রাত আড়াইটে নাগাদ ইজরায়েলের সেনা (আইডিএফ) দেশের সব জায়গায় সতর্কতা জারি করে। জানিয়ে দেয়, ইরানের তরফে হামলা হতে পারে।

ছবি সংগৃহীত
শেষ আপডেট: 21 June 2025 10:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরান ও ইজরায়েলের যুদ্ধ আজ শনিবার গড়াল নবম দিনে। বিভিন্ন দেশের হাজারও চেষ্টার ফল শূন্য। থামার নাম নেই কোনও তরফেই। বরং দিন যত গড়াচ্ছে, ততই ভয়াবহ হচ্ছে পরিস্থিতি। শুক্রবার রাত থেকে একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় কেঁপে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। এবার ইরানের পাল্টা প্রত্যাঘাতে বিপর্যস্ত ইজরায়েলের বহু এলাকা। রাতভর বাজল মুহুর্মুহু সাইরেন।
রাত আড়াইটে নাগাদ ইজরায়েলের সেনা (আইডিএফ) দেশের সব জায়গায় সতর্কতা জারি করে। জানিয়ে দেয়, ইরানের তরফে হামলা হতে পারে। এর কিছুক্ষণ পরই তেল আভিভ, ওয়েস্ট ব্যাঙ্ক-সহ ইজরায়েলের অনেক এলাকায় সাইরেন বাজতে শুরু করে। আকাশে দেখা যায় ক্ষেপণাস্ত্র।
ইজরায়েলের দাবি, বেশির ভাগ ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু ধ্বংসাবশেষ পড়ে যায় বাড়ির ছাদে, তাতে আগুন ধরে যায়। এর ছবি ছড়িয়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়।
এর পর বসে থাকেনি ইজরায়েল। পাল্টা হামলা চালায় তারা। রাতের মধ্যেই একের পর এক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে ইরানের দিকে। ইজরায়েলের সেনা বলছে, ইরানের সেনাঘাঁটি আর ক্ষেপণাস্ত্র রাখার জায়গাগুলো ছিল তাদের নিশানায়। দক্ষিণ ইজরায়েলেও সারা রাত সাইরেন বেজেছে। ওদিকে ইরানও কম যায়নি, অন্তত পাঁচটা ব্যালিস্টিক মিসাইল ছুড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এই মুহূর্তে দুই দেশের ঠিক কতটা ক্ষতি হয়েছে, সেটা স্পষ্টভাবে জানা যায়নি। তবে আমেরিকার এক মানবাধিকার সংগঠন বলছে, ইরানে এই যুদ্ধের ফলে অন্তত ৬৩৯ জন মারা গেছেন। ইজরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের দেশে মৃত্যু হয়েছে ২৪ জনের।
কেন শুরু হল এই যুদ্ধ?
গত শুক্রবার ইজরায়েল প্রথমে হামলা চালায় ইরানে। তাতে মারা যান চার জন ইরানি সেনাকর্তা আর ন’জন পরমাণু বিজ্ঞানী। সেই ঘটনার পরই পাল্টা জবাব দিতে শুরু করে ইরান। এখন দুই দেশই একে অপরের দিকে মিসাইল ছুড়ছে ক্রমাগত।
এই যুদ্ধে প্রথম থেকেই ইজরায়েলের পাশে দাঁড়িয়েছে আমেরিকা। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইজরায়েল হামলা চালানোর আগে তাঁর সঙ্গে কথা হয়েছিল নেতানিয়াহুর। তবে আমেরিকা এখনই সরাসরি যুদ্ধে ঢুকছে না। হোয়াইট হাউসের দাবি, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তারা সিদ্ধান্ত নেবে, ইরানের বিরুদ্ধে সেনা পাঠাবে কি না।
নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই বলেছেন, 'আমরা ইরানের পরমাণু ঘাঁটি ধ্বংস করবই, আমেরিকা পাশে থাকুক বা না থাকুক।' এদিকে ইরানও বলছে, তারাও চুপ করে বসে থাকবে না। ফলে পরিস্থিতি যে আরও খারাপ হতে চলেছে, সেটা বলার অপেক্ষা রাখে না।