প্রত্যাঘাতের অস্ত্র হিসেবে ইরান তাদের ভাঁড়ার থেকে বের করছে একের পর এক মারণ ক্ষেপণাস্ত্র।

ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামার আগে ভাবার সময় নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শেষ আপডেট: 21 June 2025 16:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে নামার আগে ভাবার সময় নিচ্ছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কারণ, ভূ-রাজনৈতিক কৌশলগত দিক থেকে ইজরায়েলের সঙ্গে এই মুহূর্তে হাত মেলাতে গেলে আমেরিকার বিভিন্ন দিক ক্ষতি হতে পারে। প্রত্যাঘাতের অস্ত্র হিসেবে ইরান তাদের ভাঁড়ার থেকে বের করছে একের পর এক মারণ ক্ষেপণাস্ত্র। ইমাদ, গদর, খাইবার শেকান সহ প্রায় ৯ রকমের বিভিন্ন রকমের ক্ষেপণাস্ত্র আছড়ে এসে পড়েছে ইজরায়েলের নানান প্রান্তে। তার কোনওটার গতি ঘণ্টায় ৫৬০ থেকে ১২৪২ মাইল। ক্ষেপণাস্ত্রগুলির অধিকাংশই রাডারের চোখে ধুলো দিতে সক্ষম। এছাড়াও ইরানের হাতে রয়েছে, সেজ্জিল, খোররামশহর ৪, শাহাহাব ৩, পাভেহ, ফত্তেহ ২, খাইবার শেকান, হজ কাসেম-এর মতো মাঝারি পাল্লার অসংখ্য ক্ষেপণাস্ত্র। এর কয়েকটি ক্লাস্টার বোমা অর্থাৎ ঝাঁকের মতো বোমা ফেলতে সক্ষম।
এ কারণে এই যুদ্ধে জড়ানোর আগে আমেরিকা সাতপাঁচ ভেবে তবেই নামতে পারে। বিশেষত এ তাবৎ অঞ্চল জুড়ে ইরানের বিভিন্ন প্রতিবেশী দেশে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে আমেরিকার অসংখ্য ঘাঁটি। যেগুলির প্রত্যেকটিই ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালের মধ্যে পড়ে। ইরাক, সিরিয়া, জর্ডন, পারস্য উপসাগরীয় এবং আরবের বদ্বীপ এলাকায় মার্কিন ঘাঁটিগুলি ইতিমধ্যেই ইরানের রেজিস্ট্যান্স ফোর্সের নাগালে রয়েছে।

সম্প্রতি সিরিয়া-ইরাক সীমান্তের কাছে জর্ডনের মার্কিন ঘাঁটিতে ড্রোন হামলায় বেশ কয়েকজন সেনার মৃত্যু ও কয়েকজন জখম হয়েছিলেন। যাতে আমেরিকা এতদিন যে এলাকাগুলিকে নিরাপদ মনে করছিল, সেগুলি আসলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রের নাগালেই রয়েছে। সংবাদ সংস্থা সূত্রে জানা গিয়েছে, এ তাবৎ অঞ্চলে আমেরিকার প্রায় ৪০,০০০ থেকে ৪৫,০০০ হাজার সেনা মোতায়েন রয়েছে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যেমন এদের ব্যবহার করাও সহজ, তেমনই পাল্টা প্রত্যাঘাত হলে কিংবা ইরানের বন্ধুদেশগুলি তেহরানের পাশে দাঁড়ালে এই ঘাঁটিগুলির ভবিষ্যৎও সুরক্ষিত থাকবে না। যার জবাব দিতে হতে পারে ট্রাম্পকে।
ইমাদ- ব্যালেস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র। গদর-এর পরবর্তী প্রজন্মের অস্ত্র। নিখুঁত ও অব্যর্থ নিশানাভেদে সক্ষম। এতে এঁকেবেঁকে যাওয়ার ক্ষমতা বা প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হয়েছে। যার ফলে সহজেই শত্রু শিবিরের ক্ষেপণাস্ত্র বিধ্বংসী অস্ত্রের নাগাল এড়াতে পারে। ইরানের প্রথম অব্যর্থ নিশানাবাজ ক্ষেপণাস্ত্রের সিরিজে পড়ে। তরল জ্বালানিতে চলা সাড়ে ১৫ মিটার দীর্ঘ এই মিসাইলের ওজন ১,৭৫০ কেজি। ইমাদের পাল্লা ১,৭০০ কিমি।
গদর- শাহাহাব ৩-এর অত্যাধুনিক মডেল। মাঝারি পাল্লার এই ক্ষেপণাস্ত্র চলে দুটি রকেট সিস্টেমে। প্রথম দফায় তরল জ্বালানি, ও শেষেরটি কঠিন জ্বালানি নির্ভর। তিন প্রকারের গদর রয়েছে ইরানের হাতে। গদর-এস, যার পাল্লা ১,৩৫০ কিমি। গদর-এইচ, যার পাল্লা ১,৬৫০ কিমি এবং গদর-এফ, যার পাল্লা ১,৯৫০ কিমি। লম্বায় ১৫.৮৬ মিটার থেকে ১৬.৫৮ মিটার। ব্যাস ১.২৫ মিটার। ওজন ১৫ থেকে ১৭.৫ টনের মধ্যে। গদরের মাথার দিকে বেবি-বটল আকৃতির প্রযুক্তি রয়েছে। যার ফলে এর বাতাসে এর চলনক্ষমতা ও নিখুঁত নিশানাবাজিতে অনেক বেশি শক্তি যুক্ত হয়েছে।
খাইবার শেকান- মাঝারি পাল্লার ব্যালেস্টিক মিসাইল। খাইবার শেকান ১ এবং খাইবার শেকান ২ দুটি মডেলই ইজরায়েলের আকাশ সুরক্ষা ব্যবস্থা অ্যারো ৩ এবং ডেভিডস স্লিংয়ের চোখে ধুলো দিয়ে আঘাত হেনেছে। প্রায় ১,৪৫০ কিমি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র। চিরাচরিত এবং অচিরাচরিত দুই রকমেরই অস্ত্রবহনে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র।
এছাড়াও ইরান এখন শক্তি প্রদর্শনে ব্যবহার করছে সেজ্জিল, খাইবার বা খোররামশহর ৪ যেগুলি ২০০০ কিমি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারদর্শী। শাহাহাব-৩। পাভেহ হল দূরপাল্লার ক্রুজ গোত্রীয় ক্ষেপণাস্ত্র। পাভেহকে ইরান আস্তিনে লুকিয়ে রেখেছে আমেরিকার জন্য। বা তেমন প্রয়োজন পড়লে ইজরায়েলের মেরুদণ্ডে আঘাত হানার জন্য। ফত্তাহ-২ হল শব্দের চেয়ে পাঁচগুণ গতিতে ছোটা অর্থাৎ হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র। ইতিমধ্যেই একদিন ইজরায়েলে ফত্তাহ-২ চালিয়েছে ইরানের এলিট বাহিনী। হজ কাসেম হল ফতেহ-১১০-এর নতুন প্রজন্মের ক্ষেপণাস্ত্র। ১,৪০০ কিমি পাল্লার মাঝারি মানের এই মিসাইল ৫০০ কেজির বোমা বহনে সক্ষম। সর্বোচ্চ গতি মাক ১২। ওজন ৭ টন।