১৯৮৯ সালে নেতৃত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতি বছরই এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন খামেইনি, এমনকি কোভিড-১৯ মহামারীর সময়েও তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।

আয়াতোল্লা খামেইনি
শেষ আপডেট: 9 February 2026 15:37
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আরব দুনিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইরানের (Iran US Tensions) সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লা আলি খামেইনি (Ayatolla Ali Khameini) তাঁর এক দীর্ঘস্থায়ী ঐতিহ্য ভেঙেছেন। রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) বার্ষিক বিমানবাহিনীর সঙ্গে বৈঠকে তিনি অংশগ্রহণ করেননি। ১৯৮৯ সালে নেতৃত্ব নেওয়ার পর থেকে প্রায় প্রতি বছরই এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকেছেন খামেইনি, এমনকি কোভিড-১৯ (Covid-19) মহামারীর সময়েও তিনি এই দায়িত্ব পালন করেছিলেন বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
বার্ষিক এই অনুষ্ঠান, যা ইরানের ‘এয়ার ফোর্স ডে’ (Iran Air Force Day) হিসেবে চিহ্নিত, ১৯৭৯ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পূর্ব পহলাভি শাসন ব্যবস্থাকে উৎখাত করে রুহোল্লাহ খোমেইনির প্রতি আনুগত্যের অঙ্গীকার করার স্মৃতি। দীর্ঘ চার দশক ধরে ইরানি বায়ুসেনা ও উচ্চপদস্থ কমান্ডাররা এই দিনে দেশের রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করতেন।
তবে এবারের অনুষ্ঠানে খামেইনির বদলে দেশের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান স্টাফ মার্শাল আবদোলরহিম মৌসাভি বিমানবাহিনী প্রধানদের সঙ্গে দেখা করেন। এই অনুপস্থিতি এমন সময়ে ঘটছে যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক প্রস্তুতি ও বাহিনীর সংখ্যা বারছে বলে আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে এই অনুপস্থিতি শুধুমাত্র একটি আনুষ্ঠানিক পরিবর্তন নয়; এটি ইরানের নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর গভীর প্রভাব ফেলতে পারে এমন সংকটের প্রতিফলন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সম্পর্কের উত্তেজনা মূলত চলছে পারমাণবিক আলোচনার জটিলতার পাশাপাশি সামরিক চাপ বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটেও। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সশস্ত্র সংঘাতের আশঙ্কা এবং কূটনৈতিক দ্বন্দ্ব একে অপরকে প্রবলভাবে প্রভাবিত করছে - খামেইনির অনুপস্থিতি এমন পরিস্থিতিতে রণনীতিগত সতর্কতার ইঙ্গিত দিতে পারে।
এদিকে ইরান নিজেও ঘোষণা দিয়েছে যে তারা কোনও ভাবেই কোনও বাহ্যিক চাপের কাছে মাথা নিচ্ছে না এবং এও বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি কোনও আক্রমণ সামগ্রিকভাবে আরব দুনিয়ার জন্য বিরাট সংঘাত সৃষ্টি করবে।
এই ঘটনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন করে যুদ্ধের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কূটনৈতিক আলোচনা থেমে থাকলেও উভয় পক্ষই তাদের অবস্থান দৃঢ় রাখছে - ইরান শুধু পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কথা বলবে বলেই পুনরায় ঘোষণা করেছে, আর যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক শক্তি প্রয়োগের সম্ভাবনা পর্যন্ত জিইয়ে রেখেছে।