছে যাবে এই ৩,০০০ টাকা।
বিজেপির নির্বাচনী ইস্তাহারে ‘নিম্ন ও নিম্ন মধ্যবিত্ত’ শব্দের উল্লেখ থাকায় বিরোধীরা প্রশ্ন তুলেছিলেন, বিজেপি কি তবে বিভাজন করতে চাইছে? কারণ তৃণমূলের লক্ষ্মীর ভাণ্ডার প্রকল্পের সুবিধা বর্তমানে প্রায় সব স্তরের মহিলাই পান। এই প্রশ্নের উত্তরেই এদিন স্মৃতি ইরানি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মহিলাদের কেবল রাজনীতির বোরে হিসেবে ব্যবহার করেছে। কিন্তু বিজেপি সরকার গড়লে কোনও বাছবিচার ছাড়াই বাংলার প্রত্যেক মহিলা এই ৩,০০০ টাকার অধিকারী হবেন।”
গত শুক্রবার ইস্তাহার প্রকাশের সময় অমিত শাহ দাবি করেছিলেন, বাংলায় মহিলাদের অবস্থা অত্যন্ত শোচনীয়। সেই পরিস্থিতি বদলাতেই ভাতার অঙ্ক এক ধাক্কায় অনেকটা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বিজেপি। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, লক্ষ্মীর ভাণ্ডারকে বাংলার নারীরা যেভাবে আপন করে নিয়েছেন, তা ভাঙতে ৩,০০০ টাকার এই মেগা অফার এবং ‘ভরসা কার্ড’-এর মাধ্যমে মানুষের ঘরে পৌঁছানোর কৌশল নিয়েছে গেরুয়া শিবির।
ভোটের ফল প্রকাশের পর এই প্রতিশ্রুতি বাস্তবের মুখ দেখে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও, স্মৃতির এদিনের ঘোষণার পর ‘মাতৃশক্তি ভরসা’ কার্ড যে তৃণমূলের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য।