ইরানের বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রের কাছে আমেরিকা ও ইজরায়েলের যৌথ হামলার অভিযোগ। মৃত ১, আহত কয়েকজন। বিকিরণ ঝুঁকি নিয়ে বিশ্বকে সতর্ক করল তেহরান, রাষ্ট্রপুঞ্জে চিঠি।

ফাইল চিত্র
শেষ আপডেট: 5 April 2026 11:26
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ইরানের বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রকে ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল পশ্চিম এশিয়ায়। অভিযোগ, ওই পরমাণুকেন্দ্রের (Bushehr Nuclear Plant) কাছে হামলা চালিয়েছে আমেরিকান ও ইজরায়েলি বায়ুসেনা। তেহরানের দাবি, বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রকে লক্ষ্য করেই এই আক্রমণ চালানো হয়েছে। হামলায় এক জনের মৃত্যু হয়েছে এবং বেশ কয়েক জন আহত হয়েছেন। ঘটনার পরই ‘মারাত্মক বিকিরণ ঝুঁকি’ নিয়ে বিশ্ববাসীকে সতর্ক করেছে ইরান এবং হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান।
এই ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি। তিনি অভিযোগ করেছেন, একটি চালু পরমাণুকেন্দ্রের কাছে এই ধরনের হামলা গোটা অঞ্চলের নিরাপত্তার জন্য ভয়াবহ হুমকি তৈরি করছে।
এর মধ্যেই আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হরমুজ প্রণালী খুলে না দিলে ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলি ধ্বংস করে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। এই সতর্কবার্তার আবহেই বুশেহর পরমাণুকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় হামলার ঘটনা সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক মহলে এই ঘটনাকে ঘিরে উদ্বেগ বাড়ছে।
আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার ডিরেক্টর জেনারেল রাফায়েল মারিয়ানো গ্রোসি এই হামলা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। জানা গিয়েছে, জোরালো বিস্ফোরণে পরমাণুকেন্দ্রের এক নিরাপত্তাকর্মীর মৃত্যু হয়েছে এবং কেন্দ্রের একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে আপাতত তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার কোনও আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা।
তবে ইরানের বিদেশমন্ত্রীর দাবি, আমেরিকা বারবার বুশেহর পরমাণুকেন্দ্রকে টার্গেট করছে। তাঁর কথায়, এই ধরনের হামলা পুরো অঞ্চলকে মারাত্মক তেজস্ক্রিয় দূষণের ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং এর পরিণাম মানবজাতি ও পরিবেশের জন্য ভয়াবহ হতে পারে।
আব্বাস আরাঘচি আরও জানিয়েছেন, বুশেহর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র সংলগ্ন এলাকায় বারবার হামলা চালানো অত্যন্ত উদ্বেগজনক। একটি সক্রিয় পারমাণবিক কেন্দ্রের কাছাকাছি এই ধরনের আক্রমণ তেজস্ক্রিয় পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বাড়াচ্ছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের মহাসচিবের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তাঁর দাবি, ইতিমধ্যেই চার বার এই পরমাণুকেন্দ্রের উপর হামলা চালানো হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি তৈরি করেছে।