গত ডিসেম্বর মাশহাদে মানবাধিকার আইনজীবী খসরু আলিকোর্দিকে সম্মান জানাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।

শেষ আপডেট: 9 February 2026 00:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী (nobel laureate) মানবাধিকার কর্মী নার্গিস মহম্মদি (Narges Mohammadi)-কে আরও সাত বছরের বেশি কারাদণ্ড দিল ইরান। সমর্থকদের দাবি, তিনি অনশন (Hunger Strike) শুরু করার পরই এই নতুন সাজা ঘোষণা করা হয়েছে। দেশের ভিতরে ভিন্নমত দমনে তেহরানের (Tehran) কড়া অবস্থানের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত সামনে এল।
মহম্মদির আইনজীবী মোস্তাফা নিলি সোশ্যাল মিডিয়ায় জানান, শনিবার মাশহাদের এক বিপ্লবী আদালত এই রায় দিয়েছে। তাঁর কথায়, “ষড়যন্ত্র ও যোগসাজশ”-এর অভিযোগে ছ’বছরের জেল, “মত ও নীতি প্রচারের পরিকল্পনা”-র অভিযোগে দেড় বছরের জেল এবং সঙ্গে দু’বছরের ভ্রমণ-নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। ইরান সরকার (Iran Government) আনুষ্ঠানিকভাবে রায় স্বীকার না করলেও সমর্থকদের দাবি, ২ ফেব্রুয়ারি থেকে অনশনে রয়েছেন মহম্মদি। গত ডিসেম্বর মাশহাদে মানবাধিকার আইনজীবী খসরু আলিকোর্দিকে সম্মান জানাতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।
এই রায়ের সময়টি তাৎপর্যপূর্ণ। একই সময়ে ইরান তাদের পরমাণু কর্মসূচি (Nuclear Program) নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা (Iran US Talks) চালাচ্ছে, যাতে সম্ভাব্য সামরিক সংঘাত এড়ানো যায়। তেহরানে কূটনীতিকদের এক বৈঠকে ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি স্পষ্ট জানান, ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ইরানের অধিকার এবং এ নিয়ে তারা কোনও আপস করবে না। তাঁর কথায়, “বড় শক্তিগুলিকে ‘না’ বলতে পারাই ইরানের শক্তি।”
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসৌদ পেজেশকিয়ান ওমানে হওয়া আলোচনাকে “এক ধাপ এগোনো” বলে বর্ণনা করলেও আরাঘচির বক্তব্যে কঠোর অবস্থানই ফুটে ওঠে। মার্কিন নৌবাহিনীর উপস্থিতি, যুদ্ধজাহাজ ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন - সব মিলিয়ে চাপের কূটনীতি স্পষ্ট। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আলোচনার পর ইঙ্গিত দেন, ইরান চুক্তিতে আগ্রহী।
আরাঘচি বক্তৃতায় “অ্যাটমিক বম্ব” শব্দবন্ধকে অলঙ্কার হিসেবে ব্যবহার করে বলেন, পশ্চিমের আশঙ্কা সত্ত্বেও ইরান পরমাণু বোমা তৈরির পথে নয়। তবে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA) এবং পশ্চিমি দেশগুলির দাবি, অতীতে ইরানের সামরিক পরমাণু কর্মসূচি ছিল এবং বর্তমানে ৬০ শতাংশ পর্যন্ত ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করা হয়েছে, যা অস্ত্রমানের ৯০ শতাংশের খুব কাছাকাছি।
এই আবহেই নার্গিস মহম্মদির সাজা ইরানে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। গৌরবময় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি থাকা সত্ত্বেও দেশে তাঁর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক মামলা ও কারাবাস - তেহরানের ভিন্নমত দমনের নীতিকেই সামনে এনে দিয়েছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।