Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
TB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রীছত্তীসগড়ে পাওয়ার প্ল্যান্টে ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণ! মৃত অন্তত ৯, ধ্বংসস্তূপের নীচে অনেকের আটকে পড়ার আশঙ্কা

Nobel Prize: শুধু পুঁজি নয়, সৃজনশীল ধ্বংসও অর্থনীতির চাকা ঘোরায়, যে ব্যাখ্যায় নোবেল ৩ অর্থনীতিবিদকে

কেন তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হল? কারণ, তাঁরা যুক্তি, তর্ক ও গবেষণা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, শুধু পুঁজি বা শ্রম নয় — নতুন চিন্তা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনই আসল চালিকাশক্তি, যা একটি দেশ বা সমাজকে দীর্ঘমেয়াদে সমৃদ্ধ করে তুলতে পারে।

Nobel Prize: শুধু পুঁজি নয়, সৃজনশীল ধ্বংসও অর্থনীতির চাকা ঘোরায়, যে ব্যাখ্যায় নোবেল ৩ অর্থনীতিবিদকে

গ্রাফিক্স - শুভ্র শর্ভিন

নিশান্ত চৌধুরী

শেষ আপডেট: 13 October 2025 16:27

দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৫ সালের অর্থনীতির নোবেল পুরস্কার (Nobel Prize in Economic Sciences) জয় করলেন তিন জন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ — জোয়ের মোকিয়র (Joel Mokyr), ফিলিপ আগিয়ন (Philippe Aghion) এবং পিটার হাওইট ( Peter Howitt)। কেন তাঁদের এই পুরস্কার দেওয়া হল? কারণ, তাঁরা যুক্তি, তর্ক ও গবেষণা দিয়ে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন, শুধু পুঁজি বা শ্রম নয় — নতুন চিন্তা, প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনই আসল চালিকাশক্তি, যা একটি দেশ বা সমাজকে দীর্ঘমেয়াদে সমৃদ্ধ করে তুলতে পারে।

ইতিহাসে দীর্ঘ সময় ধরে মানুষের জীবন প্রায় একই রকম ছিল। আয় বা জীবনযাত্রার মানে তেমন উন্নতি হতো না। কিন্তু শিল্পবিপ্লবের পর থেকে ছবিটা বদলে গেল। নতুন নতুন আবিষ্কার ও প্রযুক্তি একের পর এক আসতে শুরু করল — ফলে উৎপাদন বাড়ল, আয় বাড়ল, জীবনমান উন্নত হল। এই ধারাবাহিক উন্নতির পিছনের কারণই বিশদে ব্যাখ্যা করেছেন তিন অর্থনীতিবিদ।

জোয়েল মোকিয়র (Joel Mokyr) দেখিয়েছেন, শুধু কিছু কাজ করে ফেলা যথেষ্ট নয় — কেন সেটি কাজ করে, সেটাও বোঝা জরুরি। আগে অনেক আবিষ্কার হতো, কিন্তু তার বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা না থাকায় সেই প্রযুক্তির উপর ভিত্তি করে নতুন কিছু তৈরি করা যেত না। শিল্পবিপ্লব এই স্থানেই বদল আনে — বিজ্ঞানের ব্যাখ্যার সঙ্গে উদ্ভাবনের যোগ ঘটায়। এরই পাশাপাশি সমাজে উদার মনোভাবও জরুরি। কারণ মুক্ত চিন্তার পরিসর না থাকলে উন্নতি থেমে যায়।

ফিলিপ আগিয়ন ও পিটার হাওইটের এই দুই অর্থনীতিবিদ ১৯৯২ সালে এক গুরুত্বপূর্ণ মডেল তৈরি করেন — যার নাম “Creative Destruction” বা “সৃজনশীল ধ্বংস”। এর মানে হল—যখন নতুন ও ভাল কোনও পণ্য বা প্রযুক্তি বাজারে আসে, পুরনো জিনিসগুলি ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। নতুনটি সৃজনশীল, কারণ সেটি উন্নততর। কিন্তু একই সঙ্গে ধ্বংসাত্মক, কারণ পুরনো প্রযুক্তি ও প্রতিষ্ঠানগুলো টিকে থাকতে পারে না। এই সংঘাতকে যদি সঠিকভাবে সামলানো যায়, তাহলে সমাজ এগোয়। আর যদি না যায়, তাহলে নতুন উদ্ভাবন আটকে যায়, অর্থনীতি থমকে যায়। নোবেল কমিটির মতে, এই গবেষণা আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অর্থনৈতিক উন্নতি এমনি এমনি হয়ে যায় না। সমাজে নতুন চিন্তা ও প্রযুক্তিকে জায়গা দিতে হয়, প্রতিযোগিতাকে উৎসাহ দিতে হয়, যাতে নতুন উদ্ভাবন পুরনোকে প্রতিস্থাপন করতে পারে। এই ধাক্কা ও পরিবর্তনের মাধ্যমেই অর্থনীতি ক্রমশ মজবুত হয়।

নোবেল কমিটির চেয়ারম্যান জন হাসলারের কথায়, “অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে ধরে রাখতে গেলে আমাদের সৃজনশীল ধ্বংসের প্রক্রিয়াকে চালু রাখতে হবে। নইলে আমরা আবার স্থবিরতায় ফিরে যাব।”  এই পুরস্কারের আর্থিক অঙ্ক হল, ১.১ কোটি সুইডিশ ক্রোনা। এর অর্ধেক অর্থ জোয়েল মোকিয়রকে এবং বাকি অর্ধেক আগিয়ন ও হাওইটকে যৌথভাবে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স ও কানাডার বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক। এই আবিষ্কার ও তত্ত্বের জন্যই তাঁদের দেওয়া হয়েছে Sveriges Riksbank Prize in Economic Sciences in Memory of Alfred Nobel 2025— যা জনপ্রিয়ভাবে অর্থনীতির নোবেল পুরস্কার নামে পরিচিত।


```