জাতিসংঘের (UN) মানব উন্নয়ন সূচকে পাকিস্তান ১৯৪ দেশের মধ্যে ১৬৪তম। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে, এরপরই আফগানিস্তান। মানুষের আয়ু কম, শিক্ষা কম, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভঙ্গুর- সব মিলিয়ে দেশটি উন্নয়ন থেকে বহু দূরে।

নিজের হাতেই পতনের গল্প লিখেছে পাকিস্তান! (ছবি- এআই)
শেষ আপডেট: 2 April 2026 16:47
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দক্ষিণ এশিয়ার (South Asia) অর্থনৈতিক মানচিত্রে পাকিস্তান (Pakistan) একসময় ছিল সবার আগে। ২০০০ সালে দেশটির মাথাপিছু আয় ছিল ৭৩৩ ডলার যেখানে ভারতের (India) ছিল মাত্র ৪৪২ ডলার। নতুন শতাব্দীর শুরুতে পাকিস্তানের কাছে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল (Pakistan vs India GDP)। কিন্তু সেই গতি হারাল দেশটি নিজেদের ভুল সিদ্ধান্তেই। সন্ত্রাসকে (Pakistan terrorism impact) রাষ্ট্রনীতির অংশ করে তোলাই আজকের এই বিপর্যয়ের মূল কারণ (Pakistan economy decline), এমনটাই বলছে আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক রিপোর্ট।
অর্থনীতির পতনের পথচলা
২০২৪ সালে পাকিস্তানের মাথাপিছু আয় দাঁড়িয়েছে মাত্র ১ হাজার ৫৭৪ ডলারে। বিপরীতে ভারতের মাথাপিছু আয় ছুঁয়েছে ২ হাজার ৭১১ ডলার- যা পাকিস্তানের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। বাংলাদেশ (Bangladesh), যে দেশ ১৯৭১ সালে যুদ্ধ ও দুর্ভিক্ষের মধ্যে দিয়ে পাকিস্তান থেকে আলাদা হয়েছিল, আজ তাদের মাথাপিছু আয়ও পাকিস্তানকে বহু পিছনে ফেলেছে।
দক্ষিণ এশিয়ার সাত দেশের মধ্যে মাথাপিছু আয়ে পাকিস্তানের অবস্থান এখন শেষের দিকে- আফগানিস্তান ছাড়া কারও ওপরে নেই।
সন্ত্রাসে ‘বিনিয়োগ’- অর্থনীতির গতি থামার বড় কারণ
২০০৮ সাল পর্যন্ত পাকিস্তান তুলনামূলকভাবে এগিয়ে ছিল। কিন্তু একই বছরেই পাকিস্তান মদতপুষ্ট লস্কর-ই-তইবার জঙ্গিরা ২৬/১১ হামলা চালায় মুম্বইয়ে (Mumbai 26/11 Attack)। অর্থনীতি দুর্বল হওয়া সত্ত্বেও প্রতিবেশী দেশে রফতানি করা হয় সন্ত্রাস। আমেরিকার বিচার বিভাগও নিশ্চিত করে, পাকিস্তান থেকেই পাঠানো হয়েছিল ওই ১০ জঙ্গিকে, যারা ১২টি সমন্বিত হামলায় ১৬৬ জনকে হত্যা করে।
যখন ভারতের অর্থনীতি দ্রুত বাড়ছিল, পাকিস্তান তখন সন্ত্রাসের পথ বেছে নেয়, আর সেই সিদ্ধান্তের ফল আজও ভোগ করছে দেশটি।
একটির পর একটি আইএমএফ ঋণ, কিন্তু উন্নয়ন শূন্য
১৯৫৮ সাল থেকে পাকিস্তান আইএমএফের (IMF) কাছ থেকে ২৪ বার ঋণ নিয়েছে, যা বিশ্বের অন্যান্য দেশগুলির তুলনায় অনেক বেশি। প্রতিবারই বিদেশি আর্থিক সাহায্য উন্নয়ন নয়, বরং সামরিক ব্যয় ও গোয়েন্দা কার্যকলাপের দিকে ঘুরে যায় বলে অভিযোগ।
জাতিসংঘের (UN) মানব উন্নয়ন সূচকে পাকিস্তান ১৯৪ দেশের মধ্যে ১৬৪তম। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সবচেয়ে পিছিয়ে, এরপরই আফগানিস্তান। মানুষের আয়ু কম, শিক্ষা কম, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ভঙ্গুর- সব মিলিয়ে দেশটি উন্নয়ন থেকে বহু দূরে।
সন্ত্রাসের ফল নিজেদের ঘাড়েই
FATF-এর (Financial Action Task Force) গ্রে লিস্টে তিনবার নাম উঠে পাকিস্তানের (Pakistan)। ২০২২-এ তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও পরের তিন বছরে পাকিস্তানের ভেতরেই বেড়ে যায় জঙ্গি হামলা। ২০২৫ সালে হামলার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৪২৫, যা ২০২২-এর তুলনায় প্রায় চারগুণ। ২০২৬ সালে পাকপ্রতিরক্ষামন্ত্রী খোদ স্বীকার করেন, পাকিস্তান কার্যত 'উন্মুক্ত যুদ্ধে' জড়িয়ে পড়েছে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে।
বিনিয়োগ পড়ে গেছে, দেশ টিকে আছে প্রবাসী আয়ে
ব্যবসা করার সুযোগের দিক থেকে পাকিস্তান ২০০৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে ৮৬ ধাপ নীচে নেমে গেছে। বিদেশি বিনিয়োগ কমছে, স্টার্টআপ তহবিল ৯০ শতাংশ কমে গেছে। দেশটিকে চালিয়ে যাচ্ছে একমাত্র প্রবাসীদের পাঠানো ৩৩ বিলিয়ন ডলার রেমিট্যান্স (২০২৪), যারা দেশে সুযোগ না পেয়ে বাইরে গিয়ে উপার্জন করছেন।
পাকিস্তানের বর্তমান সংকট কোনও আকস্মিক বিপর্যয় নয়। দেশটি নিজেই বেছে নিয়েছিল ভুল দিক, সন্ত্রাস, সামরিক আধিপত্য ও রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতাকে। অর্থনীতি, শিক্ষা, উন্নয়ন- সবই পিছিয়ে পড়ল সেই সিদ্ধান্তে। সংখ্যাগুলো কোনও মতামত নয়, সেগুলো শুধু পাকিস্তানের নিজের তৈরিই ভবিষ্যদ্বাণী।