পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, ইরানি অপরিশোধিত তেল আমদানিতে কোনও আর্থিক বাধা নেই। পাশাপাশি, সমুদ্রপথে চলাচলকারী তৈলবাহী জাহাজ বাণিজ্যিক বা পরিচালনাগত কারণে মাঝপথেই গন্তব্য বদলাতে পারে (global oil trade dynamics) - এটাও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

ইরান থেকে ভারতে আসা তৈলবাহী জাহাজ পিং শুন
শেষ আপডেট: 4 April 2026 17:43
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ সাত বছর পর ইরান থেকে ভারতে আসা তৈলবাহী জাহাজ 'পেমেন্ট' জটের কারণে মাঝপথ থেকেই চিনের দিকে ঘুরে গিয়েছে (Iran oil shipment India China diversion) - এই জল্পনা সরাসরি খারিজ করল কেন্দ্র। শনিবার কেন্দ্রীয় সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই দাবি “তথ্যগতভাবে ভুল” (Iran oil shipment India payment issue)।
পেট্রোলিয়াম এবং প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রক জানিয়েছে, ইরানি অপরিশোধিত তেল আমদানিতে কোনও আর্থিক বাধা নেই। পাশাপাশি, সমুদ্রপথে চলাচলকারী তৈলবাহী জাহাজ বাণিজ্যিক বা পরিচালনাগত কারণে মাঝপথেই গন্তব্য বদলাতে পারে (global oil trade dynamics) - এটাও স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
কোন ঘটনার জেরে বিতর্ক?
এই বিতর্কের সূত্রপাত একটি নির্দিষ্ট জাহাজকে ঘিরে। শিপ-ট্র্যাকিং সংস্থা 'কেপলার' তথ্যসূত্র অনুযায়ী, পিং শুন নামে একটি আফরাম্যাক্স ট্যাঙ্কার (Ping Shun tanker India Iran oil), যা প্রথমে গুজরাতের ভাদিনারের গন্তব্য হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল, পরে জানা যায় সেটি গন্তব্য পাল্টে চিনের ডংইং বন্দরের গিকে এগোচ্ছে।
জানা গিয়েছিল, এই তৈলবাহী জাহাজ ভারতে এসে পৌঁছলে ২০১৯ সালের পর সাত বছরে প্রথমবার ইরানি তেল আমদানির সূচনা হতে পারে।
‘পেমেন্ট ইস্যু’ দাবি ভ্রান্ত
এই পরিস্থিতিতে সোশ্যাল মিডিয়া ও বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি ওঠে, পেমেন্ট সংক্রান্ত সমস্যার জন্যই জাহাজটির গন্তব্য বদলানো হয়েছে। তবে কেন্দ্র সেই দাবি পুরোপুরি খারিজ করে জানিয়েছে, ভারত ৪০টিরও বেশি দেশ থেকে তেল আমদানি করে এবং তেল সংস্থাগুলির কাছে সরবরাহকারী বেছে নেওয়ার পূর্ণ স্বাধীনতা রয়েছে, যা সম্পূর্ণ বাণিজ্যিক বিবেচনার উপর নির্ভর করে।
সরকার আরও জানিয়েছে, দেশের তেল পরিশোধন সংস্থাগুলি আগামী কয়েক মাসের জন্য পর্যাপ্ত অপরিশোধিত তেলের জোগান নিশ্চিত করে রেখেছে। আরব দুনিয়ায় অস্থিরতা চললেও ভারতের জ্বালানি সরবরাহে কোনও ঘাটতির আশঙ্কা নেই।
কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের ব্যাখ্যা, আন্তর্জাতিক তেল বাণিজ্যে “বিল অফ লেডিং”-এ যে গন্তব্য লেখা থাকে, তা অনেক সময়ই চূড়ান্ত নয়। বাণিজ্যিক সুবিধা বা অপারেশনাল কারণে জাহাজ মাঝপথেই গন্তব্য বদলাতে পারে, এটা স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
আবার কি ইরানি তেল আমদানি শুরু?
এই ঘটনাপ্রবাহের মধ্যেই উঠে এসেছে আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য - ভারতীয় রিফাইনারিগুলি আবার ইরানি তেল কেনার সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে।
সম্প্রতি আমেরিকা একটি ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছে, যার ফলে সমুদ্রে থাকা ইরানি তেলের চালান কেনার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এই ছাড় দেওয়া হয়েছে চলতি মার্কিন-ইজরায়েল-ইরান সংঘাতের প্রেক্ষিতে, যা ইতিমধ্যেই ছয় সপ্তাহ পার করেছে।
অতীতে ইরানি তেলের গুরুত্ব
২০১৮ সালে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা কড়া হওয়ার আগে ভারত ছিল ইরানের অন্যতম বড় তেল ক্রেতা। তখন ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ১১.৫ শতাংশই আসত ইরান থেকে। ২০১৮ সালে দৈনিক প্রায় ৫.১৮ লক্ষ ব্যারেল তেল আমদানি হত। ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে মে-র মধ্যে সীমিত মার্কিন ছাড়ের সময়ে তা কমে দাঁড়ায় ২.৬৮ লক্ষ ব্যারেলে। ২০১৯ সালের মে মাসের পর থেকে কার্যত বন্ধ হয়ে যায় এই আমদানি।
ইরান থেকে আমদানি বন্ধ হওয়ার পর ভারত আরব দুনিয়ার অন্যান্য দেশ, আমেরিকা এবং অন্যান্য উৎপাদক দেশ থেকে তেল সংগ্রহ শুরু করে। মার্চের ২০ তারিখ আমেরিকা যে ৩০ দিনের ছাড় দিয়েছে, তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ১৯ এপ্রিল। এই সময়ের মধ্যেই ভারতসহ বিভিন্ন দেশ পরিস্থিতি অনুযায়ী নিজেদের জ্বালানি কৌশল ঠিক করছে।