৭০টিরও বেশি মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা সংস্থা একযোগে মেটাকর্তা মার্ক জুকারবার্গকে সতর্ক করে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি অপরাধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার সমান।

আইনি প্যাঁচে মেটা
শেষ আপডেট: 15 April 2026 17:00
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ধরুন, আপনি রাস্তা দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন আর কেউ একজন শুধু চোখে চশমা লাগিয়ে আপনার দিকে তাকিয়ে আপনার নাম, পরিচয় সব জেনে ফেলল। সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো মনে হলেও মেটা (Meta) এই প্রযুক্তিকেই বাস্তব করতে চলেছে। কিন্তু এই ‘স্মার্ট গ্লাস’ (Meta smart glass privacy risk) নিয়েই এখন তোলপাড় বিশ্ব।
৭০টিরও বেশি মানবাধিকার ও নাগরিক অধিকার রক্ষা সংস্থা একযোগে মেটাকর্তা মার্ক জুকারবার্গকে সতর্ক (Meta facial recognition glasses warning) করে জানিয়েছে, এই প্রযুক্তি অপরাধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার সমান (meta facial recognition risk for women safety)।
কী এই ‘নেম ট্যাগ’ প্রযুক্তি?
রিপোর্ট অনুযায়ী, মেটা তাদের ‘রে-ব্যান’ এবং ‘ওকলে’ স্মার্ট গ্লাসে ‘নেম ট্যাগ’ (Name Tag) নামক একটি ফিচার নিয়ে কাজ করছে। এর মাধ্যমে চশমা পরা ব্যক্তি এআই বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সাহায্য নিয়ে রিয়েল টাইমে যে কোনও মানুষের পরিচয় জেনে নিতে পারবেন। অর্থাৎ, ভিড়ের মধ্যে আপনি যদি সম্পূর্ণ অপরিচিত কারও দিকে তাকান, এই চশমা নিমেষে তাঁর ডিজিটাল পরিচয় আপনার সামনে এনে দেবে।
কেন এত আতঙ্ক?
আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন (ACLU)-সহ একাধিক সংস্থা মনে করছে, এই প্রযুক্তি 'স্টকার', যৌন অপরাধী এবং দুষ্কৃতীদের জন্য আশীর্বাদ হয়ে দাঁড়াবে। কোনও মহিলার পিছু নেওয়া বা জনসমক্ষে কাউকে হেনস্থা করা এই চশমার দৌলতে অনেক সহজ হয়ে যাবে। প্রতিবাদ সভা, ধর্মীয় স্থান বা হাসপাতালের মতো স্পর্শকাতর জায়গায় সাধারণ মানুষের গোপনীয়তা বলতে আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।
জুকারবার্গকে লেখা চিঠিতে সংগঠনগুলো জানিয়েছে, “সাধারণ মানুষের পক্ষে এই ‘স্ক্যানিং’ থেকে বাঁচার কোনও উপায় নেই। নকশা বদলে বা অপ্ট-আউট (প্রযুক্তি ব্যবহার না করার বিকল্প) দিয়ে এই ঝুঁকি মেটানো অসম্ভব।”
আইনি প্যাঁচে মেটা
গোপনীয়তা লঙ্ঘনের ইতিহাস মেটার জন্য নতুন নয়। ২০২১ সালে আইনি চাপে পড়ে ফেসবুকের ‘ফেসিয়াল ট্যাগিং’ সিস্টেম বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছিল তারা। এর জন্য মেটাকে কোটি কোটি ডলার জরিমানাও গুনতে হয়েছে। তা সত্ত্বেও ফের এই প্রযুক্তি ফেরানো নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন উঠছে। অধিকার রক্ষা গোষ্ঠীগুলি এখন ফেডরাল ট্রেড কমিশনের কাছে এই প্রযুক্তি নিষিদ্ধ করার দাবি জানিয়েছে।
স্বচ্ছতার দাবি
সংস্থাগুলি কেবল নিষেধাজ্ঞাই চায়নি, বরং মেটার কাছে জানতে চেয়েছে যে, তাদের তৈরি এই যন্ত্রগুলো (Wearable Devices) ইতিমধ্যে কোনও গার্হস্থ্য হিংসা বা হেনস্থার ঘটনায় ব্যবহার হয়েছে কি না। কিন্তু মেটা কর্তৃপক্ষ এখনও এই উদ্বেগের বিষয়ে মুখ খোলেনি।