দেশটির জরুরি পরিষেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড আদম’ (MDA) জানিয়েছে, শহরের আইটি হাবের কাছে মাটিতে আছড়ে পড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র।

ইজরায়েলের ছবি
শেষ আপডেট: 21 June 2025 17:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার রাত থেকে শুরু হয় নতুন করে লড়াই। আপাতত ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রে জেরবার ইজরায়েল। শুক্রবার রাতে ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে পড়ে সেখানকার বিয়ার শেভা শহরে। ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে বলে ইজরায়েল দাবি করলেও শুক্রবার ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকেই আগুন লাগে বেশ কয়েকটি বাড়িতে। ক্ষতিগ্রস্ত শহরের আইটি সেক্টর।
সূত্রের খবব, এই এলাকায় বিশ্বের একাধিক নামী সংস্থার অফিস রয়েছে, যার একাংশে বিরাট ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর মধ্যে মাইক্রোসফট অন্যতম। রাস্তাজুড়ে দাউদাউ করে জ্বলতে থাকে একের পর এক গাড়ি। ভেঙে গিয়েছে একটি ভবনের সামনের দিকের অংশও। কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা আকাশ।
১৩ জুন ইজরায়েল প্রথম ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালায় ইরানে। তারপর থেকেই শুরু হয় ক্ষেপণাস্ত্রের লড়াই। পাল্টা জবাব দেয় ইরান। যার ফল ইজরায়েলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নেভাটিম এয়ারবেসের কাছে অবস্থিত বিয়ার শেভায় হামলা।
দেশটির জরুরি পরিষেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড আদম’ (MDA) জানিয়েছে, শহরের আইটি হাবের কাছে মাটিতে আছড়ে পড়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র। আশপাশের এলাকায় আগুন লেগে যায়। সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গিয়েছে, একাধিক গাড়ি জ্বলছে। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে একটি বহুতল। শুধু অফিস নয়, বহুতলের বিভিন্ন ফ্ল্যাটেও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
MDA-র প্যারামেডিক কর্মী দ্বির বেন জেভ বলেন, 'বিশাল টিম নিয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছই। দেখলাম রাস্তা জুড়ে ধোঁয়া, জ্বলছে গাড়ি। কোথাও যেন বিস্ফোরণ হয়েছে বারবার।' আপাতত কোনও প্রাণহানির খবর নেই, তবে অনেককে খোঁজ করে বের করতে হচ্ছে। পার্কের ভিতরে থাকা কর্মীদের জন্য তৈরি করা হয়েছে অস্থায়ী চিকিৎসাকেন্দ্র।'
ওই সংস্থা আরও জানিয়েছে, 'হোম ফ্রন্ট কম্যান্ড, দমকল এবং পুলিশের সঙ্গে যৌথভাবে বহুতলে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিশ্চিত হতে হবে ভিতরে কেউ আটকে আছে কি না।'
প্রসঙ্গত, বৃহস্পতিবারই বিয়ার শেভার সোরোকা মেডিক্যাল সেন্টারে ইরানি হামলায় ক্ষয়ক্ষতি হয়। তার পর শুক্রবার ফের সেই শহরই আক্রান্ত। অন্যদিকে, পাল্টা জবাবে শুক্রবার ইজরায়েল মধ্যরাতে ইরানের রাজধানী তেহরানে চালায় হামলা। ইজরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, তারা ইরানের পরমাণু গবেষণার মূল ঘাঁটি এসপিএনডি-সহ একাধিক মিসাইল উৎপাদন কেন্দ্র এবং গবেষণাগার নষ্ট করে দিয়েছে।
যুদ্ধের নবম দিনে পৌঁছে এই সংঘর্ষ আরও ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। পরিস্থিতি থিতিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে আরও ভয়াবহ হচ্ছে।