যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেলে পরিস্থিতি ফের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই এই বিরতিকে কাজে লাগিয়ে ফের আলোচনার টেবিলে বসার চেষ্টা চলছে। মধ্যস্থতাকারীরা চাইছেন, দীর্ঘস্থায়ী কোনও সমাধানে পৌঁছনোর আগে অন্তত সাময়িক স্থিতাবস্থা বজায় থাকুক।

শেষ আপডেট: 15 April 2026 18:46
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে থাকা আরব দুনিয়ায় কি এবার শান্তির বাতাস বইবে (Middle East Crisis)? গত এক সপ্তাহ ধরে চলা আমেরিকা-ইরান যুদ্ধবিরতির (US-Iran Ceasefire) মেয়াদ আরও বাড়ানোর লক্ষ্যে বড়সড় সাফল্যের ইঙ্গিত দিলেন আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা। সূত্রের খবর, ওয়াশিংটন এবং তেহরান - উভয় পক্ষই এই শান্তি চুক্তির মেয়াদ (US-Iran Ceasefire Extended) বাড়াতে ‘নীতিগতভাবে’ (In principle) সম্মত হয়েছে।
আলোচনার পথ প্রশস্ত করার চেষ্টা
নিউজ এজেন্সি এপি (AP)-র রিপোর্ট অনুযায়ী, দু’পক্ষই মনে করছে যে এখনই যুদ্ধবিরতি শেষ হয়ে গেলে পরিস্থিতি ফের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। তাই এই বিরতিকে কাজে লাগিয়ে ফের আলোচনার টেবিলে বসার চেষ্টা চলছে। মধ্যস্থতাকারীরা চাইছেন, দীর্ঘস্থায়ী কোনও সমাধানে পৌঁছনোর আগে অন্তত সাময়িক স্থিতাবস্থা বজায় থাকুক।
অবরোধ নিয়ে দানা বাঁধছে ক্ষোভ
তবে যুদ্ধবিরতিতে সায় দিলেও পরিস্থিতি এখনও যথেষ্ট জটিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ (Blockade) জারি রেখেছে।
তেহরানের অভিযোগ, এই অবরোধের ফলে তাদের অর্থনীতি ধসে পড়ছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে। ইরানের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যে হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে যে, এই চাপ বজায় থাকলে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী হওয়া অসম্ভব।
পেন্টাগনের কড়া নজরদারি
অন্যদিকে ওয়াশিংটনও খুব একটা নরম সুর দেখাচ্ছে না। তাদের দাবি, ইরান যদি প্রচ্ছন্ন মদত দেওয়া বন্ধ না করে, তবে অর্থনৈতিক চাপ কমানো হবে না। এই অনড় অবস্থানের ফলে মধ্যস্থতাকারীদের কাজ কিছুটা কঠিন হয়ে পড়েছে।
আগামী দিনগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ
আন্তর্জাতিক মহলের নজর এখন হোয়াইট হাউস এবং তেহরানের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে। এই ভঙ্গুর শান্তি চুক্তি শেষ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ চুক্তিতে রূপ নেয়, নাকি ফের মিসাইল আর ড্রোন হানায় কেঁপে ওঠে আরব দুনিয়া - সেটাই এখন দেখার। আপাতত দু’পক্ষই ‘সময় কেনার’ নীতি নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।