দীর্ঘ সাত বছরের খরা কাটিয়ে ভারতে পৌঁছনোর কথা ছিল ইরানি অশোধিত তেলের (Iranian crude oil) প্রথম লট। কিন্তু সেই আশায় আপাতত জল ঢেলে দিয়ে মাঝপথেই গন্তব্য বদলে ফেলল মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা এক বিশাল তৈলবাহী জাহাজ।

আফরাম্যাক্স ভেসেল ‘পিং শুন’
শেষ আপডেট: 3 April 2026 18:41
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দীর্ঘ সাত বছরের খরা কাটিয়ে ভারতে পৌঁছনোর কথা ছিল ইরানি অশোধিত তেলের (Iranian crude oil) প্রথম লট। কিন্তু সেই আশায় আপাতত জল ঢেলে দিয়ে মাঝপথেই গন্তব্য বদলে ফেলল মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে থাকা এক বিশাল তৈলবাহী জাহাজ। জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী, ‘পিং শুন’ নামক ওই আফরাম্যাক্স ভেসেলটি গুজরাতের বদলে এখন চিনের (China) দংইং বন্দরের দিকে এগোচ্ছে। এর ফলে সাত বছর পর ইরানের সঙ্গে ভারতের তেল বাণিজ্য ফের শুরু হওয়ার যে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিল, তা নিয়ে বড়সড় সংশয় দেখা দিল।
শিপিং ডেটা বিশ্লেষক সংস্থা ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েকদিন ধরেই ৬ লক্ষ ব্যারেল ইরানি তেল নিয়ে জাহাজটি গুজরাতের ভাদিনার বন্দরের দিকে আসছিল। ভাদিনারে রোসনেফ্ট সমর্থিত নায়ারা এনার্জির একটি বিশাল শোধনাগার রয়েছে। কিন্তু ভারতের উপকূলে পৌঁছনোর ঠিক আগে, আচমকাই জাহাজটি তার সিগন্যাল বদলে ফেলে এবং গন্তব্য হিসেবে চিনের নাম ঘোষণা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই নাটকীয় পরিবর্তনের নেপথ্যে লজিস্টিক বা যান্ত্রিক কোনও কারণ নেই, বরং দায়ী হতে পারে আর্থিক লেনদেনের সমস্যা। কেপলারের প্রধান বিশ্লেষক সুমিত রিতোলিয়া জানিয়েছেন, বর্তমানে বিক্রেতারা পেমেন্টের ক্ষেত্রে অনেক বেশি কড়াকড়ি করছেন। আগে যেখানে ৩০ থেকে ৬০ দিনের ক্রেডিট বা ধারে তেল পাওয়া যেত, এখন সেখানে বিক্রেতারা অগ্রিম বা দ্রুত পেমেন্ট দাবি করছেন। সম্ভবত সেই সংক্রান্ত কোনও সমঝোতা না হওয়ায় জাহাজটি চিনের দিকে ঘুরে গিয়েছে।
২০১৯ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর নিষেধাজ্ঞার পর থেকে ভারত ইরান থেকে তেল কেনা বন্ধ রেখেছিল। তবে গত মাসে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের আবহে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে ওয়াশিংটন সাময়িকভাবে ৩০ দিনের জন্য একটি ছাড় ঘোষণা করে। সেই ছাড়ের সুযোগ নিয়েই ভারতীয় শোধনাগারগুলি ইরানি তেল আনার তোড়জোড় শুরু করেছিল। এই ছাড়ের মেয়াদ আগামী ১৯ এপ্রিল শেষ হওয়ার কথা।
এক সময় ভারতের মোট আমদানিকৃত তেলের ১১.৫ শতাংশ আসত ইরান থেকে। কিন্তু মার্কিন চাপে ২০১৯-এর মে মাস থেকে সেই আমদানি শূন্যে নেমে আসে। কেন্দ্রীয় পেট্রোলিয়াম মন্ত্রক বরাবরই জানিয়ে আসছে, কারিগরি ও বাণিজ্যিক সুবিধা বিচার করেই ইরান থেকে পুনরায় তেল আমদানির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে রিতোলিয়া এ-ও জানিয়েছেন যে, ইরানি তেলের ক্ষেত্রে মাঝপথে গন্তব্য বদল খুব অস্বাভাবিক নয়। যদি পেমেন্ট সংক্রান্ত জট দ্রুত কেটে যায়, তবে জাহাজটি ফের ভারতের দিকে ঘুরে আসার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।